সংবাদ

চোখের সামনে কালো ছায়া দেখছেন? হতে পারে যে রোগের লক্ষণ


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম

চোখের সামনে কালো ছায়া দেখছেন? হতে পারে যে রোগের লক্ষণ

চোখের সামনে হঠা কালো বা গোল কোনো ছায়া ভাসতে দেখা, অথচ আশপাশের দৃশ্য মোটামুটি পরিষ্কার-বিষয়টি অনেকেই সাময়িক সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এমন উপসর্গ চোখের অত্যন্ত সংবেদনশীল অংশে তরল জমার কারণে হতে পারে। চিকিসাবিজ্ঞানে এ সমস্যাকে বলা হয় সেন্ট্রাল সেরাস কোরিওরেটিনোপ্যাথি (Central Serous Chorioretinopathy) সংক্ষেপে এটি সিএসসিআর বা সিএসআর নামে পরিচিত।

চোখের কোন অংশে সমস্যা হয়

চোখের পেছনে থাকা রেটিনা আমাদের দেখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রেটিনার মাঝখানের বিশেষ সংবেদনশীল অংশটির নাম ম্যাকুলা। এর কেন্দ্রের আরও ছোট অংশ হলো ফোভিয়া। কোনো বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা, তার আকার ও রং বোঝার ক্ষেত্রে এই অংশগুলোর ভূমিকা রয়েছে।

ম্যাকুলার আশপাশে থাকা রক্তনালিগুলো থেকে কোনো কারণে তরল বের হয়ে রেটিনার নিচে জমে গেলে স্বাভাবিক দৃষ্টিতে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তরল জমার ফলে ম্যাকুলা সামান্য ফুলে বা রেটিনা তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে কিছুটা উঁচু হয়ে যেতে পারে। তখন দৃষ্টিতে ঝাপসা ভাব বা কালো ছায়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

প্রধান লক্ষণ কী

সিএসআরের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো ব্যথাহীনভাবে দৃষ্টির মাঝখানে ঝাপসা বা কালো গোল ছায়া দেখা অনেক সময় একটি চোখেই সমস্যা বেশি হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে দুই চোখেও এর প্রভাব দেখা দিতে পারে।

দৃষ্টির কেন্দ্রের কোনো অংশ অস্পষ্ট লাগা বা স্বাভাবিকভাবে কোনো কিছু দেখতে অসুবিধা হলে বিষয়টি অবহেলা না করাই ভালো।

কেন হয়, কারা ঝুঁকিতে

এই রোগের সুনির্দিষ্ট কারণ সব ক্ষেত্রে জানা যায় না। তবে কিছু বিষয় এর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— 

        ·         অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা উদ্বেগ

        ·         দীর্ঘ সময় ঘুমের ঘাটতি

        ·         অতিরিক্ত শারীরিক বা মানসিক পরিশ্রম

        ·         দীর্ঘদিন স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ ব্যবহার

        ·         অতিরিক্ত ধূমপান বা মদ্যপান

        ·         ডায়াবেটিস

বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ও অনিয়মিত জীবনযাপন থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অনেক ক্ষেত্রে নিজে থেকেই কমে যায়

সিএসআরের ক্ষেত্রে চোখের সংবেদনশীল অংশের নিচে জমে থাকা তরল অনেক সময় ধীরে ধীরে শরীর নিজেই শোষণ করে নেয়। নতুন করে তরল জমা বা লিকেজ না হলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দৃষ্টির সমস্যা কমে আসতে পারে। তবে সুস্থ হতে সময় লাগতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রায় দুই মাসও সময় প্রয়োজন হতে পারে।

তাই রোগ ধরা পড়লে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যবেক্ষণে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মানসিক চাপ কমানো, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি।

কখন লেজার বা অন্য চিকিৎসা প্রয়োজন

যদি দীর্ঘ সময়েও সমস্যা না কমে, অস্বস্তি বেশি হয় বা চিকিৎসকের কাছে প্রয়োজন মনে হয়, তাহলে চোখের বিভিন্ন পরীক্ষা করা হতে পারে। অ্যানজিওগ্রাফি ও ওসিটি (OCT) পরীক্ষার মাধ্যমে তরল কোথা থেকে বের হচ্ছে বা কোথায় জমেছে, তা শনাক্ত করা যায়।

পরিস্থিতি অনুযায়ী লিকেজের নির্দিষ্ট স্থানে কম-তাপমাত্রার লেজার চিকিৎসা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টি-ভিইজিএফ (Anti-VEGF) ইনজেকশনও ব্যবহার করা হয়।

একবার সেরে গেলেও আবার হতে পারে

চোখের জমে থাকা তরল শুকিয়ে যাওয়ার পর দৃষ্টির সমস্যা ভালো হয়ে গেলেও ভবিষ্যতে সিএসআর আবার দেখা দিতে পারে। তাই শুধু উপসর্গ চলে গেলেই বিষয়টি পুরোপুরি ভুলে যাওয়া ঠিক নয়।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান ও অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস এড়িয়ে চলা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

অবহেলা করবেন না

সিএসআর নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই এটি সময়ের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে দৃষ্টির কেন্দ্রীয় ও অত্যন্ত সংবেদনশীল অংশ আক্রান্ত হওয়ায় সমস্যাটিকে হালকাভাবে নেওয়াও ঠিক নয়।

চোখের সামনে নতুন করে কালো ছায়া, ঝাপসা দৃষ্টি বা দৃষ্টির কেন্দ্রে কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদদ্রুত পরীক্ষা করলে সমস্যার কারণ শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করা সহজ হয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


চোখের সামনে কালো ছায়া দেখছেন? হতে পারে যে রোগের লক্ষণ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

চোখের সামনে হঠা কালো বা গোল কোনো ছায়া ভাসতে দেখা, অথচ আশপাশের দৃশ্য মোটামুটি পরিষ্কার-বিষয়টি অনেকেই সাময়িক সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এমন উপসর্গ চোখের অত্যন্ত সংবেদনশীল অংশে তরল জমার কারণে হতে পারে। চিকিসাবিজ্ঞানে এ সমস্যাকে বলা হয় সেন্ট্রাল সেরাস কোরিওরেটিনোপ্যাথি (Central Serous Chorioretinopathy) সংক্ষেপে এটি সিএসসিআর বা সিএসআর নামে পরিচিত।

চোখের কোন অংশে সমস্যা হয়

চোখের পেছনে থাকা রেটিনা আমাদের দেখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রেটিনার মাঝখানের বিশেষ সংবেদনশীল অংশটির নাম ম্যাকুলা। এর কেন্দ্রের আরও ছোট অংশ হলো ফোভিয়া। কোনো বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা, তার আকার ও রং বোঝার ক্ষেত্রে এই অংশগুলোর ভূমিকা রয়েছে।

ম্যাকুলার আশপাশে থাকা রক্তনালিগুলো থেকে কোনো কারণে তরল বের হয়ে রেটিনার নিচে জমে গেলে স্বাভাবিক দৃষ্টিতে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তরল জমার ফলে ম্যাকুলা সামান্য ফুলে বা রেটিনা তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে কিছুটা উঁচু হয়ে যেতে পারে। তখন দৃষ্টিতে ঝাপসা ভাব বা কালো ছায়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

প্রধান লক্ষণ কী

সিএসআরের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো ব্যথাহীনভাবে দৃষ্টির মাঝখানে ঝাপসা বা কালো গোল ছায়া দেখা অনেক সময় একটি চোখেই সমস্যা বেশি হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে দুই চোখেও এর প্রভাব দেখা দিতে পারে।

দৃষ্টির কেন্দ্রের কোনো অংশ অস্পষ্ট লাগা বা স্বাভাবিকভাবে কোনো কিছু দেখতে অসুবিধা হলে বিষয়টি অবহেলা না করাই ভালো।

কেন হয়, কারা ঝুঁকিতে

এই রোগের সুনির্দিষ্ট কারণ সব ক্ষেত্রে জানা যায় না। তবে কিছু বিষয় এর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— 

        ·         অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা উদ্বেগ

        ·         দীর্ঘ সময় ঘুমের ঘাটতি

        ·         অতিরিক্ত শারীরিক বা মানসিক পরিশ্রম

        ·         দীর্ঘদিন স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ ব্যবহার

        ·         অতিরিক্ত ধূমপান বা মদ্যপান

        ·         ডায়াবেটিস

বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ও অনিয়মিত জীবনযাপন থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অনেক ক্ষেত্রে নিজে থেকেই কমে যায়

সিএসআরের ক্ষেত্রে চোখের সংবেদনশীল অংশের নিচে জমে থাকা তরল অনেক সময় ধীরে ধীরে শরীর নিজেই শোষণ করে নেয়। নতুন করে তরল জমা বা লিকেজ না হলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দৃষ্টির সমস্যা কমে আসতে পারে। তবে সুস্থ হতে সময় লাগতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রায় দুই মাসও সময় প্রয়োজন হতে পারে।

তাই রোগ ধরা পড়লে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যবেক্ষণে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মানসিক চাপ কমানো, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি।

কখন লেজার বা অন্য চিকিৎসা প্রয়োজন

যদি দীর্ঘ সময়েও সমস্যা না কমে, অস্বস্তি বেশি হয় বা চিকিৎসকের কাছে প্রয়োজন মনে হয়, তাহলে চোখের বিভিন্ন পরীক্ষা করা হতে পারে। অ্যানজিওগ্রাফি ও ওসিটি (OCT) পরীক্ষার মাধ্যমে তরল কোথা থেকে বের হচ্ছে বা কোথায় জমেছে, তা শনাক্ত করা যায়।

পরিস্থিতি অনুযায়ী লিকেজের নির্দিষ্ট স্থানে কম-তাপমাত্রার লেজার চিকিৎসা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টি-ভিইজিএফ (Anti-VEGF) ইনজেকশনও ব্যবহার করা হয়।

একবার সেরে গেলেও আবার হতে পারে

চোখের জমে থাকা তরল শুকিয়ে যাওয়ার পর দৃষ্টির সমস্যা ভালো হয়ে গেলেও ভবিষ্যতে সিএসআর আবার দেখা দিতে পারে। তাই শুধু উপসর্গ চলে গেলেই বিষয়টি পুরোপুরি ভুলে যাওয়া ঠিক নয়।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান ও অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস এড়িয়ে চলা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

অবহেলা করবেন না

সিএসআর নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই এটি সময়ের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে দৃষ্টির কেন্দ্রীয় ও অত্যন্ত সংবেদনশীল অংশ আক্রান্ত হওয়ায় সমস্যাটিকে হালকাভাবে নেওয়াও ঠিক নয়।

চোখের সামনে নতুন করে কালো ছায়া, ঝাপসা দৃষ্টি বা দৃষ্টির কেন্দ্রে কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদদ্রুত পরীক্ষা করলে সমস্যার কারণ শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করা সহজ হয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত