সংবাদ

উশুতে লাল-সবুজের পতাকা ওড়ালেন জিন্নাত


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম

উশুতে লাল-সবুজের পতাকা ওড়ালেন জিন্নাত

জাপানের আইচি ও নাগোয়াতে চলমান মর্যাদাপূর্ণ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বয়ে গেছে আনন্দের জোয়ার। টুর্নামেন্টের নারীদের ৫২ কেজি ওজন শ্রেণীতে দেশের হয়ে প্রথম পদকের সুসংবাদ নিয়ে এলেন কৃতি নারী উশুকা জিন্নাত আক্তার।

মঙ্গলবার কোয়ার্টার ফাইনালে জিন্নাতের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল এক ইন্দোনেশিয়ান উশুকার। কিন্তু নির্ধারিত ওজন মাপার সময় প্রতিপক্ষ প্রতিযোগী ওজন কমাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী ডিসকোয়ালিফাই বা অযোগ্য ঘোষিত হন।

কড়া এই নিয়মের সুবাদে সৌভাগ্য ও যোগ্যতার মিশেলে বাংলাদেশের জিন্নাত সরাসরি পৌঁছে যান লড়াইয়ের সেমিফাইনালে। আর এশিয়ান গেমসের মার্সিয়াল আর্ট বা উশুর নিয়ম অনুযায়ী শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত হওয়ার অর্থই হলো একটি ব্রোঞ্জ পদক শতভাগ নিশ্চিত হওয়া।

কোয়ার্টার ফাইনালের এই নাটকীয় পারের পর আগামীকাল বুধবার ফাইনালের টিকিট পেতে চীনের শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সেমিফাইনালে লড়াইয়ে নামবেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই কৃতি অ্যাথলেট। সুদূর নেত্রকোনার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা এই কিশোরী ২০১৯ সাল থেকে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে কখনো দ্বিতীয় হননি।

ঘরোয়া আসরে টানা ৭টি সোনা জেতার দারুণ রেকর্ড গড়ার পর এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক বড় আসরে খেলতে নেমেই সরাসরি পদক নিশ্চিত করে দেশে ফিরছেন তিনি। যেকোনো আন্তর্জাতিক আসরে প্রথমবার নেমেই পদক জেতা বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক।

পদক নিশ্চিত হওয়ার পর জাপান থেকে নিজের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জিন্নাত আক্তার বলেন, ‘আমি মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম ফাইটে নামার জন্য। যদিও শেষ পর্যন্ত রিংয়ে খেলা হয়নি, তবে দেশের জন্য পদক নিশ্চিত হয়েছে। এই মুহূর্তে আমি কতটা খুশি, তা কোনো ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।’

ভাগ্য পাশে থাকলেও জিন্নাতের এই কঠোর পরিশ্রম এবং নাছোড়বান্দা মানসিকতা বাংলাদেশের উশু খেলায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন করল। সমগ্র দেশবাসী এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে চীনের বিপক্ষে তার পরবর্তী ঐতিহাসিক সেমিফাইনাল লড়াইয়ের দিকে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


উশুতে লাল-সবুজের পতাকা ওড়ালেন জিন্নাত

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

জাপানের আইচি ও নাগোয়াতে চলমান মর্যাদাপূর্ণ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বয়ে গেছে আনন্দের জোয়ার। টুর্নামেন্টের নারীদের ৫২ কেজি ওজন শ্রেণীতে দেশের হয়ে প্রথম পদকের সুসংবাদ নিয়ে এলেন কৃতি নারী উশুকা জিন্নাত আক্তার।

মঙ্গলবার কোয়ার্টার ফাইনালে জিন্নাতের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল এক ইন্দোনেশিয়ান উশুকার। কিন্তু নির্ধারিত ওজন মাপার সময় প্রতিপক্ষ প্রতিযোগী ওজন কমাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী ডিসকোয়ালিফাই বা অযোগ্য ঘোষিত হন।

কড়া এই নিয়মের সুবাদে সৌভাগ্য ও যোগ্যতার মিশেলে বাংলাদেশের জিন্নাত সরাসরি পৌঁছে যান লড়াইয়ের সেমিফাইনালে। আর এশিয়ান গেমসের মার্সিয়াল আর্ট বা উশুর নিয়ম অনুযায়ী শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত হওয়ার অর্থই হলো একটি ব্রোঞ্জ পদক শতভাগ নিশ্চিত হওয়া।

কোয়ার্টার ফাইনালের এই নাটকীয় পারের পর আগামীকাল বুধবার ফাইনালের টিকিট পেতে চীনের শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সেমিফাইনালে লড়াইয়ে নামবেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই কৃতি অ্যাথলেট। সুদূর নেত্রকোনার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা এই কিশোরী ২০১৯ সাল থেকে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে কখনো দ্বিতীয় হননি।

ঘরোয়া আসরে টানা ৭টি সোনা জেতার দারুণ রেকর্ড গড়ার পর এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক বড় আসরে খেলতে নেমেই সরাসরি পদক নিশ্চিত করে দেশে ফিরছেন তিনি। যেকোনো আন্তর্জাতিক আসরে প্রথমবার নেমেই পদক জেতা বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক।

পদক নিশ্চিত হওয়ার পর জাপান থেকে নিজের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জিন্নাত আক্তার বলেন, ‘আমি মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম ফাইটে নামার জন্য। যদিও শেষ পর্যন্ত রিংয়ে খেলা হয়নি, তবে দেশের জন্য পদক নিশ্চিত হয়েছে। এই মুহূর্তে আমি কতটা খুশি, তা কোনো ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।’

ভাগ্য পাশে থাকলেও জিন্নাতের এই কঠোর পরিশ্রম এবং নাছোড়বান্দা মানসিকতা বাংলাদেশের উশু খেলায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন করল। সমগ্র দেশবাসী এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে চীনের বিপক্ষে তার পরবর্তী ঐতিহাসিক সেমিফাইনাল লড়াইয়ের দিকে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত