সংবাদ

জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা প্রথমবার লাখ ছাড়াল


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম

জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা প্রথমবার লাখ ছাড়াল

দীর্ঘায়ুর দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত দেশ জাপানে নতুন রেকর্ড হয়েছে। দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো এক লাখ ছাড়িয়েছে চলতি বছর শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে লাখ হাজার ৬৭৭ জনে

জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার শতবর্ষীর সংখ্যা বেড়েছে হাজার ৯১৪ জন এদের মধ্যে নারী ৯৪ হাজার ২৯৮ জন এবং পুরুষ ১৩ হাজার ৩৭৯ জন অর্থাৎ শতবর্ষীদের প্রায় ৮৮ শতাংশই নারী

৫৬ বছর ধরে বাড়ছে শতবর্ষীর সংখ্যা

জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা নতুন নয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, টানা ৫৬ বছর ধরে দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনইচিরো উয়েনো দীর্ঘ সক্রিয় জীবনযাপনকে ইতিবাচক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সরকারের দৃষ্টিতে উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা, জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তন, খাদ্যাভ্যাস এবং পুষ্টির উন্নতি মানুষের আয়ু বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

তবে দীর্ঘায়ুর এই সাফল্যের পাশাপাশি জাপানের সামনে তৈরি হয়েছে ভিন্ন ধরনের জনমিতিক চ্যালেঞ্জ।

দীর্ঘ জীবন, কিন্তু কমছে কর্মক্ষম মানুষ

জাপানে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়লেও একই সময়ে দেশটির জন্মহার দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমুখী। ফলে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমছে। এর প্রভাব পড়ছে পেনশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বয়স্কদের পরিচর্যার ব্যয়ের ওপর।

দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৯ দশমিক শতাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি সরকারি হিসাবে বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় কোটি ৬২ লাখ

অর্থাৎ শতবর্ষীর সংখ্যা বাড়ার ঘটনা একদিকে দীর্ঘায়ুর চিত্র তুলে ধরছে, অন্যদিকে জাপানের দ্রুত বয়স্ক হয়ে ওঠা সমাজের বাস্তবতাও সামনে আনছে।

২০৭০ সালে পরিস্থিতি আরও বদলাতে পারে

জাপানের জনসংখ্যা গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইপিএসএসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৭০ সালের মধ্যে দেশটির মোট জনসংখ্যা কমে প্রায় কোটি ৭০ লাখে নেমে আসতে পারে।

সেই সময় মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৯ শতাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি হতে পারে। অর্থাৎ আগামী কয়েক দশকে প্রবীণ মানুষের অনুপাত আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শ্রমিক সংকট ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন খাতে

বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ায় শ্রমবাজারেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। নির্মাণ, কৃষি, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা সামাজিক পরিচর্যার মতো বিভিন্ন খাতে কর্মী সংকট ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে।

গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও জটিল। তরুণদের বড় অংশ কাজ সুযোগের সন্ধানে শহরমুখী হওয়ায় অনেক এলাকায় বয়স্ক মানুষের অনুপাত বাড়ছে এবং স্থানীয় শ্রমশক্তি সংকুচিত হচ্ছে।

সন্তান নেওয়ার প্রণোদনা দিয়েও মিলছে না দ্রুত সমাধান

জনসংখ্যা সংকট সামাল দিতে জাপান সরকার শিশু ভাতা, ভর্তুকিযুক্ত শিশু পরিচর্যা এবং পিতামাতার ছুটিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করেছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারগুলোর আর্থিক সামাজিক চাপ কমানো।

তবে এসব পদক্ষেপের পরও দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যা হ্রাসের প্রবণতা এখনো থামেনি। ফলে একদিকে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির নতুন রেকর্ড, অন্যদিকে জন্মহার কমে যাওয়া শ্রমিক সংকট-দুই বিপরীত বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে জাপান।

সব মিলিয়ে, জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা এক লাখ ছাড়ানোর ঘটনা শুধু দীর্ঘায়ুর একটি মাইলফলক নয়; দেশটির বদলে যাওয়া জনসংখ্যার কাঠামোরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা প্রথমবার লাখ ছাড়াল

প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দীর্ঘায়ুর দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত দেশ জাপানে নতুন রেকর্ড হয়েছে। দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো এক লাখ ছাড়িয়েছে চলতি বছর শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে লাখ হাজার ৬৭৭ জনে

জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার শতবর্ষীর সংখ্যা বেড়েছে হাজার ৯১৪ জন এদের মধ্যে নারী ৯৪ হাজার ২৯৮ জন এবং পুরুষ ১৩ হাজার ৩৭৯ জন অর্থাৎ শতবর্ষীদের প্রায় ৮৮ শতাংশই নারী

৫৬ বছর ধরে বাড়ছে শতবর্ষীর সংখ্যা

জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা নতুন নয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, টানা ৫৬ বছর ধরে দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনইচিরো উয়েনো দীর্ঘ সক্রিয় জীবনযাপনকে ইতিবাচক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সরকারের দৃষ্টিতে উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা, জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তন, খাদ্যাভ্যাস এবং পুষ্টির উন্নতি মানুষের আয়ু বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

তবে দীর্ঘায়ুর এই সাফল্যের পাশাপাশি জাপানের সামনে তৈরি হয়েছে ভিন্ন ধরনের জনমিতিক চ্যালেঞ্জ।

দীর্ঘ জীবন, কিন্তু কমছে কর্মক্ষম মানুষ

জাপানে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়লেও একই সময়ে দেশটির জন্মহার দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমুখী। ফলে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমছে। এর প্রভাব পড়ছে পেনশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বয়স্কদের পরিচর্যার ব্যয়ের ওপর।

দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৯ দশমিক শতাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি সরকারি হিসাবে বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় কোটি ৬২ লাখ

অর্থাৎ শতবর্ষীর সংখ্যা বাড়ার ঘটনা একদিকে দীর্ঘায়ুর চিত্র তুলে ধরছে, অন্যদিকে জাপানের দ্রুত বয়স্ক হয়ে ওঠা সমাজের বাস্তবতাও সামনে আনছে।

২০৭০ সালে পরিস্থিতি আরও বদলাতে পারে

জাপানের জনসংখ্যা গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইপিএসএসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৭০ সালের মধ্যে দেশটির মোট জনসংখ্যা কমে প্রায় কোটি ৭০ লাখে নেমে আসতে পারে।

সেই সময় মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৯ শতাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি হতে পারে। অর্থাৎ আগামী কয়েক দশকে প্রবীণ মানুষের অনুপাত আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শ্রমিক সংকট ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন খাতে

বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ায় শ্রমবাজারেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। নির্মাণ, কৃষি, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা সামাজিক পরিচর্যার মতো বিভিন্ন খাতে কর্মী সংকট ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে।

গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও জটিল। তরুণদের বড় অংশ কাজ সুযোগের সন্ধানে শহরমুখী হওয়ায় অনেক এলাকায় বয়স্ক মানুষের অনুপাত বাড়ছে এবং স্থানীয় শ্রমশক্তি সংকুচিত হচ্ছে।

সন্তান নেওয়ার প্রণোদনা দিয়েও মিলছে না দ্রুত সমাধান

জনসংখ্যা সংকট সামাল দিতে জাপান সরকার শিশু ভাতা, ভর্তুকিযুক্ত শিশু পরিচর্যা এবং পিতামাতার ছুটিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করেছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারগুলোর আর্থিক সামাজিক চাপ কমানো।

তবে এসব পদক্ষেপের পরও দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যা হ্রাসের প্রবণতা এখনো থামেনি। ফলে একদিকে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির নতুন রেকর্ড, অন্যদিকে জন্মহার কমে যাওয়া শ্রমিক সংকট-দুই বিপরীত বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে জাপান।

সব মিলিয়ে, জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা এক লাখ ছাড়ানোর ঘটনা শুধু দীর্ঘায়ুর একটি মাইলফলক নয়; দেশটির বদলে যাওয়া জনসংখ্যার কাঠামোরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত