সংবাদ

প্রতিরোধযোগ্য রোগে হাজার মৃত্যু, দায় এড়ানোর সুযোগ নেই


প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৩ এএম

প্রতিরোধযোগ্য রোগে হাজার মৃত্যু, দায় এড়ানোর সুযোগ নেই

হামে ১৮২ দিনে মারা গেছে ১ হাজার ১৯ জন। মৃতদের প্রায় সবাই শিশু। হাম নিয়ন্ত্রণযোগ্য ও প্রতিরোধযোগ্য রোগ। হাম নিয়ন্ত্রণে একসময় বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এবার পরিস্থিতি এত ভয়াবহ হলো কেন।

সংকটটি হঠাৎ তৈরি হয়নি। ২০২৫ সালের হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি সাত মাস পিছিয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রয়োজনের তুলনায় ৪২ শতাংশ কম টিকা কেনা হয়েছে। টিকা না পাওয়া শিশুর সংখ্যা বাড়ছিল দীর্ঘদিন ধরেই। এ কারণে যে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল তার তথ্য যথাসময়ে বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আগে প্রতিরোধ না করায় পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়েছে।

এপ্রিল-মে মাসে গণটিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হলেও প্রায় ৪০ লাখ শিশু এর বাইরে রয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হামে মারা যাওয়া শিশুদের ৯২ শতাংশ কোনো হামের টিকা পায়নি। টিকা কার্যক্রমে দুর্বলতার কারণে এত শিশুকে প্রাণ দিতে হল কিনা সেই প্রশ্ন উঠেছে।

হাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের সংশ্লিষর্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় ছিল কিনা সেটা জানা দরকার। হাম প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণের কাজের কোন পর্যায়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, কোথায় সতর্কবার্তা উপেক্ষিত হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। দেশের অনেক শিশু কেন টিকা পেল না সেটা খুঁজে দেখতে হবে।

হামে হাজারো শিশুর মৃত্যু দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য একটি সতর্কবার্তা। প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগে এত প্রাণহানি মেনে নেওয়া যায় না। এই ব্যর্থতার কারণ চিহ্নিত করে দায় নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কারও গাফিলতি থাকলে তাদের জবাবদিহি আদায় করতে হবে। টিকাদান ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করাও জরুরি। শুধু জাতীয় ক্যাম্পেইন চালিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


প্রতিরোধযোগ্য রোগে হাজার মৃত্যু, দায় এড়ানোর সুযোগ নেই

প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

হামে ১৮২ দিনে মারা গেছে ১ হাজার ১৯ জন। মৃতদের প্রায় সবাই শিশু। হাম নিয়ন্ত্রণযোগ্য ও প্রতিরোধযোগ্য রোগ। হাম নিয়ন্ত্রণে একসময় বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এবার পরিস্থিতি এত ভয়াবহ হলো কেন।

সংকটটি হঠাৎ তৈরি হয়নি। ২০২৫ সালের হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি সাত মাস পিছিয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রয়োজনের তুলনায় ৪২ শতাংশ কম টিকা কেনা হয়েছে। টিকা না পাওয়া শিশুর সংখ্যা বাড়ছিল দীর্ঘদিন ধরেই। এ কারণে যে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল তার তথ্য যথাসময়ে বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আগে প্রতিরোধ না করায় পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়েছে।

এপ্রিল-মে মাসে গণটিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হলেও প্রায় ৪০ লাখ শিশু এর বাইরে রয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হামে মারা যাওয়া শিশুদের ৯২ শতাংশ কোনো হামের টিকা পায়নি। টিকা কার্যক্রমে দুর্বলতার কারণে এত শিশুকে প্রাণ দিতে হল কিনা সেই প্রশ্ন উঠেছে।

হাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের সংশ্লিষর্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় ছিল কিনা সেটা জানা দরকার। হাম প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণের কাজের কোন পর্যায়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, কোথায় সতর্কবার্তা উপেক্ষিত হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। দেশের অনেক শিশু কেন টিকা পেল না সেটা খুঁজে দেখতে হবে।

হামে হাজারো শিশুর মৃত্যু দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য একটি সতর্কবার্তা। প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগে এত প্রাণহানি মেনে নেওয়া যায় না। এই ব্যর্থতার কারণ চিহ্নিত করে দায় নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কারও গাফিলতি থাকলে তাদের জবাবদিহি আদায় করতে হবে। টিকাদান ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করাও জরুরি। শুধু জাতীয় ক্যাম্পেইন চালিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত