মাছ ধরার জালে আটকে আহত হওয়া পেঙ্গুইনের চিকিৎসায় নতুন এক পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন চিলির গবেষকেরা। অস্ত্রোপচারের পর ক্ষত সুরক্ষিত রাখা ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে তামা ও দস্তার ক্ষুদ্র কণা মেশানো বিশেষ পোশাক তৈরি করেছেন তারা।
চিলির কোকিম্বোতে হুমবোল্ট কনজারভেশন সেন্টারে আহত পেঙ্গুইনের ওপর পোশাকটির পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষকদের আশা, অস্ত্রোপচারের পর ক্ষত ঢেকে রাখার পাশাপাশি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতেও এটি সহায়তা করবে।
পেঙ্গুইনের শরীরের গড়নের কথা বিবেচনায় নিয়ে চার পায়ের প্রাণীর জন্য তৈরি তামার বডিস্যুটের আদলে পোশাকটি তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে কাজ করেছে হুমবোল্ট কনজারভেশন সেন্টার, ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব দ্য নর্থ এবং টেক্সটাইল উদ্ভাবনকারী প্রতিষ্ঠান কিম্বা ভেট।
পেঙ্গুইনের অস্ত্রোপচারের ক্ষত ঢেকে রাখা চিকিৎসকদের জন্য বেশ কঠিন। তাদের ঘাড় অত্যন্ত নমনীয় হওয়ায় সহজেই শরীরের বিভিন্ন অংশে পৌঁছাতে পারে। ফলে অস্ত্রোপচারের সেলাই টেনে খুলে ফেলার ঝুঁকি থাকে। এতে ক্ষত আবারও খুলে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন হুমবোল্ট কনজারভেশন সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ও পশুচিকিৎসক টমাস পিনো।
দেখতে পোশাকটি ধাতব হলেও এর ওপর কোনো ধাতব প্রলেপ নেই। লাল কাপড়ের তন্তুর সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে অতি ক্ষুদ্র তামা ও দস্তার কণা।
গবেষকদের মতে, এসব কণা ক্ষতস্থানে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাকসহ ক্ষতিকর জীবাণুর বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি দস্তা নতুন রক্তনালি তৈরিতে সহায়তা করে, যা ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ।
এখন পর্যন্ত পাঁচটি পেঙ্গুইনের ওপর পোশাকটির পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে চারটি মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে আহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব ঘটনার সবচেয়ে সম্ভাব্য কারণ মাছ ধরার জালে আটকে যাওয়া।
কোকিম্বোর সংরক্ষণকেন্দ্রটিতে হুমবোল্ট ও ম্যাগেলানিক-দুই প্রজাতির পেঙ্গুইনই চিকিৎসা ও পুনর্বাসন পায়। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ ইউনিয়নের (আইইউসিএন) তালিকায় হুমবোল্ট পেঙ্গুইনকে ‘ভলনারেবল’ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে রাখা হয়েছে। ম্যাগেলানিক পেঙ্গুইন তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে থাকলেও দুই প্রজাতির সংখ্যাই কমছে।
বিশ্বের শীর্ষ তামা উৎপাদনকারী দেশ চিলিতে বিশ্বের অবশিষ্ট হুমবোল্ট পেঙ্গুইনের প্রায় ৮০ শতাংশের আবাস। তবে দেশটিতে এ প্রজাতির সংখ্যা দ্রুত কমছে। ইউনিভার্সিদাদ দে কনসেপসিওনের বিজ্ঞানীদের হিসাবে, ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে চিলিতে হুমবোল্ট পেঙ্গুইনের সংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজার থাকলেও বর্তমানে তা ২০ হাজারের নিচে নেমে এসেছে।
গবেষকদের মতে, মাছ ধরার জালে আহত পেঙ্গুইনকে দ্রুত চিকিৎসা দিয়ে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন পোশাকটি কার্যকর একটি বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও বেশি পেঙ্গুইনের ওপর পরীক্ষা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মাছ ধরার জালে আটকে আহত হওয়া পেঙ্গুইনের চিকিৎসায় নতুন এক পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন চিলির গবেষকেরা। অস্ত্রোপচারের পর ক্ষত সুরক্ষিত রাখা ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে তামা ও দস্তার ক্ষুদ্র কণা মেশানো বিশেষ পোশাক তৈরি করেছেন তারা।
চিলির কোকিম্বোতে হুমবোল্ট কনজারভেশন সেন্টারে আহত পেঙ্গুইনের ওপর পোশাকটির পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষকদের আশা, অস্ত্রোপচারের পর ক্ষত ঢেকে রাখার পাশাপাশি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতেও এটি সহায়তা করবে।
পেঙ্গুইনের শরীরের গড়নের কথা বিবেচনায় নিয়ে চার পায়ের প্রাণীর জন্য তৈরি তামার বডিস্যুটের আদলে পোশাকটি তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে কাজ করেছে হুমবোল্ট কনজারভেশন সেন্টার, ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব দ্য নর্থ এবং টেক্সটাইল উদ্ভাবনকারী প্রতিষ্ঠান কিম্বা ভেট।
পেঙ্গুইনের অস্ত্রোপচারের ক্ষত ঢেকে রাখা চিকিৎসকদের জন্য বেশ কঠিন। তাদের ঘাড় অত্যন্ত নমনীয় হওয়ায় সহজেই শরীরের বিভিন্ন অংশে পৌঁছাতে পারে। ফলে অস্ত্রোপচারের সেলাই টেনে খুলে ফেলার ঝুঁকি থাকে। এতে ক্ষত আবারও খুলে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন হুমবোল্ট কনজারভেশন সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ও পশুচিকিৎসক টমাস পিনো।
দেখতে পোশাকটি ধাতব হলেও এর ওপর কোনো ধাতব প্রলেপ নেই। লাল কাপড়ের তন্তুর সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে অতি ক্ষুদ্র তামা ও দস্তার কণা।
গবেষকদের মতে, এসব কণা ক্ষতস্থানে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাকসহ ক্ষতিকর জীবাণুর বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি দস্তা নতুন রক্তনালি তৈরিতে সহায়তা করে, যা ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ।
এখন পর্যন্ত পাঁচটি পেঙ্গুইনের ওপর পোশাকটির পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে চারটি মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে আহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব ঘটনার সবচেয়ে সম্ভাব্য কারণ মাছ ধরার জালে আটকে যাওয়া।
কোকিম্বোর সংরক্ষণকেন্দ্রটিতে হুমবোল্ট ও ম্যাগেলানিক-দুই প্রজাতির পেঙ্গুইনই চিকিৎসা ও পুনর্বাসন পায়। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ ইউনিয়নের (আইইউসিএন) তালিকায় হুমবোল্ট পেঙ্গুইনকে ‘ভলনারেবল’ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে রাখা হয়েছে। ম্যাগেলানিক পেঙ্গুইন তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে থাকলেও দুই প্রজাতির সংখ্যাই কমছে।
বিশ্বের শীর্ষ তামা উৎপাদনকারী দেশ চিলিতে বিশ্বের অবশিষ্ট হুমবোল্ট পেঙ্গুইনের প্রায় ৮০ শতাংশের আবাস। তবে দেশটিতে এ প্রজাতির সংখ্যা দ্রুত কমছে। ইউনিভার্সিদাদ দে কনসেপসিওনের বিজ্ঞানীদের হিসাবে, ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে চিলিতে হুমবোল্ট পেঙ্গুইনের সংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজার থাকলেও বর্তমানে তা ২০ হাজারের নিচে নেমে এসেছে।
গবেষকদের মতে, মাছ ধরার জালে আহত পেঙ্গুইনকে দ্রুত চিকিৎসা দিয়ে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন পোশাকটি কার্যকর একটি বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও বেশি পেঙ্গুইনের ওপর পরীক্ষা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন