সংবাদ

২৫ বছর পর বেরিয়ে এলো ৯/১১-এর এক ভয়ঙ্কর সত্য


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১০ পিএম

২৫ বছর পর বেরিয়ে এলো ৯/১১-এর এক ভয়ঙ্কর সত্য
ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর নিউ ইয়র্কের আকাশে যে বিষাক্ত ধোঁয়া ভেসেছিল, তার পুরো সত্যি চাপা দেওয়া হয়েছিল

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর নিউ ইয়র্কের আকাশে যে বিষাক্ত ধোঁয়া ভেসেছিল, তার পুরো সত্যি চাপা দেওয়া হয়েছিল জনগণের কাছে। দীর্ঘ আড়াই দশক পর সেই গোপন নথি প্রকাশ্যে এলো।

নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার ধসে পড়ার পর তৈরি হওয়া তীব্র স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কিত প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার পৃষ্ঠার অপ্রকাশিত নথি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেছেন।

এসব নথি থেকে জানা যায়, হামলার পর সেখানকার বাতাস কতটা ক্ষতিকর ও বিষাক্ত ছিল এবং এই বিপজ্জনক বায়ুর গুণমান সম্পর্কে সরকার সাধারণ মানুষের কাছে সত্য গোপন করেছিল বা তাদের ভুল বুঝিয়ে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিল।

নথি প্রকাশের সময় মেয়র মামদানি বলেন, ‘দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে নিউ ইয়র্কবাসী তৎকালীন নগর প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া নিয়ে যেসব প্রশ্নের উত্তর পাননি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই ঐতিহাসিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’

প্রকাশিত নথির মধ্যে রয়েছে ২০০১ সালের অক্টোবরে তৎকালীন ডেপুটি মেয়র রবার্ট হার্ডিংকে পাঠানো একটি গোপনীয় স্মারকপত্র, যা ‘হার্ডিং মেমো’ নামে পরিচিত। তাতে দেখা যায়, বাতাস বিষাক্ত হওয়া ও সুরক্ষা সরঞ্জাম ত্রুটিপূর্ণ থাকায় শহরের বিরুদ্ধে অন্তত ১০ হাজার আইনি মামলা হতে পারে বলে আগেই আশঙ্কা করেছিলেন নগর কর্মকর্তারা। মামলা ও আর্থিক দায়বদ্ধতা এড়াতে তারা মার্কিন কংগ্রেসের তহবিল ও সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের আবেদনের পরিকল্পনাও করেন।

২০০২ সালের ফেব্রুয়ারির আরেকটি মেমোতে দেখা যায়, প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য জেরি ন্যাডলার ম্যানহাটনের বাতাসে বিপজ্জনক মাত্রায় ‘অ্যাসবেস্টস’ উপস্থিতির যে অভিযোগ তুলেছিলেন, তা প্রকাশ পেলে ব্যাপক জনরোষ সৃষ্টি হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন কর্মকর্তারা।

তৎকালীন মেয়র রুডি জুলিয়ানির বিশেষ উপদেষ্টা এস্টার ফুক্স নথিতে স্বীকার করেন যে, ধূলিকণায় অ্যাসবেস্টসের উপস্থিতি ছিল। অ্যাসবেস্টস ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি এবং ‘মেসোথেলিয়োমা’ নামক বিরল ক্যানসারের জন্য দায়ী। বাসিন্দাদের শুধু ভেজা নেকড়া দিয়ে ঘর পরিষ্কার করার যে পরামর্শ শহর আগে দিয়েছিল, তা অবিলম্বে বন্ধের সুপারিশ করেছিলেন তিনি।

দীর্ঘ দুই দশক ধরে ‘৯/১১ হেলথ ওয়াচ’-সহ বিভিন্ন অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীর আইনি লড়াইয়ের মুখে শেষ পর্যন্ত এসব নথি প্রকাশ করতে বাধ্য হলো সিটি প্রশাসন। বিগত চারটি নগর প্রশাসনকে আমলাতন্ত্র ও আইনি জটিলতায় সত্য চেপে রাখার জন্য দায়ী করে মেয়র মামদানি জানান, আগামী এক বছরে আরও লাখ লাখ পৃষ্ঠা তথ্য প্রকাশ্যে আনা হবে।

বিখ্যাত কৌতুক অভিনেতা ও ভুক্তভোগী অধিকারকর্মী জন স্টুয়ার্ট বলেন, ‘তথ্যগুলো হয়ত পরিবারগুলোর ক্ষতি রুখতে পারত না। তবে ম্যানহাটনে বসবাসকারী আমরা সবাই যে জানতাম মাটিতে ও বাতাসে বিষ ছিল—তা সরকারকে দিয়ে স্বীকার করাতে এই চরম ভোগান্তি পোহাতে হত না।’

যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ (সিডিসি)-এর হিসাবে, ওই হামলায় অন্তত ৪ লাখ মানুষ বিষাক্ত ধূলিকণা ও কেমিক্যালের সংস্পর্শে এসেছিলেন। 

‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার হেলথ প্রোগ্রাম’-এর তথ্য অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বরের মূল ঘটনার পর বিগত ২৫ বছরে বিষাক্ত বাতাস ও পরিবেশগত কারণে তৈরি হওয়া মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৪,৩৪৩ জন মারা গেছেন।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চারটি বিমান ছিনতাই করে নজিরবিহীন সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে দুটি বিমান দিয়ে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের জোড়া টাওয়ার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, যেখানে ঘটনাস্থলেই ২,৭৫৩ জন মারা যান। 

অন্য দুটি বিমানের একটি পেন্টাগনে এবং অপরটি পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হলে সব মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


২৫ বছর পর বেরিয়ে এলো ৯/১১-এর এক ভয়ঙ্কর সত্য

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর নিউ ইয়র্কের আকাশে যে বিষাক্ত ধোঁয়া ভেসেছিল, তার পুরো সত্যি চাপা দেওয়া হয়েছিল জনগণের কাছে। দীর্ঘ আড়াই দশক পর সেই গোপন নথি প্রকাশ্যে এলো।

নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার ধসে পড়ার পর তৈরি হওয়া তীব্র স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কিত প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার পৃষ্ঠার অপ্রকাশিত নথি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেছেন।

এসব নথি থেকে জানা যায়, হামলার পর সেখানকার বাতাস কতটা ক্ষতিকর ও বিষাক্ত ছিল এবং এই বিপজ্জনক বায়ুর গুণমান সম্পর্কে সরকার সাধারণ মানুষের কাছে সত্য গোপন করেছিল বা তাদের ভুল বুঝিয়ে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিল।

নথি প্রকাশের সময় মেয়র মামদানি বলেন, ‘দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে নিউ ইয়র্কবাসী তৎকালীন নগর প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া নিয়ে যেসব প্রশ্নের উত্তর পাননি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই ঐতিহাসিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’

প্রকাশিত নথির মধ্যে রয়েছে ২০০১ সালের অক্টোবরে তৎকালীন ডেপুটি মেয়র রবার্ট হার্ডিংকে পাঠানো একটি গোপনীয় স্মারকপত্র, যা ‘হার্ডিং মেমো’ নামে পরিচিত। তাতে দেখা যায়, বাতাস বিষাক্ত হওয়া ও সুরক্ষা সরঞ্জাম ত্রুটিপূর্ণ থাকায় শহরের বিরুদ্ধে অন্তত ১০ হাজার আইনি মামলা হতে পারে বলে আগেই আশঙ্কা করেছিলেন নগর কর্মকর্তারা। মামলা ও আর্থিক দায়বদ্ধতা এড়াতে তারা মার্কিন কংগ্রেসের তহবিল ও সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের আবেদনের পরিকল্পনাও করেন।

২০০২ সালের ফেব্রুয়ারির আরেকটি মেমোতে দেখা যায়, প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য জেরি ন্যাডলার ম্যানহাটনের বাতাসে বিপজ্জনক মাত্রায় ‘অ্যাসবেস্টস’ উপস্থিতির যে অভিযোগ তুলেছিলেন, তা প্রকাশ পেলে ব্যাপক জনরোষ সৃষ্টি হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন কর্মকর্তারা।

তৎকালীন মেয়র রুডি জুলিয়ানির বিশেষ উপদেষ্টা এস্টার ফুক্স নথিতে স্বীকার করেন যে, ধূলিকণায় অ্যাসবেস্টসের উপস্থিতি ছিল। অ্যাসবেস্টস ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি এবং ‘মেসোথেলিয়োমা’ নামক বিরল ক্যানসারের জন্য দায়ী। বাসিন্দাদের শুধু ভেজা নেকড়া দিয়ে ঘর পরিষ্কার করার যে পরামর্শ শহর আগে দিয়েছিল, তা অবিলম্বে বন্ধের সুপারিশ করেছিলেন তিনি।

দীর্ঘ দুই দশক ধরে ‘৯/১১ হেলথ ওয়াচ’-সহ বিভিন্ন অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীর আইনি লড়াইয়ের মুখে শেষ পর্যন্ত এসব নথি প্রকাশ করতে বাধ্য হলো সিটি প্রশাসন। বিগত চারটি নগর প্রশাসনকে আমলাতন্ত্র ও আইনি জটিলতায় সত্য চেপে রাখার জন্য দায়ী করে মেয়র মামদানি জানান, আগামী এক বছরে আরও লাখ লাখ পৃষ্ঠা তথ্য প্রকাশ্যে আনা হবে।

বিখ্যাত কৌতুক অভিনেতা ও ভুক্তভোগী অধিকারকর্মী জন স্টুয়ার্ট বলেন, ‘তথ্যগুলো হয়ত পরিবারগুলোর ক্ষতি রুখতে পারত না। তবে ম্যানহাটনে বসবাসকারী আমরা সবাই যে জানতাম মাটিতে ও বাতাসে বিষ ছিল—তা সরকারকে দিয়ে স্বীকার করাতে এই চরম ভোগান্তি পোহাতে হত না।’

যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ (সিডিসি)-এর হিসাবে, ওই হামলায় অন্তত ৪ লাখ মানুষ বিষাক্ত ধূলিকণা ও কেমিক্যালের সংস্পর্শে এসেছিলেন। 

‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার হেলথ প্রোগ্রাম’-এর তথ্য অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বরের মূল ঘটনার পর বিগত ২৫ বছরে বিষাক্ত বাতাস ও পরিবেশগত কারণে তৈরি হওয়া মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৪,৩৪৩ জন মারা গেছেন।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চারটি বিমান ছিনতাই করে নজিরবিহীন সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে দুটি বিমান দিয়ে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের জোড়া টাওয়ার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, যেখানে ঘটনাস্থলেই ২,৭৫৩ জন মারা যান। 

অন্য দুটি বিমানের একটি পেন্টাগনে এবং অপরটি পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হলে সব মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত