সংবাদ

মেহেন্দিগঞ্জে ভয়াবহ নদীভাঙন, বিলে গেল ৫০ ঘর


প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০২ পিএম

মেহেন্দিগঞ্জে ভয়াবহ নদীভাঙন, বিলে গেল ৫০ ঘর
মাত্র তিন দিনে নদীগর্ভে চলে গেছে অর্ধশতাধিক বসতঘর ও দোকানপাট। ছবি : সংবাদ

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরগোপালপুর ও আলিমাবাদ ইউনিয়নে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। গত তিন-চার দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাট। ভাঙনকবলিত এলাকা বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ। বুধবার সকাল ১০টার পর তিনি চরগোপালপুর ইউনিয়নের লেঙ্গুটিয়া এলাকা ও আলিমাবাদ ইউনিয়নের নদীভাঙনপ্রবণ স্থানগুলো ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সর্বস্ব হারানো মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্দশার কথা শেনেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনে চরগোপালপুরে সৈয়দ মাস্টার বাড়ির ৫টি, নীলগাজী বাড়ির ৮টি, রাড়ি বাড়ির ৭টি, তালুকদার বাড়ির ৪টি, বেপারী বাড়ির ৩টি, ধোপাবাড়ির পানের বরজসহ ২টি, মাধবপুর বাড়ির ৪টি এবং গণি রাড়ি বাড়ির ৮টি বসতঘর নদীতে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে ঢোলের হাট বাজারের ১৫ থেকে ৩০টি দোকানও নদীগর্ভে চলে গেছে। সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও কোনোভাবেই ভাঙন থামানো যাচ্ছে না। এতে লেঙ্গুটিয়া মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও লেঙ্গুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ পুরো জনপদ এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

পরে বিভাগীয় কমিশনার চরগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এতে চরগোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান সামসুল বারী মনির, আলিমাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ জিও ব্যাগ ফেলা হলেও স্থায়ী কোনো বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। এ কারণেই নদীভাঙন রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, ‘ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর মালামাল দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সবাইকে মিলে কাজ করতে হবে। নদীর পানি কমলে শুষ্ক মৌসুমে, বিশেষ করে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে স্কুলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ব্লক স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও জানান, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে প্রশাসন রয়েছে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও ভিজিএফ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। চরাঞ্চলের পতিত জমিতে তরমুজসহ লাভজনক ফসল চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম সাহা বলেন, ‘মেহেন্দিগঞ্জের এলাকাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তীব্র স্রোতের কারণে কেবল জিও ব্যাগ দিয়ে স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানি কমলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। তবে আপাতত ভাঙন ঠেকাতে আরও জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে।’

পরিদর্শনকালে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব তালুকদার মো. ইনতেজার, সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, নদীভাঙনকবলিত এলাকাটি নৌপরিবহন ও সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের নিজ নির্বাচনী এলাকা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মেহেন্দিগঞ্জে ভয়াবহ নদীভাঙন, বিলে গেল ৫০ ঘর

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরগোপালপুর ও আলিমাবাদ ইউনিয়নে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। গত তিন-চার দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাট। ভাঙনকবলিত এলাকা বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ। বুধবার সকাল ১০টার পর তিনি চরগোপালপুর ইউনিয়নের লেঙ্গুটিয়া এলাকা ও আলিমাবাদ ইউনিয়নের নদীভাঙনপ্রবণ স্থানগুলো ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সর্বস্ব হারানো মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্দশার কথা শেনেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনে চরগোপালপুরে সৈয়দ মাস্টার বাড়ির ৫টি, নীলগাজী বাড়ির ৮টি, রাড়ি বাড়ির ৭টি, তালুকদার বাড়ির ৪টি, বেপারী বাড়ির ৩টি, ধোপাবাড়ির পানের বরজসহ ২টি, মাধবপুর বাড়ির ৪টি এবং গণি রাড়ি বাড়ির ৮টি বসতঘর নদীতে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে ঢোলের হাট বাজারের ১৫ থেকে ৩০টি দোকানও নদীগর্ভে চলে গেছে। সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও কোনোভাবেই ভাঙন থামানো যাচ্ছে না। এতে লেঙ্গুটিয়া মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও লেঙ্গুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ পুরো জনপদ এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

পরে বিভাগীয় কমিশনার চরগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এতে চরগোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান সামসুল বারী মনির, আলিমাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ জিও ব্যাগ ফেলা হলেও স্থায়ী কোনো বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। এ কারণেই নদীভাঙন রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, ‘ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর মালামাল দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সবাইকে মিলে কাজ করতে হবে। নদীর পানি কমলে শুষ্ক মৌসুমে, বিশেষ করে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে স্কুলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ব্লক স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও জানান, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে প্রশাসন রয়েছে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও ভিজিএফ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। চরাঞ্চলের পতিত জমিতে তরমুজসহ লাভজনক ফসল চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম সাহা বলেন, ‘মেহেন্দিগঞ্জের এলাকাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তীব্র স্রোতের কারণে কেবল জিও ব্যাগ দিয়ে স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানি কমলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। তবে আপাতত ভাঙন ঠেকাতে আরও জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে।’

পরিদর্শনকালে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব তালুকদার মো. ইনতেজার, সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, নদীভাঙনকবলিত এলাকাটি নৌপরিবহন ও সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের নিজ নির্বাচনী এলাকা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত