সংবাদ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আসছে যে সকল কঠোর বিধিমালা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আসছে যে সকল কঠোর বিধিমালা
ছবি : সংগৃহীত

  • পাঁচ গুণ বাড়ছে জামানত ও দ্বিগুণ হচ্ছে ব্যয়সীমা
  • ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা কমাতে ইসির নতুন উদ্যোগ
  • থাকছে না কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত

প্রার্থী সংখ্যায় লাগাম টানতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সংশোধিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালায় প্রার্থীদের জামানত এক লাফে পাঁচ গুণ এবং নির্বাচনি ব্যয়সীমা দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সূত্র অনুযায়ী, বিনা প্রয়োজনে প্রার্থী হওয়ার প্রবণতা রোধ করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের প্রার্থীর জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে সাধারণ মানুষের অধিকারের কথা বিবেচনা করে এবারও প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হচ্ছে না। ফলে আগের মতো যে কেউ চাইলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবেন।

জামানতের পাশাপাশি চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ নির্বাচনি ব্যয় ৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের প্রার্থীর ব্যয়সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, প্রার্থীর জামানত ফেরত পাওয়ার শর্তেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমান বিধি অনুযায়ী প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেলেই জামানত ফেরত পাওয়া যেত।

কিন্তু নতুন সংশোধনীতে বলা হয়েছে, নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত সরাসরি বাজেয়াপ্ত হবে।

নির্বাচনি অপরাধের ক্ষেত্রে সাজা বাড়ানোর পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে পুরো নির্বাচন বন্ধ করার কঠোর ক্ষমতা পাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা সংশোধন করে এই নতুন বিধানগুলো তৈরি করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং হয়ে সংশোধনীটি ইসিতে এসে পৌঁছেছে। আগামী সপ্তাহে এসআরও নম্বর যুক্ত করার জন্য এটি পুনরায় আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং এরপরই এর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হবে। একইভাবে উপজেলা, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের নির্বাচনি বিধিমালাও আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো নির্দলীয় ও প্রতীকবিহীনভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে প্রার্থীর সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ বাড়বে বলে ধারণা করছে ইসি। অতিরিক্ত প্রার্থীর কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলেই এই বিধিমালা সংশোধন।

তবে নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জামানত পাঁচ গুণ বৃদ্ধি করায় সাধারণ ও তুলনামূলক কম আর্থিক সচ্ছলতার যোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, যা নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আসছে যে সকল কঠোর বিধিমালা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

  • পাঁচ গুণ বাড়ছে জামানত ও দ্বিগুণ হচ্ছে ব্যয়সীমা
  • ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা কমাতে ইসির নতুন উদ্যোগ
  • থাকছে না কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত

প্রার্থী সংখ্যায় লাগাম টানতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সংশোধিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালায় প্রার্থীদের জামানত এক লাফে পাঁচ গুণ এবং নির্বাচনি ব্যয়সীমা দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সূত্র অনুযায়ী, বিনা প্রয়োজনে প্রার্থী হওয়ার প্রবণতা রোধ করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের প্রার্থীর জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে সাধারণ মানুষের অধিকারের কথা বিবেচনা করে এবারও প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হচ্ছে না। ফলে আগের মতো যে কেউ চাইলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবেন।

জামানতের পাশাপাশি চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ নির্বাচনি ব্যয় ৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের প্রার্থীর ব্যয়সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, প্রার্থীর জামানত ফেরত পাওয়ার শর্তেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমান বিধি অনুযায়ী প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেলেই জামানত ফেরত পাওয়া যেত।

কিন্তু নতুন সংশোধনীতে বলা হয়েছে, নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত সরাসরি বাজেয়াপ্ত হবে।

নির্বাচনি অপরাধের ক্ষেত্রে সাজা বাড়ানোর পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে পুরো নির্বাচন বন্ধ করার কঠোর ক্ষমতা পাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা সংশোধন করে এই নতুন বিধানগুলো তৈরি করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং হয়ে সংশোধনীটি ইসিতে এসে পৌঁছেছে। আগামী সপ্তাহে এসআরও নম্বর যুক্ত করার জন্য এটি পুনরায় আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং এরপরই এর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হবে। একইভাবে উপজেলা, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের নির্বাচনি বিধিমালাও আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো নির্দলীয় ও প্রতীকবিহীনভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে প্রার্থীর সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ বাড়বে বলে ধারণা করছে ইসি। অতিরিক্ত প্রার্থীর কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলেই এই বিধিমালা সংশোধন।

তবে নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জামানত পাঁচ গুণ বৃদ্ধি করায় সাধারণ ও তুলনামূলক কম আর্থিক সচ্ছলতার যোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, যা নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত