সংবাদ

সিএনজি ফিড গ্যাসের দাম কমানোর আবেদন


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

সিএনজি ফিড গ্যাসের দাম কমানোর আবেদন
ছবি : সংগৃহীত

ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ও পরিচালন ব্যয়ের কারণে ব্যবসায় লোকসান হচ্ছে দাবি করে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর জন্য ফিড গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটারে ৬ টাকা কমানোর আবেদন করেছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি বলেছে, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের কারণে বাড়তি ব্যয় ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ না থাকায় অনেক সিএনজি স্টেশন আর্থিক সংকটে পড়েছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে এ আবেদন জানানো হয়। চিঠিতে ফিড গ্যাসের বর্তমান ক্রয়মূল্য প্রতি ঘনমিটারে ৩৫ টাকা থেকে ৬ টাকা কমিয়ে ২৯ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে।

সিএনজি (সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস) স্টেশনগুলো সরকারের গ্যাস বিতরণ কোম্পানি থেকে যে দামে গ্যাস কেনে, তাকেই ফিড গ্যাসের মূল্য বলা হয়ে থাকে। এতে সরকারের রাজস্ব আদায় কমলেও ভোক্তার গ্যাসের দামের কোনো পরিবর্তন হবে না। অর্থাৎ ভোক্তা এখন যে দামে সিএনজি কিনছে, তা অপরিবর্তিত থাকবে।

দীর্ঘদিনের দাবির পরও সরকার যেহেতু সিএনজি স্টেশনের গ্যাস বিক্রির মার্জিন বা কমিশন বাড়ায়নি তাই ফিড গ্যাসের দাম কমানোর বিষয়টি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করছে সংগঠনটি। তারা বলছে, যতদিন না সিএনজি স্টেশনের মার্জিন না বৃদ্ধি করা হয়, ততদিন ফিড গ্যাস তাদের কম মূল্যে দিতে হবে।

সংগঠনের সভাপতি মনোরঞ্জন ভক্ত স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, পরিবহন খাতে সিএনজি দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক সাশ্রয়ী ও বহুল ব্যবহৃত জ্বালানি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে সিএনজি ফিলিং স্টেশনের অন্যতম প্রধান পরিচালন ব্যয় বিদ্যুৎ। প্রাকৃতিক গ্যাসকে কম্প্রেস করে যানবাহনে সরবরাহ করতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। বিদ্যুতের দাম একাধিক দফায় বাড়ায় প্রতি ঘনমিটার সিএনজি সরবরাহে বিদ্যুৎ ব্যয়ও বেড়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ ব্যয়ের পাশাপাশি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ, ব্যাংকঋণের সুদ ও চার্জ, লাইসেন্স ও নবায়ন ব্যয়, ভূমি ও স্থাপনা ব্যয়, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। কিন্তু এসব ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিএনজি ব্যবসায়ীদের কমিশন বা মার্জিন বাড়েনি। ফলে অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয় বহন করতে গিয়ে স্টেশন মালিকদের ধারাবাহিক লোকসান হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সংগঠনটির ভাষ্য, সিএনজির ফিড গ্যাসের ক্রয়মূল্য এবং ভোক্তা পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য বিইআরসির নিয়ন্ত্রণাধীন। ফলে ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইচ্ছামতো সিএনজির বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করতে পারেন না। একদিকে বিদ্যুৎসহ অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের কারণে সেই বাড়তি ব্যয় ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

এ অবস্থায় কমিশন বা মার্জিন পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ফিড গ্যাসের দাম কমানোকে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, অবিলম্বে প্রতি ঘনমিটার ফিড গ্যাসের দাম ৬ টাকা কমানো হলে সিএনজি স্টেশনগুলোর চলমান লোকসান কিছুটা কমবে এবং বর্তমান বিক্রয়মূল্য অপরিবর্তিত রেখেই সেবা চালু রাখা সহজ হবে।

আবেদনপত্রে সংগঠনটি জানায়, এর আগে গত ১১ জুনও তারা বিইআরসির কাছে চিঠি দিয়ে সিএনজি ব্যবসায়ীদের ব্যয় বৃদ্ধি ও মার্জিনের অপ্রতুলতার বিষয়টি তুলে ধরেছিল। এবার জরুরি ভিত্তিতে ফিড গ্যাসের মূল্য কমানোর পাশাপাশি সিএনজি ব্যবসার প্রকৃত ব্যয় কাঠামো বিবেচনায় নিয়ে কমিশন বা মার্জিন পুনর্র্নিধারণের জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

চিঠিতে সিএনজি খাতের সঙ্গে অন্যান্য খাতে প্রাকৃতিক গ্যাসের বিদ্যমান দামের তুলনাও তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিইআরসির সর্বশেষ নির্ধারিত খাতভিত্তিক গ্যাসের মূল্যহারে ক্যাপটিভে প্রতি ঘনমিটার ৩১ টাকা ৫০ পয়সা, শিল্পে ৩০ টাকা এবং বাণিজ্যিক খাতে ৩০ টাকা ৫০ পয়সা। এর বিপরীতে সিএনজি খাতে ফিড গ্যাসের মূল্য ৩৫ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, সিএনজি খাত দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলকভাবে বেশি দামে ফিড গ্যাস কিনছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মূল্যে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে কমিশনের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে জরুরি ও সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে ফিড গ্যাসের মূল্য ৬ টাকা কমানোর আবেদন করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, এই মূল্য কমানোর প্রস্তাব কোনো স্থায়ী মূল্য কাঠামো পরিবর্তনের বিকল্প নয়। কমিশন বা মার্জিন পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সিএনজি ব্যবসার প্রকৃত ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ীভাবে কমিশন বা মার্জিন পুনর্নির্ধারণেরও অনুরোধ করেছে সংগঠনটি।

সিএনজি অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, তাদের দাবির উদ্দেশ্য শুধু ব্যবসায়ীদের লোকসান কমানো নয়; বরং সিএনজি স্টেশনগুলোর কার্যক্রম সচল রাখা এবং পরিবহন খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা। কোনো কোনো স্টেশন আর্থিক সংকটে কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হলে এর প্রভাব সাধারণ ভোক্তা ও গণপরিবহন খাতেও পড়তে পারে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটি বলছে, দীর্ঘদিন লোকসান বহন করা সম্ভব না হওয়ায় অনেক স্টেশন বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে কর্মসংস্থান ও পরিবহন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সংগঠনটির মহাসচিব ফারহান নূর সংবাদকে বলেন, “আমরা গত এক যুগ থেকে আমাদের মার্জিন বৃদ্ধির কথা বলে আসছি। এ সময় সাত বার বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। গ্যাস দিতে তো বিদ্যুৎ লাগে। এছাড়া, বেড়েছে স্টেশন পরিচালনার অন্য সব খরচ। এরমধ্যে গ্যাস বিক্রির মার্জিন একবারও বাড়ানো হয়নি। তাই মালিকরা বাধ্য হয়ে এই দাবি তুলেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে।” তিনি বলেন, “জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং পেট্রোবাংলা আমাদের দাবিকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করলেও মার্জিন বৃদ্ধির কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এজন্য আমরা বলছি, আমাদের কাছে কাল থেকে যে গ্যাসের দাম নেওয়া হয়, তা কমানো হোক।”

আবেদনের সঙ্গে বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি উৎপাদনে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ব্যয়ের প্রমাণ হিসেবে বিদ্যুৎ বিলের ৫৫ পৃষ্ঠার কপি সংযুক্ত করেছে সংগঠনটি। চিঠির অনুলিপি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান এবং তিতাস, বাখরাবাদ, কর্ণফুলী, জালালাবাদ ও পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস বিতরণ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সিএনজি ফিড গ্যাসের দাম কমানোর আবেদন

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ও পরিচালন ব্যয়ের কারণে ব্যবসায় লোকসান হচ্ছে দাবি করে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর জন্য ফিড গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটারে ৬ টাকা কমানোর আবেদন করেছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি বলেছে, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের কারণে বাড়তি ব্যয় ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ না থাকায় অনেক সিএনজি স্টেশন আর্থিক সংকটে পড়েছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে এ আবেদন জানানো হয়। চিঠিতে ফিড গ্যাসের বর্তমান ক্রয়মূল্য প্রতি ঘনমিটারে ৩৫ টাকা থেকে ৬ টাকা কমিয়ে ২৯ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে।

সিএনজি (সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস) স্টেশনগুলো সরকারের গ্যাস বিতরণ কোম্পানি থেকে যে দামে গ্যাস কেনে, তাকেই ফিড গ্যাসের মূল্য বলা হয়ে থাকে। এতে সরকারের রাজস্ব আদায় কমলেও ভোক্তার গ্যাসের দামের কোনো পরিবর্তন হবে না। অর্থাৎ ভোক্তা এখন যে দামে সিএনজি কিনছে, তা অপরিবর্তিত থাকবে।

দীর্ঘদিনের দাবির পরও সরকার যেহেতু সিএনজি স্টেশনের গ্যাস বিক্রির মার্জিন বা কমিশন বাড়ায়নি তাই ফিড গ্যাসের দাম কমানোর বিষয়টি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করছে সংগঠনটি। তারা বলছে, যতদিন না সিএনজি স্টেশনের মার্জিন না বৃদ্ধি করা হয়, ততদিন ফিড গ্যাস তাদের কম মূল্যে দিতে হবে।

সংগঠনের সভাপতি মনোরঞ্জন ভক্ত স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, পরিবহন খাতে সিএনজি দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক সাশ্রয়ী ও বহুল ব্যবহৃত জ্বালানি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে সিএনজি ফিলিং স্টেশনের অন্যতম প্রধান পরিচালন ব্যয় বিদ্যুৎ। প্রাকৃতিক গ্যাসকে কম্প্রেস করে যানবাহনে সরবরাহ করতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। বিদ্যুতের দাম একাধিক দফায় বাড়ায় প্রতি ঘনমিটার সিএনজি সরবরাহে বিদ্যুৎ ব্যয়ও বেড়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ ব্যয়ের পাশাপাশি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ, ব্যাংকঋণের সুদ ও চার্জ, লাইসেন্স ও নবায়ন ব্যয়, ভূমি ও স্থাপনা ব্যয়, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। কিন্তু এসব ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিএনজি ব্যবসায়ীদের কমিশন বা মার্জিন বাড়েনি। ফলে অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয় বহন করতে গিয়ে স্টেশন মালিকদের ধারাবাহিক লোকসান হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সংগঠনটির ভাষ্য, সিএনজির ফিড গ্যাসের ক্রয়মূল্য এবং ভোক্তা পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য বিইআরসির নিয়ন্ত্রণাধীন। ফলে ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইচ্ছামতো সিএনজির বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করতে পারেন না। একদিকে বিদ্যুৎসহ অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের কারণে সেই বাড়তি ব্যয় ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

এ অবস্থায় কমিশন বা মার্জিন পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ফিড গ্যাসের দাম কমানোকে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, অবিলম্বে প্রতি ঘনমিটার ফিড গ্যাসের দাম ৬ টাকা কমানো হলে সিএনজি স্টেশনগুলোর চলমান লোকসান কিছুটা কমবে এবং বর্তমান বিক্রয়মূল্য অপরিবর্তিত রেখেই সেবা চালু রাখা সহজ হবে।

আবেদনপত্রে সংগঠনটি জানায়, এর আগে গত ১১ জুনও তারা বিইআরসির কাছে চিঠি দিয়ে সিএনজি ব্যবসায়ীদের ব্যয় বৃদ্ধি ও মার্জিনের অপ্রতুলতার বিষয়টি তুলে ধরেছিল। এবার জরুরি ভিত্তিতে ফিড গ্যাসের মূল্য কমানোর পাশাপাশি সিএনজি ব্যবসার প্রকৃত ব্যয় কাঠামো বিবেচনায় নিয়ে কমিশন বা মার্জিন পুনর্র্নিধারণের জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

চিঠিতে সিএনজি খাতের সঙ্গে অন্যান্য খাতে প্রাকৃতিক গ্যাসের বিদ্যমান দামের তুলনাও তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিইআরসির সর্বশেষ নির্ধারিত খাতভিত্তিক গ্যাসের মূল্যহারে ক্যাপটিভে প্রতি ঘনমিটার ৩১ টাকা ৫০ পয়সা, শিল্পে ৩০ টাকা এবং বাণিজ্যিক খাতে ৩০ টাকা ৫০ পয়সা। এর বিপরীতে সিএনজি খাতে ফিড গ্যাসের মূল্য ৩৫ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, সিএনজি খাত দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলকভাবে বেশি দামে ফিড গ্যাস কিনছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মূল্যে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে কমিশনের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে জরুরি ও সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে ফিড গ্যাসের মূল্য ৬ টাকা কমানোর আবেদন করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, এই মূল্য কমানোর প্রস্তাব কোনো স্থায়ী মূল্য কাঠামো পরিবর্তনের বিকল্প নয়। কমিশন বা মার্জিন পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সিএনজি ব্যবসার প্রকৃত ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ীভাবে কমিশন বা মার্জিন পুনর্নির্ধারণেরও অনুরোধ করেছে সংগঠনটি।

সিএনজি অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, তাদের দাবির উদ্দেশ্য শুধু ব্যবসায়ীদের লোকসান কমানো নয়; বরং সিএনজি স্টেশনগুলোর কার্যক্রম সচল রাখা এবং পরিবহন খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা। কোনো কোনো স্টেশন আর্থিক সংকটে কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হলে এর প্রভাব সাধারণ ভোক্তা ও গণপরিবহন খাতেও পড়তে পারে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটি বলছে, দীর্ঘদিন লোকসান বহন করা সম্ভব না হওয়ায় অনেক স্টেশন বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে কর্মসংস্থান ও পরিবহন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সংগঠনটির মহাসচিব ফারহান নূর সংবাদকে বলেন, “আমরা গত এক যুগ থেকে আমাদের মার্জিন বৃদ্ধির কথা বলে আসছি। এ সময় সাত বার বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। গ্যাস দিতে তো বিদ্যুৎ লাগে। এছাড়া, বেড়েছে স্টেশন পরিচালনার অন্য সব খরচ। এরমধ্যে গ্যাস বিক্রির মার্জিন একবারও বাড়ানো হয়নি। তাই মালিকরা বাধ্য হয়ে এই দাবি তুলেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে।” তিনি বলেন, “জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং পেট্রোবাংলা আমাদের দাবিকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করলেও মার্জিন বৃদ্ধির কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এজন্য আমরা বলছি, আমাদের কাছে কাল থেকে যে গ্যাসের দাম নেওয়া হয়, তা কমানো হোক।”

আবেদনের সঙ্গে বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি উৎপাদনে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ব্যয়ের প্রমাণ হিসেবে বিদ্যুৎ বিলের ৫৫ পৃষ্ঠার কপি সংযুক্ত করেছে সংগঠনটি। চিঠির অনুলিপি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান এবং তিতাস, বাখরাবাদ, কর্ণফুলী, জালালাবাদ ও পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস বিতরণ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত