বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের স্বস্তি নেমে এসেছে। সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের জোরালো সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে হু হু করে কমছে জ্বালানি তেলের দাম। গত দুই সপ্তাহের মধ্যে তেলের দাম এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে।
বুধবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৯ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সামান্য বাড়লেও তা ১০০ ডলারের নিচেই স্থির ছিল। এ সময় ব্রেন্টের দাম মাত্র ১৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৯ দশমিক ৪১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম পতন ঘটে নেমেছিল ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৩৬ ডলারে, যা ছিল গত ৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে সর্বকালের সর্বনিম্ন। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের বা ডব্লিউটিআইয়ের দামও ৫০ সেন্ট কমে ৯০ দশমিক ২ ডলারে নেমে আসে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম হ্রাসের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে প্রধান উৎপাদক দেশগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থার দ্রুত উন্নতি। ড্রোন হামলার জেরে গত ১১ সেপ্টেম্বর বন্ধ হয়ে যাওয়া সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম মঙ্গলবার থেকে সফলভাবে আবার শুরু হয়েছে।
এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠানো হচ্ছে, যা বিশ্ব মোট সরবরাহের প্রায় চার শতাংশের সমান। একই সঙ্গে ইরাকও তাদের তেল রপ্তানি বাড়িয়ে বর্তমানে প্রতিদিন ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করছে এবং তুরস্কের মাধ্যমে তা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালি নিয়ে স্বস্তির বার্তা দিয়েছেন খোদ ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলে মাত্র সাত দিনের মধ্যেই এই কৌশলগত প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখলেও তিনি স্বীকার করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তার দূতেরা অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সামগ্রিক এই কূটনৈতিক সমাধানের ইতিবাচক সম্ভাবনাই বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলে গেলে তেলের বাজারে আবারও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের স্বস্তি নেমে এসেছে। সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের জোরালো সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে হু হু করে কমছে জ্বালানি তেলের দাম। গত দুই সপ্তাহের মধ্যে তেলের দাম এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে।
বুধবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৯ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সামান্য বাড়লেও তা ১০০ ডলারের নিচেই স্থির ছিল। এ সময় ব্রেন্টের দাম মাত্র ১৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৯ দশমিক ৪১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম পতন ঘটে নেমেছিল ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৩৬ ডলারে, যা ছিল গত ৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে সর্বকালের সর্বনিম্ন। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের বা ডব্লিউটিআইয়ের দামও ৫০ সেন্ট কমে ৯০ দশমিক ২ ডলারে নেমে আসে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম হ্রাসের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে প্রধান উৎপাদক দেশগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থার দ্রুত উন্নতি। ড্রোন হামলার জেরে গত ১১ সেপ্টেম্বর বন্ধ হয়ে যাওয়া সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম মঙ্গলবার থেকে সফলভাবে আবার শুরু হয়েছে।
এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠানো হচ্ছে, যা বিশ্ব মোট সরবরাহের প্রায় চার শতাংশের সমান। একই সঙ্গে ইরাকও তাদের তেল রপ্তানি বাড়িয়ে বর্তমানে প্রতিদিন ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করছে এবং তুরস্কের মাধ্যমে তা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালি নিয়ে স্বস্তির বার্তা দিয়েছেন খোদ ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলে মাত্র সাত দিনের মধ্যেই এই কৌশলগত প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখলেও তিনি স্বীকার করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তার দূতেরা অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সামগ্রিক এই কূটনৈতিক সমাধানের ইতিবাচক সম্ভাবনাই বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলে গেলে তেলের বাজারে আবারও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন