জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে চরম কূটনৈতিক লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে। দ্বীপপুঞ্জটি ব্রিটিশ ভূখণ্ড এবং ভবিষ্যতেও তা অপরিবর্তিত থাকবে বলে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম।
মঙ্গলবার বিশ্বনেতাদের সামনে দেওয়া জোরালো বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ব্রিটিশ ভূখণ্ডগুলোর অধিকার রক্ষায় যুক্তরাজ্য সবসময়ই অত্যন্ত কঠোর ও অনমনীয় অবস্থানে থাকবে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জাতিসংঘের সনদ রক্ষা করার প্রসঙ্গ টেনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল কোনো নির্দিষ্ট দেশের ক্ষেত্রে নয়, বরং বিশ্বজুড়ে সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবেলায় যুক্তরাজ্য সমানভাবে আপসহীন ভূমিকা পালন করবে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরপরই জাতিসংঘে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিদল। আর্জেন্টিনায় ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে ‘মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ’ হিসেবে উল্লেখ করে জানানো হয় যে, দক্ষিণ জর্জিয়া ও দক্ষিণ স্যান্ডউইচ দ্বীপপুঞ্জসহ এই সমগ্র অঞ্চলটি তাদেরই সার্বভৌম ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১৮৩৩ সালে শক্তি প্রয়োগ করে বৈধ আর্জেন্টাইন কর্তৃপক্ষকে জোরপূর্বক হটিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে দ্বীপপুঞ্জটি দখল করেছিল ব্রিটিশ বাহিনী। সেই থেকেই ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জটি যুক্তরাজ্যের চরম ‘অবৈধ দখলে’ রয়েছে বলে দাবি করে বুয়েনস আইরেস।
ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের ডাক দিয়ে জাতিসংঘে পেশ করা বিভিন্ন পুরনো প্রস্তাবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারা শান্তিপূর্ণ উপায়ে আলোচনার মাধ্যমে এই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের একটি সম্মানজনক ও স্থায়ী সমাধান দাবি করেন।
মূলত আর্জেন্টিনার উপকূল থেকে মাত্র ৪৮৩ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই কৌশলগত দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ এবং এর আশপাশের সাগরে জ্বালানি সম্পদ আহরণকে কেন্দ্র করেই দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক এই দ্বন্দ্ব বর্তমানে চরমে পৌঁছেছে।
সম্প্রতি উত্তর মালভিনাস অববাহিকায় ব্রিটিশ লাইসেন্সের আওতায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানির তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম চূড়ান্ত উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
আর্জেন্টিনার জাতীয় সম্পদ বেআইনিভাবে লুণ্ঠনের অভিযোগ এনে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বহুজাতিক জ্বালানি কোম্পানির বিরুদ্ধে দেশটির ফেডারেল আদালতে ফৌজদারি মামলা ঠুকে দিয়েছে আর্জেন্টিনা।
এমতাবস্থায়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দুই দেশের এই অনমনীয় অবস্থান বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন কোনো বড় উত্তেজনার জন্ম দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে চরম কূটনৈতিক লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে। দ্বীপপুঞ্জটি ব্রিটিশ ভূখণ্ড এবং ভবিষ্যতেও তা অপরিবর্তিত থাকবে বলে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম।
মঙ্গলবার বিশ্বনেতাদের সামনে দেওয়া জোরালো বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ব্রিটিশ ভূখণ্ডগুলোর অধিকার রক্ষায় যুক্তরাজ্য সবসময়ই অত্যন্ত কঠোর ও অনমনীয় অবস্থানে থাকবে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জাতিসংঘের সনদ রক্ষা করার প্রসঙ্গ টেনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল কোনো নির্দিষ্ট দেশের ক্ষেত্রে নয়, বরং বিশ্বজুড়ে সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবেলায় যুক্তরাজ্য সমানভাবে আপসহীন ভূমিকা পালন করবে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরপরই জাতিসংঘে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিদল। আর্জেন্টিনায় ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে ‘মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ’ হিসেবে উল্লেখ করে জানানো হয় যে, দক্ষিণ জর্জিয়া ও দক্ষিণ স্যান্ডউইচ দ্বীপপুঞ্জসহ এই সমগ্র অঞ্চলটি তাদেরই সার্বভৌম ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১৮৩৩ সালে শক্তি প্রয়োগ করে বৈধ আর্জেন্টাইন কর্তৃপক্ষকে জোরপূর্বক হটিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে দ্বীপপুঞ্জটি দখল করেছিল ব্রিটিশ বাহিনী। সেই থেকেই ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জটি যুক্তরাজ্যের চরম ‘অবৈধ দখলে’ রয়েছে বলে দাবি করে বুয়েনস আইরেস।
ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের ডাক দিয়ে জাতিসংঘে পেশ করা বিভিন্ন পুরনো প্রস্তাবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারা শান্তিপূর্ণ উপায়ে আলোচনার মাধ্যমে এই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের একটি সম্মানজনক ও স্থায়ী সমাধান দাবি করেন।
মূলত আর্জেন্টিনার উপকূল থেকে মাত্র ৪৮৩ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই কৌশলগত দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ এবং এর আশপাশের সাগরে জ্বালানি সম্পদ আহরণকে কেন্দ্র করেই দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক এই দ্বন্দ্ব বর্তমানে চরমে পৌঁছেছে।
সম্প্রতি উত্তর মালভিনাস অববাহিকায় ব্রিটিশ লাইসেন্সের আওতায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানির তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম চূড়ান্ত উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
আর্জেন্টিনার জাতীয় সম্পদ বেআইনিভাবে লুণ্ঠনের অভিযোগ এনে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বহুজাতিক জ্বালানি কোম্পানির বিরুদ্ধে দেশটির ফেডারেল আদালতে ফৌজদারি মামলা ঠুকে দিয়েছে আর্জেন্টিনা।
এমতাবস্থায়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দুই দেশের এই অনমনীয় অবস্থান বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন কোনো বড় উত্তেজনার জন্ম দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন