কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ঘিরে বিনিয়োগের দ্রুত বিস্তারে বিশ্বজুড়ে নতুন করে বিপুল সম্পদ তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাবে ২০২৫ সালে বিশ্বের বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা বেড়ে রেকর্ড ৩ হাজার ৭৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে তাদের সম্মিলিত সম্পদও বেড়ে সর্বোচ্চ ১৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। সম্পদবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আলট্রাটার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা বেড়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি। তাদের মোট সম্পদ বেড়েছে ১২ দশমিক ৮ শতাংশ। এ সম্পদ বৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে এআই খাতে বিনিয়োগের উত্থানকে চিহ্নিত করেছে আলট্রাটা।
এআই ও প্রযুক্তি খাত থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবানদের মধ্যে রয়েছেন গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ, টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক ও অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। এদিকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের মালিক ‘সুপারবিলিয়নিয়ার’-এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ জনে।
ক্রীড়া দলেও বাড়ছে বিনিয়োগ
প্রযুক্তি ব্যবসার পাশাপাশি বিলিয়নিয়ারদের সম্পদের বড় একটি অংশ এখন ক্রীড়া দল, বিলাসবহুল সম্পদ ও জনকল্যাণমূলক কাজে যাচ্ছে। আলট্রাটার হিসাবে, প্রায় ২০১ জন বিলিয়নিয়ার বর্তমানে কোনো না কোনো ক্রীড়া দল বা ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানায় রয়েছেন।
ক্রীড়া দলের মালিকানা শুধু বিনোদন বা বিনিয়োগের বিষয় নয়; এটি সামাজিক মর্যাদা ও প্রভাব বাড়ানোর মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। সম্প্রচারস্বত্ব, স্ট্রিমিং, বেটিং ও স্পনসরশিপ থেকে আয় বাড়ায় ক্রীড়া খাতও ধনীদের কাছে আকর্ষণীয় বিনিয়োগের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি জেফ বেজোসের কনসোর্টিয়াম ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লিভারপুল এফসিতে প্রায় ৪০ শতাংশ অংশীদারত্ব কিনেছে। মাইক্রোসফটের সাবেক প্রধান নির্বাহী স্টিভ বলমার ও নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফটও ক্রীড়া ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন।
আলট্রাটার হিসাবে, গত এক দশকে সুপারইয়ট, বিলাসবহুল ঘড়ি, শিল্পকর্ম ও ক্রীড়া দলের মতো ‘প্যাশন অ্যাসেট’-এর মূল্য গড়ে বছরে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।
সব মিলিয়ে, এআইনির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শুধু নতুন বিলিয়নিয়ার তৈরিই করছে না, বিশ্বের অতি-ধনীদের বিনিয়োগের ধরনও বদলে দিচ্ছে। প্রযুক্তির পাশাপাশি ক্রীড়া, বিলাসবহুল সম্পদ ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ঘিরে বিনিয়োগের দ্রুত বিস্তারে বিশ্বজুড়ে নতুন করে বিপুল সম্পদ তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাবে ২০২৫ সালে বিশ্বের বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা বেড়ে রেকর্ড ৩ হাজার ৭৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে তাদের সম্মিলিত সম্পদও বেড়ে সর্বোচ্চ ১৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। সম্পদবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আলট্রাটার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা বেড়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি। তাদের মোট সম্পদ বেড়েছে ১২ দশমিক ৮ শতাংশ। এ সম্পদ বৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে এআই খাতে বিনিয়োগের উত্থানকে চিহ্নিত করেছে আলট্রাটা।
এআই ও প্রযুক্তি খাত থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবানদের মধ্যে রয়েছেন গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ, টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক ও অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। এদিকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের মালিক ‘সুপারবিলিয়নিয়ার’-এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ জনে।
ক্রীড়া দলেও বাড়ছে বিনিয়োগ
প্রযুক্তি ব্যবসার পাশাপাশি বিলিয়নিয়ারদের সম্পদের বড় একটি অংশ এখন ক্রীড়া দল, বিলাসবহুল সম্পদ ও জনকল্যাণমূলক কাজে যাচ্ছে। আলট্রাটার হিসাবে, প্রায় ২০১ জন বিলিয়নিয়ার বর্তমানে কোনো না কোনো ক্রীড়া দল বা ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানায় রয়েছেন।
ক্রীড়া দলের মালিকানা শুধু বিনোদন বা বিনিয়োগের বিষয় নয়; এটি সামাজিক মর্যাদা ও প্রভাব বাড়ানোর মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। সম্প্রচারস্বত্ব, স্ট্রিমিং, বেটিং ও স্পনসরশিপ থেকে আয় বাড়ায় ক্রীড়া খাতও ধনীদের কাছে আকর্ষণীয় বিনিয়োগের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি জেফ বেজোসের কনসোর্টিয়াম ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লিভারপুল এফসিতে প্রায় ৪০ শতাংশ অংশীদারত্ব কিনেছে। মাইক্রোসফটের সাবেক প্রধান নির্বাহী স্টিভ বলমার ও নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফটও ক্রীড়া ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন।
আলট্রাটার হিসাবে, গত এক দশকে সুপারইয়ট, বিলাসবহুল ঘড়ি, শিল্পকর্ম ও ক্রীড়া দলের মতো ‘প্যাশন অ্যাসেট’-এর মূল্য গড়ে বছরে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।
সব মিলিয়ে, এআইনির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শুধু নতুন বিলিয়নিয়ার তৈরিই করছে না, বিশ্বের অতি-ধনীদের বিনিয়োগের ধরনও বদলে দিচ্ছে। প্রযুক্তির পাশাপাশি ক্রীড়া, বিলাসবহুল সম্পদ ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।

আপনার মতামত লিখুন