সংবাদ

ভৈরবে রাস্তা আটকে ভিটা দখলের অভিযোগ


প্রতিনিধি, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রতিনিধি, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫১ পিএম

ভৈরবে রাস্তা আটকে ভিটা দখলের অভিযোগ
ছবি : সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে যাতায়াতের রাস্তায় বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে তিনটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এতে পাঁচ দিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। যাতায়াতের একমাত্র পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে অন্য বাড়ির ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের। পৌর শহরের চণ্ডীবের মধ্যপাড়া এলাকায় সম্প্রতি এই ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন পৌর শহরের চণ্ডীবের এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে মাহমুদুল হাসান রনি (৩১), আবদুর রহিম (৫৫), তাহের আলী (৫০), শফিক মিয়া (৪০), নূরু মিয়া (৪০) ও মিজান মিয়া (৩০)। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে এই ৬ জনের নাম উল্লেখ করে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বসতবাড়ির চলাচলের উঠান বা রাস্তাটি টিন ও বাঁশ দিয়ে শক্তভাবে আটকে দেওয়া হয়েছে। বংশপরম্পরায় এ রাস্তা ব্যবহার করে আসছিলেন তিন পরিবারের সদস্যরা। হঠাৎ রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায় কার্যত গৃহবন্দী হয়ে পড়েছেন তারা।

ভুক্তভোগী মিন্নাত আলী বলেন, ‘পৈতৃক সম্পত্তিতে আমরা ছয় ভাই ও আমাদের সন্তানেরা বসবাস করছি। আমাদের ভাইদের মধ্যে এখনো কোনো বাটোয়ারা বা বণ্টননামা দলিল হয়নি। স্থানীয় মাহমুদুল হাসান রনি ও শফিকুল ইসলামসহ একটি ভূমিদস্যু চক্র আমাদের দুই ভাই তাহের আলী ও আরমান আলীর কাছ থেকে লিখিত নিয়ে আমাদের ঘরবাড়ি ও টয়লেট ভেঙে বসতভিটা দখল করে নেয়। এরপর তিন ভাইয়ের ঘরের সামনে টিনের বেড়া দিয়ে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেয়। বাকি ভাইদের জমির অংশ বিক্রি না করায় ঘরের সামনেই প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে দুর্ভোগে ফেলেছে। আমরা নিজ ভিটায় স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারছি না, এর সঠিক বিচার চাই।’

আরেক ভুক্তভোগী লুৎফুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘রনি ও তার বাবা বিগত সরকারের প্রভাব কাজে লাগিয়ে এলাকায় ভূমি দখলসহ নানা অপকর্ম করেছেন। তাদের ভয়ে কেউ কথা বলতে পারত না। সরকার পরিবর্তনের পর তারা সুযোগ বুঝে খোলস পাল্টেছে। এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গত পাঁচ দিন ধরে বেড়া দিয়ে আমাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তারা বলে, আমাদের বিচার করার কেউ নেই। এমনকি যারা জমি কিনেছে বলে দাবি করছে, দলিলেও তাদের নাম নেই।’

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে জালিয়াতির মাধ্যমে জমি দখলের অভিযোগে অভিযুক্ত আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে মামলা করেন এক ভুক্তভোগী। ওই মামলায় তিনি পরোয়ানাভুক্ত আসামি হিসেবে কারাভোগও করেছিলেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাহমুদুল হাসান রনি বলেন, ‘আমরা এক ওয়ারিশ ছাড়া বাকি সবার কাছ থেকে জমি কিনেছি। আমাদের কেনা জমিতেই বেড়া দিয়েছি। তবে ভুক্তভোগীদের চলাচলের জন্য বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।’

বিষয়টি নিয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে. এম. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ভৈরবে ইদানীং যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করার বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। যাতায়াতের রাস্তা একটি মৌলিক অধিকার। মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা যাই থাক না কেন, চলাচলের পথ বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। রাস্তা অবশ্যই উন্মুক্ত রাখতে হবে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ভৈরবে রাস্তা আটকে ভিটা দখলের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে যাতায়াতের রাস্তায় বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে তিনটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এতে পাঁচ দিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। যাতায়াতের একমাত্র পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে অন্য বাড়ির ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের। পৌর শহরের চণ্ডীবের মধ্যপাড়া এলাকায় সম্প্রতি এই ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন পৌর শহরের চণ্ডীবের এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে মাহমুদুল হাসান রনি (৩১), আবদুর রহিম (৫৫), তাহের আলী (৫০), শফিক মিয়া (৪০), নূরু মিয়া (৪০) ও মিজান মিয়া (৩০)। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে এই ৬ জনের নাম উল্লেখ করে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বসতবাড়ির চলাচলের উঠান বা রাস্তাটি টিন ও বাঁশ দিয়ে শক্তভাবে আটকে দেওয়া হয়েছে। বংশপরম্পরায় এ রাস্তা ব্যবহার করে আসছিলেন তিন পরিবারের সদস্যরা। হঠাৎ রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায় কার্যত গৃহবন্দী হয়ে পড়েছেন তারা।

ভুক্তভোগী মিন্নাত আলী বলেন, ‘পৈতৃক সম্পত্তিতে আমরা ছয় ভাই ও আমাদের সন্তানেরা বসবাস করছি। আমাদের ভাইদের মধ্যে এখনো কোনো বাটোয়ারা বা বণ্টননামা দলিল হয়নি। স্থানীয় মাহমুদুল হাসান রনি ও শফিকুল ইসলামসহ একটি ভূমিদস্যু চক্র আমাদের দুই ভাই তাহের আলী ও আরমান আলীর কাছ থেকে লিখিত নিয়ে আমাদের ঘরবাড়ি ও টয়লেট ভেঙে বসতভিটা দখল করে নেয়। এরপর তিন ভাইয়ের ঘরের সামনে টিনের বেড়া দিয়ে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেয়। বাকি ভাইদের জমির অংশ বিক্রি না করায় ঘরের সামনেই প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে দুর্ভোগে ফেলেছে। আমরা নিজ ভিটায় স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারছি না, এর সঠিক বিচার চাই।’

আরেক ভুক্তভোগী লুৎফুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘রনি ও তার বাবা বিগত সরকারের প্রভাব কাজে লাগিয়ে এলাকায় ভূমি দখলসহ নানা অপকর্ম করেছেন। তাদের ভয়ে কেউ কথা বলতে পারত না। সরকার পরিবর্তনের পর তারা সুযোগ বুঝে খোলস পাল্টেছে। এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গত পাঁচ দিন ধরে বেড়া দিয়ে আমাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তারা বলে, আমাদের বিচার করার কেউ নেই। এমনকি যারা জমি কিনেছে বলে দাবি করছে, দলিলেও তাদের নাম নেই।’

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে জালিয়াতির মাধ্যমে জমি দখলের অভিযোগে অভিযুক্ত আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে মামলা করেন এক ভুক্তভোগী। ওই মামলায় তিনি পরোয়ানাভুক্ত আসামি হিসেবে কারাভোগও করেছিলেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাহমুদুল হাসান রনি বলেন, ‘আমরা এক ওয়ারিশ ছাড়া বাকি সবার কাছ থেকে জমি কিনেছি। আমাদের কেনা জমিতেই বেড়া দিয়েছি। তবে ভুক্তভোগীদের চলাচলের জন্য বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।’

বিষয়টি নিয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে. এম. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ভৈরবে ইদানীং যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করার বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। যাতায়াতের রাস্তা একটি মৌলিক অধিকার। মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা যাই থাক না কেন, চলাচলের পথ বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। রাস্তা অবশ্যই উন্মুক্ত রাখতে হবে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত