এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে উঠেছে। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু ড্যাশবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরের মধ্যে একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৭ জনে।
মৃত আটজনের মধ্যে ছয়জন নারী এবং দুজন পুরুষ। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃতদের মধ্যে দুজনের বয়স ৬ থেকে ১০ বছরের মধ্যে, একজনের বয়স ১৬ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং বাকিরা প্রাপ্তবয়স্ক। এ নিয়ে মোট ১৫৭ জনের প্রাণহানির তথ্য বিশ্লেষণ করে ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ নারী এবং ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ রয়েছেন।
মৃত্যুর পাশাপাশি রোগী ভর্তির সংখ্যাও সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। সোমবার একদিনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭৩৩ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৫৩ হাজার ৫৭০ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৩৭৫ জন।
মাসভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এ পর্যন্ত শুধু সেপ্টেম্বরেই প্রাণ হারিয়েছেন ৬০ জন, যার মধ্যে গত ৮ সেপ্টেম্বর একদিনে সর্বোচ্চ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
এর আগে জানুয়ারিতে ২, ফেব্রুয়ারিতে ২, মার্চ-এপ্রিলে শূন্য, মে মাসে ১, জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। অন্যদিকে আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন এবং সেপ্টেম্বরের এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার ৯৯১ জন হাসপাতালে ভর্তি হন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সর্বোচ্চ ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৯ এবং সিটি করপোরেশনের বাইরে ৯ জন মারা গেছেন।
বিভাগগুলোর মধ্যে খুলনায় ২৭, চট্টগ্রামে ১৫, ময়মনসিংহে ১৬, বরিশালে ১২, রাজশাহীতে ৬ এবং রংপুর ও সিলেটে ১ জন করে মারা গেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশক নিধন কার্যক্রমে সমন্বিত ও জোরালো পদক্ষেপ না বাড়ালে এই পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে উঠেছে। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু ড্যাশবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরের মধ্যে একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৭ জনে।
মৃত আটজনের মধ্যে ছয়জন নারী এবং দুজন পুরুষ। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃতদের মধ্যে দুজনের বয়স ৬ থেকে ১০ বছরের মধ্যে, একজনের বয়স ১৬ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং বাকিরা প্রাপ্তবয়স্ক। এ নিয়ে মোট ১৫৭ জনের প্রাণহানির তথ্য বিশ্লেষণ করে ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ নারী এবং ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ রয়েছেন।
মৃত্যুর পাশাপাশি রোগী ভর্তির সংখ্যাও সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। সোমবার একদিনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭৩৩ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৫৩ হাজার ৫৭০ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৩৭৫ জন।
মাসভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এ পর্যন্ত শুধু সেপ্টেম্বরেই প্রাণ হারিয়েছেন ৬০ জন, যার মধ্যে গত ৮ সেপ্টেম্বর একদিনে সর্বোচ্চ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
এর আগে জানুয়ারিতে ২, ফেব্রুয়ারিতে ২, মার্চ-এপ্রিলে শূন্য, মে মাসে ১, জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। অন্যদিকে আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন এবং সেপ্টেম্বরের এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার ৯৯১ জন হাসপাতালে ভর্তি হন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সর্বোচ্চ ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৯ এবং সিটি করপোরেশনের বাইরে ৯ জন মারা গেছেন।
বিভাগগুলোর মধ্যে খুলনায় ২৭, চট্টগ্রামে ১৫, ময়মনসিংহে ১৬, বরিশালে ১২, রাজশাহীতে ৬ এবং রংপুর ও সিলেটে ১ জন করে মারা গেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশক নিধন কার্যক্রমে সমন্বিত ও জোরালো পদক্ষেপ না বাড়ালে এই পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন