সংবাদ

অতিরিক্ত শব্দে ধীরে ধীরে নষ্ট হতে পারে শ্রবণশক্তি


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম

অতিরিক্ত শব্দে ধীরে ধীরে নষ্ট হতে পারে শ্রবণশক্তি

কর্মস্থলে যন্ত্রপাতির বিকট শব্দ, নির্মাণকাজের আওয়াজ কিংবা বিনোদনের সময় উচ্চ শব্দ-এসবকে অনেকেই সাময়িক বিরক্তি হিসেবে দেখেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত শব্দের মধ্যে থাকলে কানের ভেতরের সূক্ষ্ম শ্রবণকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। অতিরিক্ত শব্দের কারণে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়াকে বলা হয় শব্দ-প্ররোচিত শ্রবণশক্তি হ্রাস।

শুধু শিল্পকারখানা বা নির্মাণস্থল নয়, দৈনন্দিন জীবনেও এর উস রয়েছে। উচ্চ শব্দে মাইক বা ব্যক্তিগত স্টেরিও ব্যবহার, ডিস্কো বা কনসার্ট, শুটিংয়ের শব্দ এবং গাড়ির অতিরিক্ত হর্ন-সবই দীর্ঘমেয়াদি শব্দ এক্সপোজারের কারণ হতে পারে।

কানের ভেতরে কী ঘটে

কানের ভেতরের কক্লিয়ায় থাকা হেয়ার সেল বা শ্রবণকোষ শব্দকে স্নায়ুর সংকেতে রূপান্তর করে মস্তিষ্কে পাঠাতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত শক্তিশালী শব্দ বারবার কানে পৌঁছালে এসব কোষের ওপর চাপ পড়ে এবং ধীরে ধীরে ক্ষতি হতে পারে।

শুরুতে অতিরিক্ত শব্দের পর কিছু সময়ের জন্য শুনতে কম পাওয়া বা কানে ঝিঁঝিঁ করার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। একে অস্থায়ী থ্রেশহোল্ড শিফট বা টিটিএস বলা হয়। শব্দের সংস্পর্শ অব্যাহত থাকলে ক্ষতি স্থায়ী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যাকে স্থায়ী থ্রেশহোল্ড শিফট বা পিটিএস বলা হয়।

শ্রবণকোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এগুলো সহজে পুনরুদ্ধার হয় না। ফলে দীর্ঘদিনের শব্দ এক্সপোজার ধীরে ধীরে স্থায়ী শ্রবণশক্তি হ্রাসের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

প্রথমে বোঝা কঠিন হতে পারে

শব্দজনিত শ্রবণশক্তি হ্রাস সবসময় হঠা করে দেখা দেয় না। অনেক ক্ষেত্রে এটি ধীরে ধীরে তৈরি হয়। ফলে শুরুতে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেই বিষয়টি বুঝতে পারেন না।

কথাবার্তা শুনতে বা বুঝতে সমস্যা হওয়া, বিশেষ করে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে অন্যের কথা স্পষ্টভাবে ধরতে না পারা-এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কানে ঝিঁঝিঁ বা ভোঁ ভোঁ শব্দও থাকতে পারে।

এ ক্ষেত্রে কানের পর্দা বাইরে থেকে স্বাভাবিক দেখালেও ভেতরের শ্রবণকোষের ক্ষতি থাকতে পারে। তাই শ্রবণশক্তি নিয়ে সন্দেহ হলে শুধু কানের পর্দা পরীক্ষা করলেই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রবণ পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।

কারা বেশি ঝুঁকিতে

যারা নিয়মিত উচ্চ শব্দের পরিবেশে কাজ করেন, তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। কারখানা, নির্মাণকাজ কিংবা উচ্চ শব্দের যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের দীর্ঘ সময় শব্দের মধ্যে থাকতে হয়।

অন্যদিকে বিনোদনের ক্ষেত্রেও সচেতন থাকা দরকার। দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দে গান শোনা, ব্যক্তিগত স্টেরিওর ভলিউম বেশি রাখা, কনসার্ট বা ডিস্কোর মতো জায়গায় থাকা এবং শুটিংয়ের মতো কর্মকাণ্ড থেকেও শ্রবণশক্তির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।

শব্দের তীব্রতা যত বেশি এবং এক্সপোজারের সময় যত দীর্ঘ, ঝুঁকিও তত বাড়ে। কর্মক্ষেত্রে শব্দের মাত্রা ও কর্মঘণ্টা বিবেচনা করে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া তাই গুরুত্বপূর্ণ।

সুরক্ষায় যা করবেন

অতিরিক্ত শব্দের পরিবেশ এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধের একটি উপায়। কর্মক্ষেত্রে উচ্চ শব্দ এড়ানো সম্ভব না হলে উপযুক্ত ইয়ারপ্লাগ বা ইয়ারমাফ ব্যবহার করা যেতে পারে।

শুধু সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করলেই হবে না; সম্ভব হলে শব্দের উৎস থেকে দূরত্ব বাড়ানো এবং উচ্চ শব্দের মধ্যে থাকার সময় কমানোও জরুরি। ব্যক্তিগত ডিভাইসে গান শোনার সময় অতিরিক্ত ভলিউম ব্যবহার না করাও শ্রবণশক্তি সুরক্ষায় সহায়ক।

গাড়ির অপ্রয়োজনীয় হর্ন, অতিরিক্ত মাইক ও অন্যান্য শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সরকারি বিধিমালা ও তার বাস্তবায়নও প্রয়োজন।

উচ্চ শব্দের পর বারবার কানে ঝিঁঝিঁ করা, শুনতে কম পাওয়া বা কথাবার্তা বুঝতে সমস্যা হলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসক বা শ্রবণস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ শব্দজনিত শ্রবণশক্তির ক্ষতি ধীরে ধীরে বাড়তে পারে এবং একবার স্থায়ী ক্ষতি হলে তা ফিরিয়ে আনা কঠিন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অতিরিক্ত শব্দে ধীরে ধীরে নষ্ট হতে পারে শ্রবণশক্তি

প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কর্মস্থলে যন্ত্রপাতির বিকট শব্দ, নির্মাণকাজের আওয়াজ কিংবা বিনোদনের সময় উচ্চ শব্দ-এসবকে অনেকেই সাময়িক বিরক্তি হিসেবে দেখেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত শব্দের মধ্যে থাকলে কানের ভেতরের সূক্ষ্ম শ্রবণকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। অতিরিক্ত শব্দের কারণে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়াকে বলা হয় শব্দ-প্ররোচিত শ্রবণশক্তি হ্রাস।

শুধু শিল্পকারখানা বা নির্মাণস্থল নয়, দৈনন্দিন জীবনেও এর উস রয়েছে। উচ্চ শব্দে মাইক বা ব্যক্তিগত স্টেরিও ব্যবহার, ডিস্কো বা কনসার্ট, শুটিংয়ের শব্দ এবং গাড়ির অতিরিক্ত হর্ন-সবই দীর্ঘমেয়াদি শব্দ এক্সপোজারের কারণ হতে পারে।

কানের ভেতরে কী ঘটে

কানের ভেতরের কক্লিয়ায় থাকা হেয়ার সেল বা শ্রবণকোষ শব্দকে স্নায়ুর সংকেতে রূপান্তর করে মস্তিষ্কে পাঠাতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত শক্তিশালী শব্দ বারবার কানে পৌঁছালে এসব কোষের ওপর চাপ পড়ে এবং ধীরে ধীরে ক্ষতি হতে পারে।

শুরুতে অতিরিক্ত শব্দের পর কিছু সময়ের জন্য শুনতে কম পাওয়া বা কানে ঝিঁঝিঁ করার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। একে অস্থায়ী থ্রেশহোল্ড শিফট বা টিটিএস বলা হয়। শব্দের সংস্পর্শ অব্যাহত থাকলে ক্ষতি স্থায়ী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যাকে স্থায়ী থ্রেশহোল্ড শিফট বা পিটিএস বলা হয়।

শ্রবণকোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এগুলো সহজে পুনরুদ্ধার হয় না। ফলে দীর্ঘদিনের শব্দ এক্সপোজার ধীরে ধীরে স্থায়ী শ্রবণশক্তি হ্রাসের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

প্রথমে বোঝা কঠিন হতে পারে

শব্দজনিত শ্রবণশক্তি হ্রাস সবসময় হঠা করে দেখা দেয় না। অনেক ক্ষেত্রে এটি ধীরে ধীরে তৈরি হয়। ফলে শুরুতে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেই বিষয়টি বুঝতে পারেন না।

কথাবার্তা শুনতে বা বুঝতে সমস্যা হওয়া, বিশেষ করে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে অন্যের কথা স্পষ্টভাবে ধরতে না পারা-এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কানে ঝিঁঝিঁ বা ভোঁ ভোঁ শব্দও থাকতে পারে।

এ ক্ষেত্রে কানের পর্দা বাইরে থেকে স্বাভাবিক দেখালেও ভেতরের শ্রবণকোষের ক্ষতি থাকতে পারে। তাই শ্রবণশক্তি নিয়ে সন্দেহ হলে শুধু কানের পর্দা পরীক্ষা করলেই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রবণ পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।

কারা বেশি ঝুঁকিতে

যারা নিয়মিত উচ্চ শব্দের পরিবেশে কাজ করেন, তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। কারখানা, নির্মাণকাজ কিংবা উচ্চ শব্দের যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের দীর্ঘ সময় শব্দের মধ্যে থাকতে হয়।

অন্যদিকে বিনোদনের ক্ষেত্রেও সচেতন থাকা দরকার। দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দে গান শোনা, ব্যক্তিগত স্টেরিওর ভলিউম বেশি রাখা, কনসার্ট বা ডিস্কোর মতো জায়গায় থাকা এবং শুটিংয়ের মতো কর্মকাণ্ড থেকেও শ্রবণশক্তির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।

শব্দের তীব্রতা যত বেশি এবং এক্সপোজারের সময় যত দীর্ঘ, ঝুঁকিও তত বাড়ে। কর্মক্ষেত্রে শব্দের মাত্রা ও কর্মঘণ্টা বিবেচনা করে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া তাই গুরুত্বপূর্ণ।

সুরক্ষায় যা করবেন

অতিরিক্ত শব্দের পরিবেশ এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধের একটি উপায়। কর্মক্ষেত্রে উচ্চ শব্দ এড়ানো সম্ভব না হলে উপযুক্ত ইয়ারপ্লাগ বা ইয়ারমাফ ব্যবহার করা যেতে পারে।

শুধু সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করলেই হবে না; সম্ভব হলে শব্দের উৎস থেকে দূরত্ব বাড়ানো এবং উচ্চ শব্দের মধ্যে থাকার সময় কমানোও জরুরি। ব্যক্তিগত ডিভাইসে গান শোনার সময় অতিরিক্ত ভলিউম ব্যবহার না করাও শ্রবণশক্তি সুরক্ষায় সহায়ক।

গাড়ির অপ্রয়োজনীয় হর্ন, অতিরিক্ত মাইক ও অন্যান্য শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সরকারি বিধিমালা ও তার বাস্তবায়নও প্রয়োজন।

উচ্চ শব্দের পর বারবার কানে ঝিঁঝিঁ করা, শুনতে কম পাওয়া বা কথাবার্তা বুঝতে সমস্যা হলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসক বা শ্রবণস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ শব্দজনিত শ্রবণশক্তির ক্ষতি ধীরে ধীরে বাড়তে পারে এবং একবার স্থায়ী ক্ষতি হলে তা ফিরিয়ে আনা কঠিন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত