সংবাদ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮৫ শতাংশ র‌্যানসমওয়্যার হামলা পরিচয়ভিত্তিক: সফোস


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮৫ শতাংশ র‌্যানসমওয়্যার হামলা পরিচয়ভিত্তিক: সফোস
প্রতীকী ছবি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সংঘটিত র‌্যানসমওয়্যার হামলার ৮৫ শতাংশই পরিচয়ভিত্তিক। অর্থাৎ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট বা লগইন তথ্য কাজে লাগিয়ে এসব হামলা চালানো হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সফোসের ‘স্টেট অব র‌্যানসমওয়্যার ইন এডুকেশন ২০২৬’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিকর ই-মেইল, ফিশিং, চুরি করা লগইন তথ্য ও ব্রুট-ফোর্স আক্রমণ পরিচয়ভিত্তিক হামলার প্রধান মাধ্যম। এর মধ্যে ক্ষতিকর ই-মেইল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩১ শতাংশ এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৯ শতাংশ র‌্যানসমওয়্যার হামলার পেছনে ক্ষতিকর ই-মেইলকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

হামলার পর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতেও সময় লাগছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠানকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে এক থেকে তিন মাস সময় লেগেছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের ৩১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের এক মাস বা তার বেশি সময় লেগেছে।

সফোসের প্রধান তথ্যনিরাপত্তা কর্মকর্তা রসম্যাক কারচার বলেন, বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সাইবার হামলার বড় লক্ষ্য। সীমিত সম্পদ, পরিচয় চুরি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার হামলাকে আরও দ্রুত ও জটিল করে তুলছে। তাই হামলা দ্রুত শনাক্ত ও মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫৩ শতাংশ প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও বিশেষজ্ঞের ঘাটতির কথা জানিয়েছে। তবে তথ্য সুরক্ষায় কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। এনক্রিপশনের ব্যবহার ২০২৫ সালের ২৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৬১ শতাংশ হয়েছে। হামলার পর ৭৭ শতাংশ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক এবং ৬৯ শতাংশ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যাকআপ থেকে তথ্য পুনরুদ্ধার করেছে।

র‌্যানসমওয়্যার হামলার আর্থিক ক্ষতিও উল্লেখযোগ্য। প্রতিবেদনে মুক্তিপণের গড় দাবি ৭ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ ডলার এবং তথ্য পুনরুদ্ধারে গড় খরচ ২২ লাখ ৬০ হাজার ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা দলের ওপর মানসিক চাপও বেড়েছে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫৩ শতাংশ এ ধরনের বাড়তি চাপের কথা জানিয়েছে।

সফোস ১৭টি দেশের ২২৬ জন তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের ওপর জানুয়ারি থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। শিক্ষাখাতে র‌্যানসমওয়্যার পরিস্থিতি নিয়ে এটি প্রতিষ্ঠানটির ষষ্ঠ বছরের গবেষণা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮৫ শতাংশ র‌্যানসমওয়্যার হামলা পরিচয়ভিত্তিক: সফোস

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সংঘটিত র‌্যানসমওয়্যার হামলার ৮৫ শতাংশই পরিচয়ভিত্তিক। অর্থাৎ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট বা লগইন তথ্য কাজে লাগিয়ে এসব হামলা চালানো হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সফোসের ‘স্টেট অব র‌্যানসমওয়্যার ইন এডুকেশন ২০২৬’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিকর ই-মেইল, ফিশিং, চুরি করা লগইন তথ্য ও ব্রুট-ফোর্স আক্রমণ পরিচয়ভিত্তিক হামলার প্রধান মাধ্যম। এর মধ্যে ক্ষতিকর ই-মেইল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩১ শতাংশ এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৯ শতাংশ র‌্যানসমওয়্যার হামলার পেছনে ক্ষতিকর ই-মেইলকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

হামলার পর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতেও সময় লাগছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠানকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে এক থেকে তিন মাস সময় লেগেছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের ৩১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের এক মাস বা তার বেশি সময় লেগেছে।

সফোসের প্রধান তথ্যনিরাপত্তা কর্মকর্তা রসম্যাক কারচার বলেন, বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সাইবার হামলার বড় লক্ষ্য। সীমিত সম্পদ, পরিচয় চুরি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার হামলাকে আরও দ্রুত ও জটিল করে তুলছে। তাই হামলা দ্রুত শনাক্ত ও মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫৩ শতাংশ প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও বিশেষজ্ঞের ঘাটতির কথা জানিয়েছে। তবে তথ্য সুরক্ষায় কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। এনক্রিপশনের ব্যবহার ২০২৫ সালের ২৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৬১ শতাংশ হয়েছে। হামলার পর ৭৭ শতাংশ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক এবং ৬৯ শতাংশ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যাকআপ থেকে তথ্য পুনরুদ্ধার করেছে।

র‌্যানসমওয়্যার হামলার আর্থিক ক্ষতিও উল্লেখযোগ্য। প্রতিবেদনে মুক্তিপণের গড় দাবি ৭ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ ডলার এবং তথ্য পুনরুদ্ধারে গড় খরচ ২২ লাখ ৬০ হাজার ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা দলের ওপর মানসিক চাপও বেড়েছে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫৩ শতাংশ এ ধরনের বাড়তি চাপের কথা জানিয়েছে।

সফোস ১৭টি দেশের ২২৬ জন তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের ওপর জানুয়ারি থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। শিক্ষাখাতে র‌্যানসমওয়্যার পরিস্থিতি নিয়ে এটি প্রতিষ্ঠানটির ষষ্ঠ বছরের গবেষণা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত