শ্যালিকার সঙ্গে পরকীয়ার জেরে ১৬ বছর আগে ভালোবাসা দিবসে স্ত্রীকে হোটেলে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করার দায়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক এক প্রকৌশলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রমাণের আলামত মুছে ফেলার দায়ে একটি আবাসিক হোটেলের সহকারী ম্যানেজারকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোশতাক আহমেদ এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম জহুরুল ইসলাম (৫৭)। তিনি এলজিইডির সাবেক প্রকৌশলী। পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া আসামি হলেন নগরীর হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালের সহকারী ম্যানেজার আবদুল মালেক।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম তার স্ত্রী শোভা বেগমকে (৪৫) বরিশাল নগরীর ‘হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালে’ ডেকে আনেন। শ্যালিকার সঙ্গে জহুরুলের পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে আগে থেকেই দাম্পত্য কলহ চলছিল। পরিকল্পিতভাবে জহুরুল ওই দিন হোটেলের কক্ষে ধারালো চাকু দিয়ে শোভা বেগমের গলা কেটে হত্যা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা-পুলিশ হোটেল থেকে নিহত নারীর লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করা হয়।
মামলার তদন্তকালে পুলিশ জানতে পারে, টাকার বিনিময়ে হোটেলের সিসিটিভি ক্যামেরা কয়েক ঘণ্টা বন্ধ রেখে ডাটা মুছে ফেলার ব্যবস্থা করেছিলেন সহকারী ম্যানেজার আবদুল মালেক। ফলে আলামত ধ্বংসের অভিযোগে তাকেও আসামি করা হয়। দীর্ঘ ১৬ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত এই রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মহসিন হক মন্টু রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, 'এটি একটি পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড ছিল। দীর্ঘ দিন পর হলেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে নিহতের পরিবার রায়ে সন্তুষ্ট হলেও আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।'

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শ্যালিকার সঙ্গে পরকীয়ার জেরে ১৬ বছর আগে ভালোবাসা দিবসে স্ত্রীকে হোটেলে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করার দায়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক এক প্রকৌশলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রমাণের আলামত মুছে ফেলার দায়ে একটি আবাসিক হোটেলের সহকারী ম্যানেজারকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোশতাক আহমেদ এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম জহুরুল ইসলাম (৫৭)। তিনি এলজিইডির সাবেক প্রকৌশলী। পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া আসামি হলেন নগরীর হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালের সহকারী ম্যানেজার আবদুল মালেক।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম তার স্ত্রী শোভা বেগমকে (৪৫) বরিশাল নগরীর ‘হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালে’ ডেকে আনেন। শ্যালিকার সঙ্গে জহুরুলের পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে আগে থেকেই দাম্পত্য কলহ চলছিল। পরিকল্পিতভাবে জহুরুল ওই দিন হোটেলের কক্ষে ধারালো চাকু দিয়ে শোভা বেগমের গলা কেটে হত্যা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা-পুলিশ হোটেল থেকে নিহত নারীর লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করা হয়।
মামলার তদন্তকালে পুলিশ জানতে পারে, টাকার বিনিময়ে হোটেলের সিসিটিভি ক্যামেরা কয়েক ঘণ্টা বন্ধ রেখে ডাটা মুছে ফেলার ব্যবস্থা করেছিলেন সহকারী ম্যানেজার আবদুল মালেক। ফলে আলামত ধ্বংসের অভিযোগে তাকেও আসামি করা হয়। দীর্ঘ ১৬ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত এই রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মহসিন হক মন্টু রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, 'এটি একটি পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড ছিল। দীর্ঘ দিন পর হলেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে নিহতের পরিবার রায়ে সন্তুষ্ট হলেও আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।'

আপনার মতামত লিখুন