সংবাদ

শিশুর জন্য মধু কেন বিপজ্জনক হতে পারে?


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম

শিশুর জন্য মধু কেন বিপজ্জনক হতে পারে?

মধু প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে পরিচিত। ঠান্ডা-কাশি থেকে শুরু করে নানা ধরনের ঘরোয়া ব্যবহারে বহুদিন ধরেই মধুর প্রচলন রয়েছে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার নিয়ে বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, এক বছরের কম বয়সী শিশুকে কোনোভাবেই মধু খাওয়ানো উচিত নয়।

কারণ, মধুতে বিরল ক্ষেত্রে ক্লোস্ট্রিডিয়াম বোটুলিনাম ব্যাকটেরিয়ার স্পোর থাকতে পারে। এক বছরের কম বয়সী শিশুর অপরিণত পরিপাকতন্ত্রে এসব স্পোর বেড়ে গিয়ে বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করতে পারে। এর ফলে দেখা দিতে পারে ইনফ্যান্ট বোটুলিজম, যা বিরল হলেও গুরুতর একটি অসুস্থতা।

মধু কেন শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ?

ক্লোস্ট্রিডিয়াম বোটুলিনাম ব্যাকটেরিয়ার স্পোর সাধারণত বড় শিশু ও সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের পরিপাকতন্ত্রে সহজে সমস্যা তৈরি করতে পারে না। কিন্তু এক বছরের কম বয়সী শিশুর অন্ত্র তখনও পুরোপুরি পরিণত হয় না। ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব স্পোর অন্ত্রে বৃদ্ধি পেয়ে নিউরোটক্সিন তৈরি করতে পারে।

এই বিষাক্ত পদার্থ শরীরের পেশি নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে শিশুর খাওয়া, গেলা, নড়াচড়া এমনকি শ্বাস নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজেও।

তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি মধুতেই ক্ষতিকর স্পোর থাকে বা মধু খেলে প্রতিটি শিশুই অসুস্থ হয়ে পড়বে। শিশু বোটুলিজম অত্যন্ত বিরল। কিন্তু যেহেতু এক বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য মধু প্রয়োজনীয় কোনো খাবার নয়, তাই ঝুঁকি এড়াতে এই বয়সে মধু না দেওয়াই নিরাপদ।

কতটা বিরল এই রোগ?

শিশু বোটুলিজম বিরল হলেও এটি নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ রয়েছে। Pediatrics জার্নালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় ২০০৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৮টি দেশে শিশু বোটুলিজমের ২ হাজার ৯৪৩টি নিশ্চিত ঘটনা বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে টাইপ এ ও টাইপ বি বোটুলিনাম টক্সিনের ঘটনাই বেশি ছিল। গবেষকদের মতে, রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা ও রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতা সীমিত থাকায় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া ঘটনাগুলোর চেয়েও বেশি হতে পারে।

যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

ইনফ্যান্ট বোটুলিজমের শুরুতে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। পরে ধীরে ধীরে শিশুর পেশিতে দুর্বলতা তৈরি হতে পারে। সম্ভাব্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

      ·         কোষ্ঠকাঠিন্য

      ·         দুধ বা খাবার খেতে অসুবিধা

      ·         দুর্বলভাবে কান্না করা

      ·         মুখের নড়াচড়া কমে যাওয়া

      ·         চোখের পাতা ঝুলে পড়া

      ·         মাথা ঠিকভাবে ধরে রাখতে না পারা

      ·         গিলতে সমস্যা

      ·         শরীরের পেশিতে অস্বাভাবিক দুর্বলতা

বিষক্রিয়ার প্রভাবে গিলতে ও শ্বাস নিতে ব্যবহৃত পেশিগুলোও দুর্বল হয়ে যেতে পারে। গুরুতর অবস্থায় শিশুর হাসপাতালে চিকিৎসা এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।

কখন দ্রুত চিকিসা নিতে হবে?

শিশুর আচরণ বা শারীরিক অবস্থায় হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে খাওয়াতে সমস্যা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, দুর্বল কান্না, কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে শরীরের শক্তি কমে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এক বছরের কম বয়সী শিশুকে মধু না দেওয়া। মধু যতই প্রাকৃতিক বা উপকারী খাবার হিসেবে পরিচিত হোক, শিশুর ক্ষেত্রে বয়স উপযোগী খাবার বেছে নেওয়া এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শিশুর জন্য মধু কেন বিপজ্জনক হতে পারে?

প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মধু প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে পরিচিত। ঠান্ডা-কাশি থেকে শুরু করে নানা ধরনের ঘরোয়া ব্যবহারে বহুদিন ধরেই মধুর প্রচলন রয়েছে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার নিয়ে বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, এক বছরের কম বয়সী শিশুকে কোনোভাবেই মধু খাওয়ানো উচিত নয়।

কারণ, মধুতে বিরল ক্ষেত্রে ক্লোস্ট্রিডিয়াম বোটুলিনাম ব্যাকটেরিয়ার স্পোর থাকতে পারে। এক বছরের কম বয়সী শিশুর অপরিণত পরিপাকতন্ত্রে এসব স্পোর বেড়ে গিয়ে বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করতে পারে। এর ফলে দেখা দিতে পারে ইনফ্যান্ট বোটুলিজম, যা বিরল হলেও গুরুতর একটি অসুস্থতা।

মধু কেন শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ?

ক্লোস্ট্রিডিয়াম বোটুলিনাম ব্যাকটেরিয়ার স্পোর সাধারণত বড় শিশু ও সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের পরিপাকতন্ত্রে সহজে সমস্যা তৈরি করতে পারে না। কিন্তু এক বছরের কম বয়সী শিশুর অন্ত্র তখনও পুরোপুরি পরিণত হয় না। ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব স্পোর অন্ত্রে বৃদ্ধি পেয়ে নিউরোটক্সিন তৈরি করতে পারে।

এই বিষাক্ত পদার্থ শরীরের পেশি নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে শিশুর খাওয়া, গেলা, নড়াচড়া এমনকি শ্বাস নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজেও।

তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি মধুতেই ক্ষতিকর স্পোর থাকে বা মধু খেলে প্রতিটি শিশুই অসুস্থ হয়ে পড়বে। শিশু বোটুলিজম অত্যন্ত বিরল। কিন্তু যেহেতু এক বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য মধু প্রয়োজনীয় কোনো খাবার নয়, তাই ঝুঁকি এড়াতে এই বয়সে মধু না দেওয়াই নিরাপদ।

কতটা বিরল এই রোগ?

শিশু বোটুলিজম বিরল হলেও এটি নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ রয়েছে। Pediatrics জার্নালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় ২০০৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৮টি দেশে শিশু বোটুলিজমের ২ হাজার ৯৪৩টি নিশ্চিত ঘটনা বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে টাইপ এ ও টাইপ বি বোটুলিনাম টক্সিনের ঘটনাই বেশি ছিল। গবেষকদের মতে, রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা ও রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতা সীমিত থাকায় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া ঘটনাগুলোর চেয়েও বেশি হতে পারে।

যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

ইনফ্যান্ট বোটুলিজমের শুরুতে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। পরে ধীরে ধীরে শিশুর পেশিতে দুর্বলতা তৈরি হতে পারে। সম্ভাব্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

      ·         কোষ্ঠকাঠিন্য

      ·         দুধ বা খাবার খেতে অসুবিধা

      ·         দুর্বলভাবে কান্না করা

      ·         মুখের নড়াচড়া কমে যাওয়া

      ·         চোখের পাতা ঝুলে পড়া

      ·         মাথা ঠিকভাবে ধরে রাখতে না পারা

      ·         গিলতে সমস্যা

      ·         শরীরের পেশিতে অস্বাভাবিক দুর্বলতা

বিষক্রিয়ার প্রভাবে গিলতে ও শ্বাস নিতে ব্যবহৃত পেশিগুলোও দুর্বল হয়ে যেতে পারে। গুরুতর অবস্থায় শিশুর হাসপাতালে চিকিৎসা এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।

কখন দ্রুত চিকিসা নিতে হবে?

শিশুর আচরণ বা শারীরিক অবস্থায় হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে খাওয়াতে সমস্যা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, দুর্বল কান্না, কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে শরীরের শক্তি কমে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এক বছরের কম বয়সী শিশুকে মধু না দেওয়া। মধু যতই প্রাকৃতিক বা উপকারী খাবার হিসেবে পরিচিত হোক, শিশুর ক্ষেত্রে বয়স উপযোগী খাবার বেছে নেওয়া এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত