সংবাদ

ওমানে ইরানের ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের ও জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের হামলা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম

ওমানে ইরানের ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের ও জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের হামলা

ওমান উপসাগর ও খার্গ দ্বীপের কাছে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এর জবাবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া এই পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪৯ ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে।
​যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বিগত দুই দিনে তাদের একটি যুদ্ধজাহাজে ইরান দুই দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা চালায়। তবে মার্কিন জাহাজটি সফলভাবে সেই হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয় এবং সেখানে থাকা কোনো সেনা বা কর্মী হতাহত হননি।
এই ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় থাকা ইরানের পাঁচটি ট্যাংকার—এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন-১, এম/টি রিয়েস্কো এবং এম/টি দেরিয়া—লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। হামলার পূর্বে ট্যাংকারের কর্মীদের সরে যাওয়ার বার্তা দিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। পরবর্তীতে এম/টি রিয়েস্কো ট্যাংকারটি ডুবে যাওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করে সেন্টকম।
​ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের অবস্থান স্পষ্ট করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, "ইরান যতবার মার্কিন নৌজাহাজে হামলা করবে বা হামলার চেষ্টা করবে, ততবারই তাদের একটি করে ট্যাংকার হারাতে হবে।"
​এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি খার্গ দ্বীপ ও ওমান উপসাগরের জাস্ক বন্দরের কাছে ট্যাংকারে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, "ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার একটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে।"
পাশাপাশি মার্কিন নৌবাহিনীর ডিডিজি-১১৯ ও ডিডিজি-৫৩ ডেস্ট্রয়ারসহ আরও দুটি যুদ্ধজাহাজ ও আটটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে তারা, যদিও এ বিষয়ে ওয়াশিংটন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ছুড়ে মারা ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টিই আকাশে ধ্বংস করার দাবি করেছে জর্ডান।
​উপসাগরীয় অঞ্চলের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কুয়েত ও বাহরাইন সীমান্তবর্তী তেলবাহী ট্যাংকারের কর্মীদের দ্রুত স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে আইআরজিসি।
এর আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদোল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, "ইরানের ট্যাংকারে হামলা হলে পুরো অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালাবে তেহরান।"
উল্লেখ্য, প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক তৎপরতার জবাবে তেহরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে এবং বিপরীতে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ওমানে ইরানের ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের ও জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের হামলা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ওমান উপসাগর ও খার্গ দ্বীপের কাছে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এর জবাবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া এই পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪৯ ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে।
​যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বিগত দুই দিনে তাদের একটি যুদ্ধজাহাজে ইরান দুই দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা চালায়। তবে মার্কিন জাহাজটি সফলভাবে সেই হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয় এবং সেখানে থাকা কোনো সেনা বা কর্মী হতাহত হননি।
এই ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় থাকা ইরানের পাঁচটি ট্যাংকার—এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন-১, এম/টি রিয়েস্কো এবং এম/টি দেরিয়া—লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। হামলার পূর্বে ট্যাংকারের কর্মীদের সরে যাওয়ার বার্তা দিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। পরবর্তীতে এম/টি রিয়েস্কো ট্যাংকারটি ডুবে যাওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করে সেন্টকম।
​ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের অবস্থান স্পষ্ট করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, "ইরান যতবার মার্কিন নৌজাহাজে হামলা করবে বা হামলার চেষ্টা করবে, ততবারই তাদের একটি করে ট্যাংকার হারাতে হবে।"
​এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি খার্গ দ্বীপ ও ওমান উপসাগরের জাস্ক বন্দরের কাছে ট্যাংকারে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, "ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার একটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে।"
পাশাপাশি মার্কিন নৌবাহিনীর ডিডিজি-১১৯ ও ডিডিজি-৫৩ ডেস্ট্রয়ারসহ আরও দুটি যুদ্ধজাহাজ ও আটটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে তারা, যদিও এ বিষয়ে ওয়াশিংটন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ছুড়ে মারা ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টিই আকাশে ধ্বংস করার দাবি করেছে জর্ডান।
​উপসাগরীয় অঞ্চলের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কুয়েত ও বাহরাইন সীমান্তবর্তী তেলবাহী ট্যাংকারের কর্মীদের দ্রুত স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে আইআরজিসি।
এর আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদোল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, "ইরানের ট্যাংকারে হামলা হলে পুরো অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালাবে তেহরান।"
উল্লেখ্য, প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক তৎপরতার জবাবে তেহরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে এবং বিপরীতে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত