কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) পরামর্শকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বিপাকে পড়েছেন তিন পর্বতারোহী। গুগলের এআই চ্যাটবট জেমিনির দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে মাউন্ট শাস্তা অভিযানে গিয়ে পথ হারান তারা। পরে দুর্গম পাহাড়ে রাত কাটানোর পর উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় নিরাপদে নিচে নামতে সক্ষম হন।
তিন পর্বতারোহীর সবাই ক্যালিফোর্নিয়ার রোজভিলের বাসিন্দা। গত ২৯ আগস্ট মাউন্ট শাস্তার ক্লিয়ার ক্রিক ট্রেইলহেড থেকে তাদের যাত্রা শুরু হয়। অভিযানের প্রস্তুতিতে তারা জেমিনির পাশাপাশি ইউটিউব ও অলট্রেইলসের তথ্যও ব্যবহার করেন। পরিকল্পনা ছিল প্রায় আট ঘণ্টার মধ্যে অভিযান শেষ করার।
পরদিন ভোর ৩টার দিকে প্রায় ৮ হাজার ৪০০ ফুট উচ্চতায় স্থাপিত ক্যাম্প থেকে চূড়ার উদ্দেশে রওনা দেন তারা। তবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অভিযান এগোয়নি। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা মাউন্ট শাস্তার চূড়ায় পৌঁছান। অথচ নিরাপত্তার জন্য দুপুর ১২টার মধ্যেই ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
অন্ধকার নেমে যাওয়ার পর চূড়া থেকে নিচে নামতে শুরু করেন তারা। প্রায় এক ঘণ্টা পর পথ নিয়ে সমস্যায় পড়েন। দিকনির্দেশনার জন্য সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়েও যোগাযোগ করেন তারা। কিন্তু পরে নির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে মাড ক্রিক ক্যানিয়নের দিকে চলে যান।
এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। দলের একজন পড়ে গিয়ে হাঁটুতে গুরুতর আঘাত পান। দুর্গম এলাকায় আটকা পড়ে তিনজনকেই রাত পাহাড়ে কাটাতে হয়। দীর্ঘ সময় খাবার ও পানি না থাকায় তারা ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েন।
উদ্ধারের পর জানা যায়, অভিযানের প্রস্তুতির সময় খাবার ও পানির পরিমাণ নির্ধারণেও তারা জেমিনির পরামর্শ নিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এআই তাদের প্রয়োজনের তুলনায় কম খাবার ও পানি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। আট ঘণ্টার মধ্যে শেষ করার কথা থাকা অভিযান দীর্ঘ হওয়ায় সেই ঘাটতি বড় সমস্যায় পরিণত হয়।
পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ইউএস ফরেস্ট সার্ভিসের ক্লাইম্বিং রেঞ্জাররা তিনজনকে খুঁজে পান। আহত পর্বতারোহীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অন্যদেরও খাবার ও পানি সরবরাহ করা হয়। পরে উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে পাহাড় থেকে নামেন তারা।
প্রবল বাতাসের কারণে হেলিকপ্টারে উদ্ধারের দুটি চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছিল। ফলে শেষ পর্যন্ত রেঞ্জার ও উদ্ধারকারীদের সঙ্গে হেঁটেই তাদের ট্রেইলহেডে ফিরিয়ে আনা হয়।
ঘটনাটিকে ‘গুরুতর ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করেছে সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়। ভবিষ্যতে পাহাড়ে অভিযানে যাওয়ার আগে স্থানীয় রেঞ্জারদের কাছ থেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে তারা। একই সঙ্গে শুধু এআইয়ের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর না করার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই বিভিন্ন তথ্য দ্রুত সাজিয়ে দিতে পারলেও দুর্গম পাহাড়ি এলাকার তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি, আবহাওয়া বা পথের ঝুঁকি সব সময় নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন করতে পারে না। তাই পাহাড়, জঙ্গল বা অন্য কোনো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অভিযানের ক্ষেত্রে স্থানীয় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, নির্ভরযোগ্য মানচিত্র ও পর্যাপ্ত জরুরি সরঞ্জামের ওপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) পরামর্শকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বিপাকে পড়েছেন তিন পর্বতারোহী। গুগলের এআই চ্যাটবট জেমিনির দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে মাউন্ট শাস্তা অভিযানে গিয়ে পথ হারান তারা। পরে দুর্গম পাহাড়ে রাত কাটানোর পর উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় নিরাপদে নিচে নামতে সক্ষম হন।
তিন পর্বতারোহীর সবাই ক্যালিফোর্নিয়ার রোজভিলের বাসিন্দা। গত ২৯ আগস্ট মাউন্ট শাস্তার ক্লিয়ার ক্রিক ট্রেইলহেড থেকে তাদের যাত্রা শুরু হয়। অভিযানের প্রস্তুতিতে তারা জেমিনির পাশাপাশি ইউটিউব ও অলট্রেইলসের তথ্যও ব্যবহার করেন। পরিকল্পনা ছিল প্রায় আট ঘণ্টার মধ্যে অভিযান শেষ করার।
পরদিন ভোর ৩টার দিকে প্রায় ৮ হাজার ৪০০ ফুট উচ্চতায় স্থাপিত ক্যাম্প থেকে চূড়ার উদ্দেশে রওনা দেন তারা। তবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অভিযান এগোয়নি। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা মাউন্ট শাস্তার চূড়ায় পৌঁছান। অথচ নিরাপত্তার জন্য দুপুর ১২টার মধ্যেই ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
অন্ধকার নেমে যাওয়ার পর চূড়া থেকে নিচে নামতে শুরু করেন তারা। প্রায় এক ঘণ্টা পর পথ নিয়ে সমস্যায় পড়েন। দিকনির্দেশনার জন্য সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়েও যোগাযোগ করেন তারা। কিন্তু পরে নির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে মাড ক্রিক ক্যানিয়নের দিকে চলে যান।
এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। দলের একজন পড়ে গিয়ে হাঁটুতে গুরুতর আঘাত পান। দুর্গম এলাকায় আটকা পড়ে তিনজনকেই রাত পাহাড়ে কাটাতে হয়। দীর্ঘ সময় খাবার ও পানি না থাকায় তারা ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েন।
উদ্ধারের পর জানা যায়, অভিযানের প্রস্তুতির সময় খাবার ও পানির পরিমাণ নির্ধারণেও তারা জেমিনির পরামর্শ নিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এআই তাদের প্রয়োজনের তুলনায় কম খাবার ও পানি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। আট ঘণ্টার মধ্যে শেষ করার কথা থাকা অভিযান দীর্ঘ হওয়ায় সেই ঘাটতি বড় সমস্যায় পরিণত হয়।
পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ইউএস ফরেস্ট সার্ভিসের ক্লাইম্বিং রেঞ্জাররা তিনজনকে খুঁজে পান। আহত পর্বতারোহীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অন্যদেরও খাবার ও পানি সরবরাহ করা হয়। পরে উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে পাহাড় থেকে নামেন তারা।
প্রবল বাতাসের কারণে হেলিকপ্টারে উদ্ধারের দুটি চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছিল। ফলে শেষ পর্যন্ত রেঞ্জার ও উদ্ধারকারীদের সঙ্গে হেঁটেই তাদের ট্রেইলহেডে ফিরিয়ে আনা হয়।
ঘটনাটিকে ‘গুরুতর ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করেছে সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়। ভবিষ্যতে পাহাড়ে অভিযানে যাওয়ার আগে স্থানীয় রেঞ্জারদের কাছ থেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে তারা। একই সঙ্গে শুধু এআইয়ের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর না করার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই বিভিন্ন তথ্য দ্রুত সাজিয়ে দিতে পারলেও দুর্গম পাহাড়ি এলাকার তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি, আবহাওয়া বা পথের ঝুঁকি সব সময় নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন করতে পারে না। তাই পাহাড়, জঙ্গল বা অন্য কোনো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অভিযানের ক্ষেত্রে স্থানীয় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, নির্ভরযোগ্য মানচিত্র ও পর্যাপ্ত জরুরি সরঞ্জামের ওপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন