সংবাদ

গ্যাস সংকটে সড়কে কমছে গাড়ি, বাড়ছে জনদুর্ভোগ


প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৪ এএম

গ্যাস সংকটে সড়কে কমছে গাড়ি, বাড়ছে জনদুর্ভোগ
সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। ছবি : সংবাদ

চট্টগ্রামে আবারও দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। নগরের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদামতো গ্যাস না পাওয়ায় চালক ও যাত্রীদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও ভোগান্তি। অন্যদিকে, গ্যাসের অভাবে সড়কে পর্যাপ্ত গণপরিবহন না থাকায় সিএনজি অটোরিকশা ও বাসে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের নাভিশ্বাস দশা।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, গ্যাস নিতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। চালকদের অভিযোগ, নগরের অনেক সিএনজি স্টেশন বন্ধ রয়েছে। আর যেগুলো খোলা আছে, সেগুলোতেও গ্যাসের চাপ কম থাকায় স্বাভাবিক সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না।

গ্যাস সংকটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অনেক স্টেশনে পর্যাপ্ত জেনারেটর সুবিধা না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন চালকরা।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) থেকে অফিস-আদালত খোলায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে আবারও টান পড়েছে। চট্টগ্রামে দৈনিক ৩৫০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি।

এদিকে গ্যাস সংকটকে পুঁজি করে ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে গত বৃহস্পতিবার নগরের ৩ নম্বর রুটে মিনিবাস চলাচল বন্ধ করে দেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা। সকাল থেকে নিউমার্কেট-মুরাদপুর-বিশ্ববিদ্যালয় রুটে মিনিবাস না চলায় বিপাকে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যেতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। যাত্রীদের অভিযোগ, গত এক মাস ধরে গ্যাস সংকটের অজুহাতে এই রুটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে।

নগরের হামজারবাগ এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত এক মাস ধরে গ্যাস সংকটের কথা বলে ৩ নম্বর রুটে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। ৫ টাকার ভাড়া ১০ টাকা আর ১০ টাকার ভাড়া ১৫ টাকা করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে।’

তবে পরিবহন মালিকদের দাবি, গ্যাস নিতে দীর্ঘ সময় অপচয় হওয়ায় ট্রিপ সংখ্যা কমে গেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে পরিচালনা ব্যয়। এই পরিস্থিতিতে গ্যাসচালিত গণপরিবহনের ভাড়া সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির উপমহাব্যবস্থাপক (বিতরণ) প্রকৌশলী রফিক খান জানান, চট্টগ্রামে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় সিএনজি স্টেশনগুলোতে স্বাভাবিক চাপ দেওয়া যাচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি কবে নাগাদ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গ্যাস সংকটে সড়কে কমছে গাড়ি, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামে আবারও দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। নগরের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদামতো গ্যাস না পাওয়ায় চালক ও যাত্রীদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও ভোগান্তি। অন্যদিকে, গ্যাসের অভাবে সড়কে পর্যাপ্ত গণপরিবহন না থাকায় সিএনজি অটোরিকশা ও বাসে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের নাভিশ্বাস দশা।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, গ্যাস নিতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। চালকদের অভিযোগ, নগরের অনেক সিএনজি স্টেশন বন্ধ রয়েছে। আর যেগুলো খোলা আছে, সেগুলোতেও গ্যাসের চাপ কম থাকায় স্বাভাবিক সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না।

গ্যাস সংকটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অনেক স্টেশনে পর্যাপ্ত জেনারেটর সুবিধা না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন চালকরা।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) থেকে অফিস-আদালত খোলায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে আবারও টান পড়েছে। চট্টগ্রামে দৈনিক ৩৫০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি।

এদিকে গ্যাস সংকটকে পুঁজি করে ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে গত বৃহস্পতিবার নগরের ৩ নম্বর রুটে মিনিবাস চলাচল বন্ধ করে দেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা। সকাল থেকে নিউমার্কেট-মুরাদপুর-বিশ্ববিদ্যালয় রুটে মিনিবাস না চলায় বিপাকে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যেতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। যাত্রীদের অভিযোগ, গত এক মাস ধরে গ্যাস সংকটের অজুহাতে এই রুটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে।

নগরের হামজারবাগ এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত এক মাস ধরে গ্যাস সংকটের কথা বলে ৩ নম্বর রুটে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। ৫ টাকার ভাড়া ১০ টাকা আর ১০ টাকার ভাড়া ১৫ টাকা করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে।’

তবে পরিবহন মালিকদের দাবি, গ্যাস নিতে দীর্ঘ সময় অপচয় হওয়ায় ট্রিপ সংখ্যা কমে গেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে পরিচালনা ব্যয়। এই পরিস্থিতিতে গ্যাসচালিত গণপরিবহনের ভাড়া সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির উপমহাব্যবস্থাপক (বিতরণ) প্রকৌশলী রফিক খান জানান, চট্টগ্রামে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় সিএনজি স্টেশনগুলোতে স্বাভাবিক চাপ দেওয়া যাচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি কবে নাগাদ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত