বিদ্যুৎ ছাড়া আধুনিক জীবনযাত্রা কল্পনা করা কঠিন। ঘরের আলো, ফ্যান, এসি থেকে শুরু করে রান্নার যন্ত্র, টেলিভিশন, কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন—প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো কাজে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু অসতর্কতা বা বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে এই প্রয়োজনীয় শক্তিই মুহূর্তে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
ছেঁড়া তার, ত্রুটিপূর্ণ সকেট
বা সুইচ, খোলা বৈদ্যুতিক সংযোগ কিংবা ভেজা হাতে যন্ত্র স্পর্শ করার মতো বিষয় থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার
ঝুঁকি তৈরি হয়। এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত
করা এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা।
শকে শরীরে কী ঘটে
বিদ্যুৎ শরীরের মধ্য
দিয়ে প্রবাহিত হলে পেশিতে তীব্র সংকোচন, পোড়া, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এবং হৃদযন্ত্রের
ছন্দে গুরুতর সমস্যা হতে পারে। আঘাতের মাত্রা নির্ভর করে বিদ্যুতের পরিমাণ, শরীরের
কোন অংশ দিয়ে প্রবাহ গেছে এবং কতক্ষণ সংস্পর্শে ছিল—এসব বিষয়ের ওপর।
কখনো ত্বকে সামান্য পোড়া দাগ
দেখা গেলেও শরীরের ভেতরে গুরুতর ক্ষতি হতে পারে। বিদ্যুতের ধাক্কায় পড়ে গিয়ে মাথা,
ঘাড়, মেরুদণ্ড বা শরীরের অন্য অংশেও আঘাত লাগতে পারে। তাই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার
ঘটনাকে সামান্য দুর্ঘটনা মনে করা ঠিক নয়।
উদ্ধার করতে গিয়ে বড় বিপদ
কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে
তাকে দ্রুত টেনে সরানোর চেষ্টা করা স্বাভাবিক মনে হতে পারে। কিন্তু বিদ্যুতের সংযোগ
চালু থাকা অবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে খালি হাতে স্পর্শ করলে উদ্ধারকারীও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে
পারেন।
তাই প্রথমেই নিরাপদ উপায়ে বিদ্যুতের
উৎস বন্ধ
করতে হবে। সংযোগ বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তিকে সরাসরি স্পর্শ করা উচিত
নয়। বিদ্যুৎ বন্ধ
করার পরই তার কাছে যাওয়া নিরাপদ।
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন
করার পরও পরিস্থিতি অনুযায়ী সতর্কতার সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিরাপদ স্থানে সরাতে
হবে। বৈদ্যুতিক উৎস থেকে আলাদা করার প্রয়োজন হলে শুকনো ও উপযুক্ত অপরিবাহী বস্তু ব্যবহার
করা যেতে পারে। তবে পানিভেজা বা ধাতব কোনো বস্তু ব্যবহার করা যাবে না।
শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা জরুরি
বিদ্যুৎ বন্ধ করার পর আক্রান্ত
ব্যক্তি সাড়া দিচ্ছেন কি না এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিচ্ছেন কি না, তা দ্রুত পরীক্ষা
করতে হবে। তিনি অচেতন থাকলে বা স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিতে
হবে।
সিপিআর দেওয়ার প্রশিক্ষণ থাকলে
দ্রুত তা শুরু করা উচিত। প্রশিক্ষণ না থাকলেও জরুরি সেবার নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রাপ্তবয়স্কের
ক্ষেত্রে বুকের মাঝখানে দ্রুত ও জোরে চাপ দেওয়ার পদ্ধতি শুরু করা যেতে পারে। বুক চাপ
দেওয়ার গতি সাধারণত মিনিটে ১০০ থেকে ১২০ বার।
পোড়া থাকলে যা করবেন
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শরীরে পোড়া
তৈরি হলে আক্রান্ত স্থান ঘষাঘষি করা বা ফোসকা ফাটানো উচিত নয়। পোড়া জায়গায় নিজের মতো
করে কোনো মলম, তেল বা অন্য উপাদান লাগানোও ঠিক নয়।
গুরুতর পোড়া হলে পরিষ্কার গজ
বা কাপড় দিয়ে আলতোভাবে ঢেকে চিকিৎসা সহায়তা নিতে হবে। শরীরের কোথাও কাপড় পুড়ে ত্বকের
সঙ্গে লেগে থাকলে সেটি টেনে খুলতে যাবেন না।
এ ছাড়া বিদ্যুতের ধাক্কায় পড়ে
গিয়ে মাথা, ঘাড় বা পিঠে আঘাতের আশঙ্কা থাকলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অপ্রয়োজনে নড়াচড়া করানো
উচিত নয়।
স্বাভাবিক দেখালেও চিকিৎসা জরুরি হতে পারে
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর বাইরে
থেকে স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে আঘাত বা হৃদযন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি থাকতে পারে। বিশেষ
করে অজ্ঞান হওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড়, তীব্র ব্যথা, পোড়া বা পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার
মতো ঘটনা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে সাহায্য
করার সময় তাই তাড়াহুড়ো করে খালি হাতে ধরার বদলে আগে বিদ্যুতের উৎস বন্ধ করাই সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নেওয়াই দুর্ঘটনার
পর সঠিক পদক্ষেপ।

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিদ্যুৎ ছাড়া আধুনিক জীবনযাত্রা কল্পনা করা কঠিন। ঘরের আলো, ফ্যান, এসি থেকে শুরু করে রান্নার যন্ত্র, টেলিভিশন, কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন—প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো কাজে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু অসতর্কতা বা বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে এই প্রয়োজনীয় শক্তিই মুহূর্তে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
ছেঁড়া তার, ত্রুটিপূর্ণ সকেট
বা সুইচ, খোলা বৈদ্যুতিক সংযোগ কিংবা ভেজা হাতে যন্ত্র স্পর্শ করার মতো বিষয় থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার
ঝুঁকি তৈরি হয়। এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত
করা এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা।
শকে শরীরে কী ঘটে
বিদ্যুৎ শরীরের মধ্য
দিয়ে প্রবাহিত হলে পেশিতে তীব্র সংকোচন, পোড়া, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এবং হৃদযন্ত্রের
ছন্দে গুরুতর সমস্যা হতে পারে। আঘাতের মাত্রা নির্ভর করে বিদ্যুতের পরিমাণ, শরীরের
কোন অংশ দিয়ে প্রবাহ গেছে এবং কতক্ষণ সংস্পর্শে ছিল—এসব বিষয়ের ওপর।
কখনো ত্বকে সামান্য পোড়া দাগ
দেখা গেলেও শরীরের ভেতরে গুরুতর ক্ষতি হতে পারে। বিদ্যুতের ধাক্কায় পড়ে গিয়ে মাথা,
ঘাড়, মেরুদণ্ড বা শরীরের অন্য অংশেও আঘাত লাগতে পারে। তাই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার
ঘটনাকে সামান্য দুর্ঘটনা মনে করা ঠিক নয়।
উদ্ধার করতে গিয়ে বড় বিপদ
কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে
তাকে দ্রুত টেনে সরানোর চেষ্টা করা স্বাভাবিক মনে হতে পারে। কিন্তু বিদ্যুতের সংযোগ
চালু থাকা অবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে খালি হাতে স্পর্শ করলে উদ্ধারকারীও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে
পারেন।
তাই প্রথমেই নিরাপদ উপায়ে বিদ্যুতের
উৎস বন্ধ
করতে হবে। সংযোগ বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তিকে সরাসরি স্পর্শ করা উচিত
নয়। বিদ্যুৎ বন্ধ
করার পরই তার কাছে যাওয়া নিরাপদ।
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন
করার পরও পরিস্থিতি অনুযায়ী সতর্কতার সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিরাপদ স্থানে সরাতে
হবে। বৈদ্যুতিক উৎস থেকে আলাদা করার প্রয়োজন হলে শুকনো ও উপযুক্ত অপরিবাহী বস্তু ব্যবহার
করা যেতে পারে। তবে পানিভেজা বা ধাতব কোনো বস্তু ব্যবহার করা যাবে না।
শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা জরুরি
বিদ্যুৎ বন্ধ করার পর আক্রান্ত
ব্যক্তি সাড়া দিচ্ছেন কি না এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিচ্ছেন কি না, তা দ্রুত পরীক্ষা
করতে হবে। তিনি অচেতন থাকলে বা স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিতে
হবে।
সিপিআর দেওয়ার প্রশিক্ষণ থাকলে
দ্রুত তা শুরু করা উচিত। প্রশিক্ষণ না থাকলেও জরুরি সেবার নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রাপ্তবয়স্কের
ক্ষেত্রে বুকের মাঝখানে দ্রুত ও জোরে চাপ দেওয়ার পদ্ধতি শুরু করা যেতে পারে। বুক চাপ
দেওয়ার গতি সাধারণত মিনিটে ১০০ থেকে ১২০ বার।
পোড়া থাকলে যা করবেন
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শরীরে পোড়া
তৈরি হলে আক্রান্ত স্থান ঘষাঘষি করা বা ফোসকা ফাটানো উচিত নয়। পোড়া জায়গায় নিজের মতো
করে কোনো মলম, তেল বা অন্য উপাদান লাগানোও ঠিক নয়।
গুরুতর পোড়া হলে পরিষ্কার গজ
বা কাপড় দিয়ে আলতোভাবে ঢেকে চিকিৎসা সহায়তা নিতে হবে। শরীরের কোথাও কাপড় পুড়ে ত্বকের
সঙ্গে লেগে থাকলে সেটি টেনে খুলতে যাবেন না।
এ ছাড়া বিদ্যুতের ধাক্কায় পড়ে
গিয়ে মাথা, ঘাড় বা পিঠে আঘাতের আশঙ্কা থাকলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অপ্রয়োজনে নড়াচড়া করানো
উচিত নয়।
স্বাভাবিক দেখালেও চিকিৎসা জরুরি হতে পারে
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর বাইরে
থেকে স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে আঘাত বা হৃদযন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি থাকতে পারে। বিশেষ
করে অজ্ঞান হওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড়, তীব্র ব্যথা, পোড়া বা পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার
মতো ঘটনা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে সাহায্য
করার সময় তাই তাড়াহুড়ো করে খালি হাতে ধরার বদলে আগে বিদ্যুতের উৎস বন্ধ করাই সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নেওয়াই দুর্ঘটনার
পর সঠিক পদক্ষেপ।

আপনার মতামত লিখুন