নীরব পরিবেশে বসে আছেন, হঠাৎ পেটের ভেতর থেকে ভেসে এল গড়গড় শব্দ। আশপাশের মানুষ শুনে ফেলবে কি না, তা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়া স্বাভাবিক। অনেকেই এমন শব্দকে সরাসরি ক্ষুধার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। কিন্তু পেটের এই শব্দের পেছনে সবসময় খাবারের প্রয়োজনীয়তা কাজ করে না। বরং পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের কারণেও নিয়মিত এমন শব্দ হতে পারে।
খাবার এগিয়ে নেয় যে প্রক্রিয়া
খাবার খাওয়ার পর সেটি পাকস্থলী
থেকে ধীরে ধীরে অন্ত্রের দিকে যেতে থাকে। এই চলাচলের পেছনে কাজ করে পরিপাকতন্ত্রের
পেশির ধারাবাহিক সংকোচন ও প্রসারণ। এই প্রক্রিয়ার নাম পেরিস্টালসিস।
খাবার, তরল এবং অন্ত্রে থাকা
গ্যাস যখন এই নড়াচড়ার মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায়, তখনই তৈরি হতে পারে গড়গড়
বা গুড়গুড় শব্দ। ফলে খাবার খাওয়ার পর পেট থেকে শব্দ শোনা গেলেও সেটিকে অস্বাভাবিক
ঘটনা হিসেবে দেখার কারণ নেই।
খালি পেটে শব্দ কেন বেশি শোনা
যায়
খালি পেটে অনেক সময় শব্দটি তুলনামূলক
জোরে শোনা যায়। এর কারণ, তখন পাকস্থলী ও অন্ত্রে খাবারের উপস্থিতি কম থাকায় ভেতরের
শব্দ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অন্ত্রের পেশির নড়াচড়া এবং গ্যাস
ও তরলের চলাচল তখন সহজেই শব্দ তৈরি করতে পারে। এ কারণেই পেট থেকে শব্দ হলেই শরীর খাবার
চাইছে-এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।
বাতাস ও খাবারও দায়ী হতে পারে
খাবার গ্রহণের সময় অল্প পরিমাণ
বাতাস গিলে ফেলা স্বাভাবিক। তবে দ্রুত খাওয়ার অভ্যাস, খাওয়ার সময় বেশি কথা বলা, চুইংগাম
চিবানো কিংবা কার্বনেটেড পানীয় পান করলে শরীরে প্রবেশ করা বাতাসের পরিমাণ বেড়ে যেতে
পারে।
এ ছাড়া অন্ত্রে কিছু খাবার ব্যাকটেরিয়ার
মাধ্যমে ভাঙার সময় গ্যাস উৎপন্ন হয়। সেই গ্যাস তরলের সঙ্গে অন্ত্রে চলাচল করার সময়ও
পেট থেকে শব্দ হতে পারে। ডাল, কিছু সবজি, আঁশসমৃদ্ধ খাবার ও কোমল পানীয় অনেকের ক্ষেত্রে
গ্যাস বাড়াতে পারে।
হজমের গোলমালেও বদলাতে পারে শব্দ
খাদ্যাভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন,
একসঙ্গে বেশি খাবার খাওয়া, বদহজম কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যার প্রভাবও অন্ত্রের
স্বাভাবিক গতিশীলতায় পড়তে পারে। এর ফলে পেটের শব্দ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি শোনা
যেতে পারে।
তবে শুধু গড়গড় শব্দ হচ্ছে বলে
দুশ্চিন্তার কারণ নেই। অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ না থাকলে এটি সাধারণত পরিপাকতন্ত্রের
স্বাভাবিক কাজেরই অংশ।
শব্দের সঙ্গে এসব উপসর্গ থাকলে
সতর্ক
পেটের শব্দের পাশাপাশি যদি তীব্র
বা দীর্ঘস্থায়ী পেটব্যথা, বারবার বমি, দীর্ঘদিন ডায়রিয়া, অতিরিক্ত পেট ফাঁপা কিংবা
মলত্যাগে সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথার সঙ্গে
পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠা এবং একই সময়ে গ্যাস বা মলত্যাগ বন্ধ হয়ে গেলে বিষয়টি জরুরি
ভিত্তিতে দেখা প্রয়োজন।
পেট ভালো রাখতে যা করতে পারেন
পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম
বজায় রাখতে খাবার ধীরে খাওয়া এবং ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো। পর্যাপ্ত
পানি পান করার পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চাও উপকারী।
কোনো নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার
পর নিয়মিত গ্যাস বা পেটের অস্বস্তি বাড়ছে কি না, সেটিও লক্ষ্য রাখা যেতে পারে। নিজের
খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে এ ধরনের পর্যবেক্ষণ পেটের অস্বস্তির সম্ভাব্য কারণ বুঝতে সাহায্য
করতে পারে।
তাই হঠাৎ পেট গড়গড় করলেই ক্ষুধার
সংকেত ধরে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। অনেক সময় এই শব্দের মাধ্যমে শরীর আসলে জানাচ্ছে, পরিপাকতন্ত্র
তার স্বাভাবিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নীরব পরিবেশে বসে আছেন, হঠাৎ পেটের ভেতর থেকে ভেসে এল গড়গড় শব্দ। আশপাশের মানুষ শুনে ফেলবে কি না, তা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়া স্বাভাবিক। অনেকেই এমন শব্দকে সরাসরি ক্ষুধার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। কিন্তু পেটের এই শব্দের পেছনে সবসময় খাবারের প্রয়োজনীয়তা কাজ করে না। বরং পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের কারণেও নিয়মিত এমন শব্দ হতে পারে।
খাবার এগিয়ে নেয় যে প্রক্রিয়া
খাবার খাওয়ার পর সেটি পাকস্থলী
থেকে ধীরে ধীরে অন্ত্রের দিকে যেতে থাকে। এই চলাচলের পেছনে কাজ করে পরিপাকতন্ত্রের
পেশির ধারাবাহিক সংকোচন ও প্রসারণ। এই প্রক্রিয়ার নাম পেরিস্টালসিস।
খাবার, তরল এবং অন্ত্রে থাকা
গ্যাস যখন এই নড়াচড়ার মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায়, তখনই তৈরি হতে পারে গড়গড়
বা গুড়গুড় শব্দ। ফলে খাবার খাওয়ার পর পেট থেকে শব্দ শোনা গেলেও সেটিকে অস্বাভাবিক
ঘটনা হিসেবে দেখার কারণ নেই।
খালি পেটে শব্দ কেন বেশি শোনা
যায়
খালি পেটে অনেক সময় শব্দটি তুলনামূলক
জোরে শোনা যায়। এর কারণ, তখন পাকস্থলী ও অন্ত্রে খাবারের উপস্থিতি কম থাকায় ভেতরের
শব্দ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অন্ত্রের পেশির নড়াচড়া এবং গ্যাস
ও তরলের চলাচল তখন সহজেই শব্দ তৈরি করতে পারে। এ কারণেই পেট থেকে শব্দ হলেই শরীর খাবার
চাইছে-এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।
বাতাস ও খাবারও দায়ী হতে পারে
খাবার গ্রহণের সময় অল্প পরিমাণ
বাতাস গিলে ফেলা স্বাভাবিক। তবে দ্রুত খাওয়ার অভ্যাস, খাওয়ার সময় বেশি কথা বলা, চুইংগাম
চিবানো কিংবা কার্বনেটেড পানীয় পান করলে শরীরে প্রবেশ করা বাতাসের পরিমাণ বেড়ে যেতে
পারে।
এ ছাড়া অন্ত্রে কিছু খাবার ব্যাকটেরিয়ার
মাধ্যমে ভাঙার সময় গ্যাস উৎপন্ন হয়। সেই গ্যাস তরলের সঙ্গে অন্ত্রে চলাচল করার সময়ও
পেট থেকে শব্দ হতে পারে। ডাল, কিছু সবজি, আঁশসমৃদ্ধ খাবার ও কোমল পানীয় অনেকের ক্ষেত্রে
গ্যাস বাড়াতে পারে।
হজমের গোলমালেও বদলাতে পারে শব্দ
খাদ্যাভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন,
একসঙ্গে বেশি খাবার খাওয়া, বদহজম কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যার প্রভাবও অন্ত্রের
স্বাভাবিক গতিশীলতায় পড়তে পারে। এর ফলে পেটের শব্দ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি শোনা
যেতে পারে।
তবে শুধু গড়গড় শব্দ হচ্ছে বলে
দুশ্চিন্তার কারণ নেই। অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ না থাকলে এটি সাধারণত পরিপাকতন্ত্রের
স্বাভাবিক কাজেরই অংশ।
শব্দের সঙ্গে এসব উপসর্গ থাকলে
সতর্ক
পেটের শব্দের পাশাপাশি যদি তীব্র
বা দীর্ঘস্থায়ী পেটব্যথা, বারবার বমি, দীর্ঘদিন ডায়রিয়া, অতিরিক্ত পেট ফাঁপা কিংবা
মলত্যাগে সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথার সঙ্গে
পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠা এবং একই সময়ে গ্যাস বা মলত্যাগ বন্ধ হয়ে গেলে বিষয়টি জরুরি
ভিত্তিতে দেখা প্রয়োজন।
পেট ভালো রাখতে যা করতে পারেন
পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম
বজায় রাখতে খাবার ধীরে খাওয়া এবং ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো। পর্যাপ্ত
পানি পান করার পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চাও উপকারী।
কোনো নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার
পর নিয়মিত গ্যাস বা পেটের অস্বস্তি বাড়ছে কি না, সেটিও লক্ষ্য রাখা যেতে পারে। নিজের
খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে এ ধরনের পর্যবেক্ষণ পেটের অস্বস্তির সম্ভাব্য কারণ বুঝতে সাহায্য
করতে পারে।
তাই হঠাৎ পেট গড়গড় করলেই ক্ষুধার
সংকেত ধরে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। অনেক সময় এই শব্দের মাধ্যমে শরীর আসলে জানাচ্ছে, পরিপাকতন্ত্র
তার স্বাভাবিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন