এশিয়া-প্যাসিফিক (এপিএসি) অঞ্চলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এআই-সংক্রান্ত সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে। ক্যাসপারস্কির অভ্যন্তরীণ গবেষণা অনুযায়ী, এ অঞ্চলের ১৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এআই-সংক্রান্ত দুর্বলতাকে বড় সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে সফটওয়্যারের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে হামলা ও ফিশিং এখনো প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান উদ্বেগ।
সফটওয়্যারের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে হামলাকে বড় ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে এপিএসি অঞ্চলের ২০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান। ফিশিংকে ঝুঁকি হিসেবে দেখছে ১৯ শতাংশ। এআই-সংক্রান্ত দুর্বলতাকে বড় ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা প্রতিষ্ঠানের হার ভারতে ২০ শতাংশ। এরপর মালয়েশিয়ায় ১৫ শতাংশ, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে ১৩ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ায় ১০ শতাংশ এবং চীনে ৭ শতাংশ।
কর্মক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি ও ডিপসিকের মতো তৃতীয় পক্ষের এআই টুল ব্যবহারের প্রবণতা, যা ‘শ্যাডো এআই’ নামে পরিচিত, নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। এপিএসি অঞ্চলের ৩০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এটিকে সাধারণ নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ভারতে এ হার ৩৬ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ৩৫ শতাংশ, ভিয়েতনামে ৩৩ শতাংশ, চীনে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ায় ২৪ শতাংশ এবং থাইল্যান্ডে ১৮ শতাংশ।
তবে অনেক প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় কর্মীদের তৃতীয় পক্ষের এআই টুল ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে। ক্যাসপারস্কির তথ্যমতে, এপিএসি অঞ্চলের ৬০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এসব টুল ব্যবহারে অনুমতি দিলেও কোম্পানির নাম বা অভ্যন্তরীণ নথি আপলোড না করা, নির্দিষ্ট নির্দেশনা এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণের মতো বিধিনিষেধ রেখেছে।
এদিকে এআই ব্যবহারের প্রস্তুতিও দ্রুত বাড়ছে। এ অঞ্চলের ৮৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম)-নির্ভর নিজস্ব এআই টুল নিয়ে আলোচনা, উন্নয়ন বা পরীক্ষামূলক কাজ করছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে এসব টুল নিজেদের কাজের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করেছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কাজের দক্ষতা বাড়ানো এবং মানবিক ভুল কমানোকে এআই ব্যবহারের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্যাসপারস্কির এআই টেকনোলজি রিসার্চ সেন্টারের গ্রুপ ম্যানেজার ভ্লাদিস্লাভ তুশকানোভ বলেন, এআই ব্যবহারের সঙ্গে এর দুর্বলতা ও ‘শ্যাডো এআই’ এর মতো নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই এআই ব্যবহারের পাশাপাশি কার্যকর সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
ক্যাসপারস্কির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যাড্রিয়ান হিয়া বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো এখন শুধু এআই ব্যবহার করবে কি না, তা নয়; বরং কীভাবে দায়িত্বশীলভাবে এআই গ্রহণ করা যায়, সেদিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এআই কৌশলের সঙ্গে শুরু থেকেই সাইবার নিরাপত্তাকে যুক্ত করা প্রয়োজন।

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এশিয়া-প্যাসিফিক (এপিএসি) অঞ্চলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এআই-সংক্রান্ত সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে। ক্যাসপারস্কির অভ্যন্তরীণ গবেষণা অনুযায়ী, এ অঞ্চলের ১৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এআই-সংক্রান্ত দুর্বলতাকে বড় সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে সফটওয়্যারের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে হামলা ও ফিশিং এখনো প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান উদ্বেগ।
সফটওয়্যারের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে হামলাকে বড় ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে এপিএসি অঞ্চলের ২০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান। ফিশিংকে ঝুঁকি হিসেবে দেখছে ১৯ শতাংশ। এআই-সংক্রান্ত দুর্বলতাকে বড় ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা প্রতিষ্ঠানের হার ভারতে ২০ শতাংশ। এরপর মালয়েশিয়ায় ১৫ শতাংশ, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে ১৩ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ায় ১০ শতাংশ এবং চীনে ৭ শতাংশ।
কর্মক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি ও ডিপসিকের মতো তৃতীয় পক্ষের এআই টুল ব্যবহারের প্রবণতা, যা ‘শ্যাডো এআই’ নামে পরিচিত, নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। এপিএসি অঞ্চলের ৩০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এটিকে সাধারণ নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ভারতে এ হার ৩৬ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ৩৫ শতাংশ, ভিয়েতনামে ৩৩ শতাংশ, চীনে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ায় ২৪ শতাংশ এবং থাইল্যান্ডে ১৮ শতাংশ।
তবে অনেক প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় কর্মীদের তৃতীয় পক্ষের এআই টুল ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে। ক্যাসপারস্কির তথ্যমতে, এপিএসি অঞ্চলের ৬০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এসব টুল ব্যবহারে অনুমতি দিলেও কোম্পানির নাম বা অভ্যন্তরীণ নথি আপলোড না করা, নির্দিষ্ট নির্দেশনা এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণের মতো বিধিনিষেধ রেখেছে।
এদিকে এআই ব্যবহারের প্রস্তুতিও দ্রুত বাড়ছে। এ অঞ্চলের ৮৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম)-নির্ভর নিজস্ব এআই টুল নিয়ে আলোচনা, উন্নয়ন বা পরীক্ষামূলক কাজ করছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে এসব টুল নিজেদের কাজের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করেছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কাজের দক্ষতা বাড়ানো এবং মানবিক ভুল কমানোকে এআই ব্যবহারের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্যাসপারস্কির এআই টেকনোলজি রিসার্চ সেন্টারের গ্রুপ ম্যানেজার ভ্লাদিস্লাভ তুশকানোভ বলেন, এআই ব্যবহারের সঙ্গে এর দুর্বলতা ও ‘শ্যাডো এআই’ এর মতো নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই এআই ব্যবহারের পাশাপাশি কার্যকর সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
ক্যাসপারস্কির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যাড্রিয়ান হিয়া বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো এখন শুধু এআই ব্যবহার করবে কি না, তা নয়; বরং কীভাবে দায়িত্বশীলভাবে এআই গ্রহণ করা যায়, সেদিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এআই কৌশলের সঙ্গে শুরু থেকেই সাইবার নিরাপত্তাকে যুক্ত করা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন