ফেনীর সোনাগাজীর নদীভাঙন এলাকার দিনমজুর নিজাম উদ্দিন। তার চার ছেলে-মেয়ের মধ্যে তিনজন স্থানীয় দক্ষিণ পূর্ব চর চান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। অভাবে জর্জরিত পরিবারটিতে যে বয়সে পুষ্টিকর খাবারের অভাব নিত্যদিনের সঙ্গী হওয়ার কথা, সে বয়সে শিশুরা স্কুলেই প্রতিদিন পাচ্ছে ডিম, দুধ, কলা ও মৌসুমি ফল। সরকারের ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির মাধ্যমে পুষ্টিকর খাবার পেয়ে দারুণ খুশি নিজাম উদ্দিনের সন্তানরা।
উপজেলার দূরবর্তী ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের হাজারো শিশুর গল্প এখন একই রকম। সোনাগাজীতে চালু হওয়া এ কর্মসূচি সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পুষ্টির ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখছে।
খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘স্বদেশ পল্লী’র উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ জানান, সোনাগাজী উপজেলার পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নের ১১০টি বিদ্যালয়ের ১২ হাজার ৯৫৮ জন শিক্ষার্থীর মাঝে খাবার সরবরাহ করছেন তারা। উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন ওয়্যারহাউজ থেকে প্রতিনিধি ও কর্মচারীদের সহায়তায় আটটি পিকআপ যোগে সকাল ১১টার আগেই দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে মানসম্মত খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়। নিয়মিত শিক্ষার্থী বাড়ায় প্রথম মাসের ১২ হাজার ৮৫১ জনের জায়গায় এখন বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৯৫৮ জনে।
প্রকল্পটির সুফল পাওয়া যাচ্ছে হাতেনাতেই। দক্ষিণ পূর্ব চর চান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিক উল্লাহ জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি যখন যোগ দেন, তখন শিক্ষার্থী ছিল ৫৭ জন; উপস্থিত থাকত গড়ে ৩৫-৪০ জন। ফিডিং কর্মসূচি চালুর পর বর্তমানে শিক্ষার্থী বেড়ে হয়েছে ১০৭ জন এবং দৈনিক উপস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৮৫ থেকে ৯০ জনে।
শিক্ষকদের মতে, এ খাবার শিশুদের পুষ্টির অভাব দূর করে সুস্থ ও সবল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করছে। অভিভাবকদের চিন্তাও অনেকখানি কমেছে। তবে কর্মসূচিটি সুন্দরভাবে চালাতে গিয়ে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকদের কাজের চাপ বেড়েছে। পিয়ন ও অফিস সহকারী পদ তৈরি করে দক্ষ জনবল নিয়োগ দিলে পাঠদান আরও সুচারু হতো বলে মনে করেন শিক্ষকেরা।
এদিকে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদেরও এ কর্মসূচির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মাদ্রাসা শিক্ষকেরা। মাদ্রাসা শিক্ষক সংগঠন জমিয়াতুল মোদাররেসিনের সোনাগাজী উপজেলা সভাপতি মাওলানা নুরুল অবছার ফারুকী বলেন, 'প্রাথমিকে এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে ইবতেদায়ি শিক্ষার্থীদের বাদ রাখাটা বৈষম্যমূলক। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে।'
সোনাগাজী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস. এম. তাহেরুল ইসলাম বলেন, 'উপকূলীয় ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকা হিসেবে সোনাগাজীকে প্রাধান্য দেওয়ায় উপস্থিতির হার এখন ৯০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। যথাযথ তদারকি, মান নিয়ন্ত্রণ ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গেলে প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।'

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফেনীর সোনাগাজীর নদীভাঙন এলাকার দিনমজুর নিজাম উদ্দিন। তার চার ছেলে-মেয়ের মধ্যে তিনজন স্থানীয় দক্ষিণ পূর্ব চর চান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। অভাবে জর্জরিত পরিবারটিতে যে বয়সে পুষ্টিকর খাবারের অভাব নিত্যদিনের সঙ্গী হওয়ার কথা, সে বয়সে শিশুরা স্কুলেই প্রতিদিন পাচ্ছে ডিম, দুধ, কলা ও মৌসুমি ফল। সরকারের ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির মাধ্যমে পুষ্টিকর খাবার পেয়ে দারুণ খুশি নিজাম উদ্দিনের সন্তানরা।
উপজেলার দূরবর্তী ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের হাজারো শিশুর গল্প এখন একই রকম। সোনাগাজীতে চালু হওয়া এ কর্মসূচি সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পুষ্টির ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখছে।
খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘স্বদেশ পল্লী’র উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ জানান, সোনাগাজী উপজেলার পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নের ১১০টি বিদ্যালয়ের ১২ হাজার ৯৫৮ জন শিক্ষার্থীর মাঝে খাবার সরবরাহ করছেন তারা। উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন ওয়্যারহাউজ থেকে প্রতিনিধি ও কর্মচারীদের সহায়তায় আটটি পিকআপ যোগে সকাল ১১টার আগেই দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে মানসম্মত খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়। নিয়মিত শিক্ষার্থী বাড়ায় প্রথম মাসের ১২ হাজার ৮৫১ জনের জায়গায় এখন বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৯৫৮ জনে।
প্রকল্পটির সুফল পাওয়া যাচ্ছে হাতেনাতেই। দক্ষিণ পূর্ব চর চান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিক উল্লাহ জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি যখন যোগ দেন, তখন শিক্ষার্থী ছিল ৫৭ জন; উপস্থিত থাকত গড়ে ৩৫-৪০ জন। ফিডিং কর্মসূচি চালুর পর বর্তমানে শিক্ষার্থী বেড়ে হয়েছে ১০৭ জন এবং দৈনিক উপস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৮৫ থেকে ৯০ জনে।
শিক্ষকদের মতে, এ খাবার শিশুদের পুষ্টির অভাব দূর করে সুস্থ ও সবল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করছে। অভিভাবকদের চিন্তাও অনেকখানি কমেছে। তবে কর্মসূচিটি সুন্দরভাবে চালাতে গিয়ে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকদের কাজের চাপ বেড়েছে। পিয়ন ও অফিস সহকারী পদ তৈরি করে দক্ষ জনবল নিয়োগ দিলে পাঠদান আরও সুচারু হতো বলে মনে করেন শিক্ষকেরা।
এদিকে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদেরও এ কর্মসূচির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মাদ্রাসা শিক্ষকেরা। মাদ্রাসা শিক্ষক সংগঠন জমিয়াতুল মোদাররেসিনের সোনাগাজী উপজেলা সভাপতি মাওলানা নুরুল অবছার ফারুকী বলেন, 'প্রাথমিকে এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে ইবতেদায়ি শিক্ষার্থীদের বাদ রাখাটা বৈষম্যমূলক। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে।'
সোনাগাজী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস. এম. তাহেরুল ইসলাম বলেন, 'উপকূলীয় ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকা হিসেবে সোনাগাজীকে প্রাধান্য দেওয়ায় উপস্থিতির হার এখন ৯০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। যথাযথ তদারকি, মান নিয়ন্ত্রণ ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গেলে প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।'

আপনার মতামত লিখুন