রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া মহল্লায় সাবেক স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাসহ চারজনকে হত্যার মামলায় রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক দুই আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর ডিবি পুলিশের ওসি জিন্নাত আলী রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দুই আসামিকে রিসিভ করে কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে রংপুর ত্যাগ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও ডিবি পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বাসা থেকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের আলামত হিসেবে উদ্ধার করা ৩৬ ধরনের আইটেম রোববার রাতে ঢাকায় সিআইডির দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির ওসি জিন্নাত আলী আদালতের অনুমতি নিয়ে হত্যা মামলার দুই আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পুলিশি পাহারায় ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যান। আগামীকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুই আসামিকে সিআইডির দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করানো হবে।
এদিকে, পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ চারজন খুনের ঘটনায় ময়নাতদন্তের সময় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও কন্যা অগামী চক্রবর্তীর শরীরে যে স্পার্ম (শুক্রাণু) পাওয়া গিয়েছিল, তা তাদের হত্যার আগে দুই নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। সে কারণেই দুই আসামির ডিএনএ পরীক্ষার জন্য তাদের ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ময়নাতদন্তের সময় পাওয়া স্পার্ম যদি আসামিদের ডিএনএর সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে মামলার মোড় ঘুরে যাবে। ফলে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে চার খুনের ঘটনা বলে প্রচার করা হয়েছে, সেটি ছাড়াও হত্যার আগে দুই নারীকে ধর্ষণের বিষয়টিও সামনে আসবে।
এ ব্যাপারে রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও ডিবি পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, আসামিদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে হত্যার পরপরই উদ্ধার হওয়া ৩৬ ধরনের আলামত পরীক্ষার জন্য রোববার রাতে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়া মহল্লার বাসা থেকে স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, কন্যা অগামী চক্রবর্তী ও শিশু পুত্র আয়াশের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় পুলিশ দুই আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করে। পরেরদিন ২৩ আগস্ট দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় তারা চারজনকে একে একে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করে।
তবে দুই আসামির পক্ষে চারজনকে এভাবে হত্যা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে নিহতের স্বজন, আইন বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করছেন না। এ ব্যাপারে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া মহল্লায় সাবেক স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাসহ চারজনকে হত্যার মামলায় রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক দুই আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর ডিবি পুলিশের ওসি জিন্নাত আলী রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দুই আসামিকে রিসিভ করে কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে রংপুর ত্যাগ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও ডিবি পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বাসা থেকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের আলামত হিসেবে উদ্ধার করা ৩৬ ধরনের আইটেম রোববার রাতে ঢাকায় সিআইডির দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির ওসি জিন্নাত আলী আদালতের অনুমতি নিয়ে হত্যা মামলার দুই আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পুলিশি পাহারায় ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যান। আগামীকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুই আসামিকে সিআইডির দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করানো হবে।
এদিকে, পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ চারজন খুনের ঘটনায় ময়নাতদন্তের সময় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও কন্যা অগামী চক্রবর্তীর শরীরে যে স্পার্ম (শুক্রাণু) পাওয়া গিয়েছিল, তা তাদের হত্যার আগে দুই নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। সে কারণেই দুই আসামির ডিএনএ পরীক্ষার জন্য তাদের ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ময়নাতদন্তের সময় পাওয়া স্পার্ম যদি আসামিদের ডিএনএর সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে মামলার মোড় ঘুরে যাবে। ফলে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে চার খুনের ঘটনা বলে প্রচার করা হয়েছে, সেটি ছাড়াও হত্যার আগে দুই নারীকে ধর্ষণের বিষয়টিও সামনে আসবে।
এ ব্যাপারে রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও ডিবি পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, আসামিদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে হত্যার পরপরই উদ্ধার হওয়া ৩৬ ধরনের আলামত পরীক্ষার জন্য রোববার রাতে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়া মহল্লার বাসা থেকে স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, কন্যা অগামী চক্রবর্তী ও শিশু পুত্র আয়াশের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় পুলিশ দুই আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করে। পরেরদিন ২৩ আগস্ট দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় তারা চারজনকে একে একে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করে।
তবে দুই আসামির পক্ষে চারজনকে এভাবে হত্যা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে নিহতের স্বজন, আইন বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করছেন না। এ ব্যাপারে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন