সংবাদ

মত নিয়ন্ত্রণের নয়, সাইবার সুরক্ষার আইন হোক


প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম

মত নিয়ন্ত্রণের নয়, সাইবার সুরক্ষার আইন হোক

সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর খসড়ার কিছু বিধান মানুষের মৌলিক অধিকার, বাক্‌স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এই উদ্বেগ জানিয়েছে। সংস্থাটি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত নিয়ে খসড়াটি নতুন করে সাজানোর আহ্বান জানিয়েছে।

সাইবার অপরাধ দমন ও নাগরিকের তথ্য-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইনের প্রয়োজন রয়েছে। তবে আইনের নামে মানুষের বাক্‌স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সংকুচিত করার সুযোগ থাকা উচিত নয়। সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া নিয়ে টিআইবি যে উদ্বেগ জানিয়েছে তা অমূলক নয়।

খসড়ায় গুজব, অপতথ্য, হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানির মতো ধারণার অস্পষ্ট সংজ্ঞা অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে অজামিনযোগ্য অপরাধের সুযোগ থাকলে তা ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে যৌন হয়রানি ও সেক্সটর্শনের মতো অপরাধের সংজ্ঞা স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত না হলে প্রকৃত অপরাধী যেমন সুবিধা পেতে পারে, তেমনি ভুক্তভোগীর অধিকারও ক্ষুণ্ন হতে পারে।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের গঠন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কাউন্সিলে সরকারি কর্তৃত্বের বাইরে স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব না থাকলে এর সিদ্ধান্ত ও আইনের প্রয়োগ নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়মুক্তির বিধানও পুনর্বিবেচনা করা দরকার।

আমরা এমন কোনো আইন চাই না যা নাগরিকের অধিকার খর্ব করবে। বিশেষজ্ঞ, প্রযুক্তিবিদ, মানবাধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত নিয়ে খসড়াটি নতুন করে পর্যালোচনা করাই শ্রেয়। আইনের লক্ষ্য হতে হবে সাইবার অপরাধ দমন করা, নাগরিকের তথ্য ও নিরাপত্তা রক্ষা করা। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করবে এমন আইন করা হবে সেটাই কাম্য।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মত নিয়ন্ত্রণের নয়, সাইবার সুরক্ষার আইন হোক

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর খসড়ার কিছু বিধান মানুষের মৌলিক অধিকার, বাক্‌স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এই উদ্বেগ জানিয়েছে। সংস্থাটি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত নিয়ে খসড়াটি নতুন করে সাজানোর আহ্বান জানিয়েছে।

সাইবার অপরাধ দমন ও নাগরিকের তথ্য-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইনের প্রয়োজন রয়েছে। তবে আইনের নামে মানুষের বাক্‌স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সংকুচিত করার সুযোগ থাকা উচিত নয়। সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া নিয়ে টিআইবি যে উদ্বেগ জানিয়েছে তা অমূলক নয়।

খসড়ায় গুজব, অপতথ্য, হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানির মতো ধারণার অস্পষ্ট সংজ্ঞা অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে অজামিনযোগ্য অপরাধের সুযোগ থাকলে তা ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে যৌন হয়রানি ও সেক্সটর্শনের মতো অপরাধের সংজ্ঞা স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত না হলে প্রকৃত অপরাধী যেমন সুবিধা পেতে পারে, তেমনি ভুক্তভোগীর অধিকারও ক্ষুণ্ন হতে পারে।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের গঠন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কাউন্সিলে সরকারি কর্তৃত্বের বাইরে স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব না থাকলে এর সিদ্ধান্ত ও আইনের প্রয়োগ নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়মুক্তির বিধানও পুনর্বিবেচনা করা দরকার।

আমরা এমন কোনো আইন চাই না যা নাগরিকের অধিকার খর্ব করবে। বিশেষজ্ঞ, প্রযুক্তিবিদ, মানবাধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত নিয়ে খসড়াটি নতুন করে পর্যালোচনা করাই শ্রেয়। আইনের লক্ষ্য হতে হবে সাইবার অপরাধ দমন করা, নাগরিকের তথ্য ও নিরাপত্তা রক্ষা করা। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করবে এমন আইন করা হবে সেটাই কাম্য।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত