নিলামে প্রতি কেজি চায়ের দাম ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা। কিন্তু সীমান্ত দিয়ে আসা চোরাই চা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। ফলে কেজিতে ৭০ থেকে ১০০ টাকা করে লোকসান দিচ্ছেন বৈধ ব্যবসায়ীরা। এতে তাঁরা অসম প্রতিযোগিতায় পড়ছেন। সরকারও হারাচ্ছে রাজস্ব।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশের চা শিল্পের উন্নয়নে গঠিত পরামর্শক কমিটি’র প্রথম সভায় চা শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ সব কথা তুলে ধরেছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান, ভূমিসচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, কৃষিসচিব মো. সেলিম খান, বিদ্যুৎসচিব মিরানা মাহরুখ, বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবীর আহামদ, বাংলাদেশীয় চা সংসদের চেয়ারম্যান কামরান টি রহমান এবং টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহ মাঈনুদ্দিন হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চোরাই চায়ের প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত ও বাজারে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর যৌক্তিক করার প্রস্তাব করা হয়েছে বৈঠকে। একই সঙ্গে সংকটে থাকা চা খাতকে ঘুরে দাঁড় করাতে বাগানগুলোর নিজস্ব আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
বৈঠকে বক্তারা জানান, নিলামে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে চা কিনে বৈধভাবে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চোরাই চায়ের সঙ্গে দামে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। চোরাই চা ২০০ থেকে ২২০ টাকা দরে বাজারে বিক্রি হওয়ায় বৈধ ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ বাড়ছে।
চা-শিল্পের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে শুধু ঋণ বা সরকারি প্রণোদনার ওপর নির্ভর না করে বিকল্প আয়ের উৎস তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। চা-বাগানের মূল বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে অনাবাদি ও অব্যবহৃত জমিতে নির্দিষ্ট মেয়াদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি কৃষি ও বিকল্প বনায়নের মাধ্যমে এসব জমি কাজে লাগানোর কথাও বলা হয়।
ক্লাস্টার বা নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে বাগানগুলোর আয় বাড়ানোর প্রস্তাবও এসেছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিগত অনুমোদনের প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয় বৈঠকে।
বক্তারা বলেন, শুধু সরকারি প্রণোদনা, আবর্তন তহবিল বা ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভর করলে চা-বাগানগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সংকট কাটবে না। ব্যবস্থাপনা দক্ষতা ও নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।
বাগানভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং ও নীতি সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চা শিল্পের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের জীবন-জীবিকা জড়িত। কোনো বাগান বন্ধ বা দেউলিয়া হলে তার প্রভাব শ্রমিক পরিবার ও স্থানীয় সমাজের ওপর পড়ে। তাই শ্রমিকদের সুরক্ষা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে এ খাতকে টেকসই ও লাভজনক করতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চা শিল্পকে কেবল ঋণনির্ভর খাত হিসেবে না রেখে রাজস্ব, কর ও ভ্যাটের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে নিয়মিত অবদান রাখা একটি কার্যকর শিল্পে রূপান্তর করতে হবে।

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিলামে প্রতি কেজি চায়ের দাম ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা। কিন্তু সীমান্ত দিয়ে আসা চোরাই চা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। ফলে কেজিতে ৭০ থেকে ১০০ টাকা করে লোকসান দিচ্ছেন বৈধ ব্যবসায়ীরা। এতে তাঁরা অসম প্রতিযোগিতায় পড়ছেন। সরকারও হারাচ্ছে রাজস্ব।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশের চা শিল্পের উন্নয়নে গঠিত পরামর্শক কমিটি’র প্রথম সভায় চা শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ সব কথা তুলে ধরেছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান, ভূমিসচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, কৃষিসচিব মো. সেলিম খান, বিদ্যুৎসচিব মিরানা মাহরুখ, বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবীর আহামদ, বাংলাদেশীয় চা সংসদের চেয়ারম্যান কামরান টি রহমান এবং টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহ মাঈনুদ্দিন হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চোরাই চায়ের প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত ও বাজারে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর যৌক্তিক করার প্রস্তাব করা হয়েছে বৈঠকে। একই সঙ্গে সংকটে থাকা চা খাতকে ঘুরে দাঁড় করাতে বাগানগুলোর নিজস্ব আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
বৈঠকে বক্তারা জানান, নিলামে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে চা কিনে বৈধভাবে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চোরাই চায়ের সঙ্গে দামে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। চোরাই চা ২০০ থেকে ২২০ টাকা দরে বাজারে বিক্রি হওয়ায় বৈধ ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ বাড়ছে।
চা-শিল্পের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে শুধু ঋণ বা সরকারি প্রণোদনার ওপর নির্ভর না করে বিকল্প আয়ের উৎস তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। চা-বাগানের মূল বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে অনাবাদি ও অব্যবহৃত জমিতে নির্দিষ্ট মেয়াদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি কৃষি ও বিকল্প বনায়নের মাধ্যমে এসব জমি কাজে লাগানোর কথাও বলা হয়।
ক্লাস্টার বা নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে বাগানগুলোর আয় বাড়ানোর প্রস্তাবও এসেছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিগত অনুমোদনের প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয় বৈঠকে।
বক্তারা বলেন, শুধু সরকারি প্রণোদনা, আবর্তন তহবিল বা ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভর করলে চা-বাগানগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সংকট কাটবে না। ব্যবস্থাপনা দক্ষতা ও নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।
বাগানভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং ও নীতি সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চা শিল্পের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের জীবন-জীবিকা জড়িত। কোনো বাগান বন্ধ বা দেউলিয়া হলে তার প্রভাব শ্রমিক পরিবার ও স্থানীয় সমাজের ওপর পড়ে। তাই শ্রমিকদের সুরক্ষা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে এ খাতকে টেকসই ও লাভজনক করতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চা শিল্পকে কেবল ঋণনির্ভর খাত হিসেবে না রেখে রাজস্ব, কর ও ভ্যাটের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে নিয়মিত অবদান রাখা একটি কার্যকর শিল্পে রূপান্তর করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন