সংবাদ

সিদ্ধ ডিম ফ্রিজে কতদিন ভালো থাকে, জানুন নিয়ম


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম

সিদ্ধ ডিম ফ্রিজে কতদিন ভালো থাকে, জানুন নিয়ম

সকালের ব্যস্ততায় নাশতা তৈরি সহজ করতে আগেই কয়েকটি ডিম সিদ্ধ করে রাখা বেশ সুবিধাজনক। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ডিম সিদ্ধ হয়ে গেলে সেগুলো কীভাবে সংরক্ষণ করবেন, তা জানা জরুরি। কারণ রান্না করা ডিম ঘরের তাপমাত্রায় দীর্ঘ সময় পড়ে থাকলে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তবে সঠিক নিয়মে সংরক্ষণ করলে বাড়তি সিদ্ধ ডিম ফেলে দেওয়ার দরকার নেই। দ্রুত ঠান্ডা করে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ফ্রিজে রাখলে তা কয়েক দিন নিরাপদে খাওয়া যায়।

রান্নার পর প্রথম দুই ঘণ্টাই গুরুত্বপূর্ণ

সিদ্ধ ডিম রান্না শেষ হওয়ার পর ঘরের তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে তুলে রাখা উচিত। পরিবেশের তাপমাত্রা যদি ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়, তাহলে এই সময় আরও কমে এক ঘণ্টায় নেমে আসে।

এর কারণ, উষ্ণ পরিবেশে সালমোনেলাসহ বিভিন্ন খাদ্যবাহিত জীবাণু দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে। তাই সকালে ডিম সিদ্ধ করে রান্নাঘরে কয়েক ঘণ্টা রেখে দিয়ে পরে ফ্রিজে ঢোকানো নিরাপদ পদ্ধতি নয়। নির্ধারিত সময়ের বেশি বাইরে থাকা ডিম খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো।

ফ্রিজে রাখার সঠিক পদ্ধতি

সিদ্ধ করার পর ডিম দ্রুত ঠান্ডা করে পরিষ্কার ও ঢাকনাযুক্ত পাত্রে রাখা উচিত। যে ফ্রিজে ডিম রাখবেন, তার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকা দরকার।

সম্ভব হলে ডিমের খোসা না ছাড়িয়েই সংরক্ষণ করা ভালো। এতে ডিমের ভেতরের অংশ বাইরের পরিবেশের সরাসরি সংস্পর্শ থেকে তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত থাকে।

ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) ও ইউএসডিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, সিদ্ধ ডিম খোসাসহ অথবা খোসা ছাড়ানো অবস্থায় ফ্রিজে সর্বোচ্চ সাত দিন রাখা যেতে পারে।

আরেকটি বিষয় হলো, ডিম ফ্রিজের দরজায় না রেখে ভেতরের স্থির ঠান্ডা অংশে রাখাই ভালো। দরজা বারবার খোলার কারণে ওই অংশে তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি ওঠানামা করতে পারে।

ডিপ ফ্রিজে রাখার প্রয়োজন নেই

সিদ্ধ ডিম দীর্ঘদিন রাখার আশায় ডিপ ফ্রিজে তুলে রাখার পরামর্শ নেই। ফ্রিজারে সংরক্ষণ করলে ডিমের গঠন বদলে যেতে পারে। বিশেষ করে সাদা অংশ শক্ত বা রাবারের মতো হয়ে স্বাদ ও টেক্সচারে পরিবর্তন আসতে পারে।

তাই সিদ্ধ ডিমের ক্ষেত্রে সাধারণ ফ্রিজের ঠান্ডা অংশই যথেষ্ট। এক সপ্তাহের মধ্যে খেয়ে ফেলার পরিকল্পনা থাকলে আলাদা করে ডিপ ফ্রিজে রাখার প্রয়োজন নেই।

কুসুমে ধূসর দাগ মানেই নষ্ট নয়

ডিম কাটার পর কুসুমের চারপাশে ধূসর বা সবুজাভ রঙের স্তর দেখা গেলে অনেকেই সেটিকে নষ্ট হওয়ার লক্ষণ মনে করেন। কিন্তু সব ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়।

ডিম প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় ধরে বা অতিরিক্ত তাপে সিদ্ধ করলে কুসুমের চারপাশে এ ধরনের রং তৈরি হতে পারে। শুধু এই পরিবর্তন দেখেই ডিম নষ্ট হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার কারণ নেই।

কোন লক্ষণে ডিম ফেলে দেবেন

ফ্রিজে রাখার পরও ডিম খাওয়ার আগে কিছু বিষয় দেখে নেওয়া জরুরি। ডিমে তীব্র বা অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ থাকলে, অতিরিক্ত পিচ্ছিল অনুভূত হলে কিংবা চোখে পড়ার মতো অন্য কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেলে সেটি না খাওয়াই নিরাপদ।

অর্থাৎ একসঙ্গে কয়েকটি ডিম সিদ্ধ করে দু-একটি বেঁচে গেলে দুশ্চিন্তার কারণ নেই। রান্নার পর দ্রুত ঠান্ডা করে দুই ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে রাখতে হবে এবং সাত দিনের মধ্যেই খেয়ে শেষ করতে হবে। এই নিয়ম মানলে আগে থেকে সিদ্ধ করে রাখা ডিমও নিরাপদভাবে নাশতা বা খাবারে ব্যবহার করা যায়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সিদ্ধ ডিম ফ্রিজে কতদিন ভালো থাকে, জানুন নিয়ম

প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সকালের ব্যস্ততায় নাশতা তৈরি সহজ করতে আগেই কয়েকটি ডিম সিদ্ধ করে রাখা বেশ সুবিধাজনক। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ডিম সিদ্ধ হয়ে গেলে সেগুলো কীভাবে সংরক্ষণ করবেন, তা জানা জরুরি। কারণ রান্না করা ডিম ঘরের তাপমাত্রায় দীর্ঘ সময় পড়ে থাকলে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তবে সঠিক নিয়মে সংরক্ষণ করলে বাড়তি সিদ্ধ ডিম ফেলে দেওয়ার দরকার নেই। দ্রুত ঠান্ডা করে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ফ্রিজে রাখলে তা কয়েক দিন নিরাপদে খাওয়া যায়।

রান্নার পর প্রথম দুই ঘণ্টাই গুরুত্বপূর্ণ

সিদ্ধ ডিম রান্না শেষ হওয়ার পর ঘরের তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে তুলে রাখা উচিত। পরিবেশের তাপমাত্রা যদি ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়, তাহলে এই সময় আরও কমে এক ঘণ্টায় নেমে আসে।

এর কারণ, উষ্ণ পরিবেশে সালমোনেলাসহ বিভিন্ন খাদ্যবাহিত জীবাণু দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে। তাই সকালে ডিম সিদ্ধ করে রান্নাঘরে কয়েক ঘণ্টা রেখে দিয়ে পরে ফ্রিজে ঢোকানো নিরাপদ পদ্ধতি নয়। নির্ধারিত সময়ের বেশি বাইরে থাকা ডিম খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো।

ফ্রিজে রাখার সঠিক পদ্ধতি

সিদ্ধ করার পর ডিম দ্রুত ঠান্ডা করে পরিষ্কার ও ঢাকনাযুক্ত পাত্রে রাখা উচিত। যে ফ্রিজে ডিম রাখবেন, তার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকা দরকার।

সম্ভব হলে ডিমের খোসা না ছাড়িয়েই সংরক্ষণ করা ভালো। এতে ডিমের ভেতরের অংশ বাইরের পরিবেশের সরাসরি সংস্পর্শ থেকে তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত থাকে।

ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) ও ইউএসডিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, সিদ্ধ ডিম খোসাসহ অথবা খোসা ছাড়ানো অবস্থায় ফ্রিজে সর্বোচ্চ সাত দিন রাখা যেতে পারে।

আরেকটি বিষয় হলো, ডিম ফ্রিজের দরজায় না রেখে ভেতরের স্থির ঠান্ডা অংশে রাখাই ভালো। দরজা বারবার খোলার কারণে ওই অংশে তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি ওঠানামা করতে পারে।

ডিপ ফ্রিজে রাখার প্রয়োজন নেই

সিদ্ধ ডিম দীর্ঘদিন রাখার আশায় ডিপ ফ্রিজে তুলে রাখার পরামর্শ নেই। ফ্রিজারে সংরক্ষণ করলে ডিমের গঠন বদলে যেতে পারে। বিশেষ করে সাদা অংশ শক্ত বা রাবারের মতো হয়ে স্বাদ ও টেক্সচারে পরিবর্তন আসতে পারে।

তাই সিদ্ধ ডিমের ক্ষেত্রে সাধারণ ফ্রিজের ঠান্ডা অংশই যথেষ্ট। এক সপ্তাহের মধ্যে খেয়ে ফেলার পরিকল্পনা থাকলে আলাদা করে ডিপ ফ্রিজে রাখার প্রয়োজন নেই।

কুসুমে ধূসর দাগ মানেই নষ্ট নয়

ডিম কাটার পর কুসুমের চারপাশে ধূসর বা সবুজাভ রঙের স্তর দেখা গেলে অনেকেই সেটিকে নষ্ট হওয়ার লক্ষণ মনে করেন। কিন্তু সব ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়।

ডিম প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় ধরে বা অতিরিক্ত তাপে সিদ্ধ করলে কুসুমের চারপাশে এ ধরনের রং তৈরি হতে পারে। শুধু এই পরিবর্তন দেখেই ডিম নষ্ট হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার কারণ নেই।

কোন লক্ষণে ডিম ফেলে দেবেন

ফ্রিজে রাখার পরও ডিম খাওয়ার আগে কিছু বিষয় দেখে নেওয়া জরুরি। ডিমে তীব্র বা অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ থাকলে, অতিরিক্ত পিচ্ছিল অনুভূত হলে কিংবা চোখে পড়ার মতো অন্য কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেলে সেটি না খাওয়াই নিরাপদ।

অর্থাৎ একসঙ্গে কয়েকটি ডিম সিদ্ধ করে দু-একটি বেঁচে গেলে দুশ্চিন্তার কারণ নেই। রান্নার পর দ্রুত ঠান্ডা করে দুই ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে রাখতে হবে এবং সাত দিনের মধ্যেই খেয়ে শেষ করতে হবে। এই নিয়ম মানলে আগে থেকে সিদ্ধ করে রাখা ডিমও নিরাপদভাবে নাশতা বা খাবারে ব্যবহার করা যায়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত