রাজধানীর শাহ আলী এলাকায় স্ত্রীকে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী মনিরুল ইসলাম ওরফে মিনারকে (৪৩) অবশেষে গ্রেফতার করেছে এসআরবি। গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসআরবি-৪ এর একটি চৌকস দল তাকে আটক করে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কারওয়ান বাজারস্থ এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য রহস্য ও গ্রেফতারের বিষয়টি গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন এসআরবি-৪ এর পদাতিক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিহত ওই নারীর এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। তার প্রথম স্বামী প্রায় ১৪ বছর আগে মারা যান। এর প্রায় সাড়ে ১৩ বছর পর মাত্র ছয় মাস আগে মনিরুল ইসলামের সঙ্গে তার পুনরায় বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন তারা বনানী এলাকায় বসবাস করলেও চলতি মাসের শুরুর দিকে শাহ আলী থানার চিলড্রেন পার্ক সংলগ্ন পানির পাম্প এলাকার একটি টিনশেড বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার শুরু করেছিলেন। কিন্তু এই সুখের সংসার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মূলত স্ত্রীর গ্রামের জমি বন্ধক রাখা ৭০ হাজার টাকাই কাল হয়ে দাঁড়ায়।
এসআরবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, নিহত নারী তার গ্রামের একটি জমি বন্ধক রেখে ৭০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। লোভী স্বামী মনিরুল শুরু থেকেই সেই টাকা নিজের আয়ত্তে নেওয়ার জন্য স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব ও চাপ দিয়ে আসছিল। কিন্তু স্ত্রী সেই টাকা দিতে পরিষ্কার অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে নিত্যদিনের অশান্তি শুরু হয়। টাকার জন্য প্রায়ই ওই নারীর ওপর অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতো ঘাতক স্বামী মনিরুল ইসলাম।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি আরও জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র কথাকাটাকাটি, বাকবিতণ্ডা এবং একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ স্ত্রী তার স্বামী মনিরুলের অণ্ডকোষ চেপে ধরেন। এতে অন্ধ আক্রোশে দিশেহারা হয়ে পড়ে মনিরুল। সে হাতের কাছে থাকা একটি ধারালো চাকু দিয়ে স্ত্রীর গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত নারীর ছেলে বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে প্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত স্বামী মনিরুলকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয় এসআরবি। গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণের জন্য তাকে শাহ আলী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীর শাহ আলী এলাকায় স্ত্রীকে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী মনিরুল ইসলাম ওরফে মিনারকে (৪৩) অবশেষে গ্রেফতার করেছে এসআরবি। গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসআরবি-৪ এর একটি চৌকস দল তাকে আটক করে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কারওয়ান বাজারস্থ এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য রহস্য ও গ্রেফতারের বিষয়টি গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন এসআরবি-৪ এর পদাতিক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিহত ওই নারীর এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। তার প্রথম স্বামী প্রায় ১৪ বছর আগে মারা যান। এর প্রায় সাড়ে ১৩ বছর পর মাত্র ছয় মাস আগে মনিরুল ইসলামের সঙ্গে তার পুনরায় বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন তারা বনানী এলাকায় বসবাস করলেও চলতি মাসের শুরুর দিকে শাহ আলী থানার চিলড্রেন পার্ক সংলগ্ন পানির পাম্প এলাকার একটি টিনশেড বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার শুরু করেছিলেন। কিন্তু এই সুখের সংসার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মূলত স্ত্রীর গ্রামের জমি বন্ধক রাখা ৭০ হাজার টাকাই কাল হয়ে দাঁড়ায়।
এসআরবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, নিহত নারী তার গ্রামের একটি জমি বন্ধক রেখে ৭০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। লোভী স্বামী মনিরুল শুরু থেকেই সেই টাকা নিজের আয়ত্তে নেওয়ার জন্য স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব ও চাপ দিয়ে আসছিল। কিন্তু স্ত্রী সেই টাকা দিতে পরিষ্কার অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে নিত্যদিনের অশান্তি শুরু হয়। টাকার জন্য প্রায়ই ওই নারীর ওপর অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতো ঘাতক স্বামী মনিরুল ইসলাম।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি আরও জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র কথাকাটাকাটি, বাকবিতণ্ডা এবং একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ স্ত্রী তার স্বামী মনিরুলের অণ্ডকোষ চেপে ধরেন। এতে অন্ধ আক্রোশে দিশেহারা হয়ে পড়ে মনিরুল। সে হাতের কাছে থাকা একটি ধারালো চাকু দিয়ে স্ত্রীর গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত নারীর ছেলে বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে প্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত স্বামী মনিরুলকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয় এসআরবি। গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণের জন্য তাকে শাহ আলী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আপনার মতামত লিখুন