সংবাদ

রেজিনের নামে আঠা: বিপুল রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা


প্রতিনিধি, বেনাপোল (যশোর)
প্রতিনিধি, বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম

রেজিনের নামে আঠা: বিপুল রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা
রেজিনের নামে আঠা আমদানি, ২.৩৯ কোটি রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা

বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্যের ভুল শ্রেণিবিন্যাস দেখিয়ে বড় অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা উদ্ঘাটন করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। আমদানিকারক ওএসএল ফার্মা লিমিটেডের একটি চালানে ইপোক্সাইড রেজিন ঘোষণা করে কম শুল্ককরযুক্ত পণ্য শ্রেণিকরণ ব্যবহার করা হলেও পরীক্ষায় সেটিকে প্রস্তুত আঠা হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

এ ঘটনায় ১ কোটি ১৭ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা ৬ পয়সা রাজস্ব ঘাটতি, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও বিমোচন জরিমানাসহ সরকারের মোট ২ কোটি ৩৯ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমদানিকারকের ৩০ হাজার ৩৬০ কেজি ঘোষিত নীট ওজনের পণ্যচালানটি কায়িক পরীক্ষার আওতায় আনে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের বেনাপোল সার্কেল।

আমদানিকারক চালানটিতে পণ্যটি ইপোক্সাইড রেজিন হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। এ ক্ষেত্রে পণ্যটির শুল্কহার ৩৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ঘোষিত শ্রেণিকরণ অনুযায়ী চালানটির শুল্ক-কর ছিল ১ কোটি ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭০ টাকা।

কায়িক পরীক্ষায় চালানটিতে দুই ধরনের রাসায়নিক পণ্য পাওয়া যায়। প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে নমুনা খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে নমুনা দুটি যথাক্রমে ইপোক্সাইড রেজিন ও পলিআমাইড রেজিন হিসেবে শনাক্ত হয়।

পরীক্ষায় আরও দেখা যায়, নির্দিষ্ট অনুপাতে পণ্য দুটি একত্রে মিশ্রিত করলে আঠা তৈরি হয়। শুল্ক তালিকার সংশ্লিষ্ট বিধান ও ব্যাখ্যামূলক নোট অনুযায়ী, একই চালানে একত্রে উপস্থাপিত এবং পরস্পরের পরিপূরক এসব উপাদান নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে সরাসরি একক প্রস্তুত পণ্য হিসেবে ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় চালানটি প্রস্তুত আঠা হিসেবে শ্রেণিবিন্যাসযোগ্য। এর সঠিক পণ্য শ্রেণিকরণে মোট শুল্ক হার ৭৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।

সঠিক পণ্য শ্রেণিকরণ ও মোট শুল্ক হার প্রয়োগের পর আরও ১ কোটি ১৭ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি উদঘাটিত হয়। পরে কাস্টমস হাউস, বেনাপোলের বিচারাদেশে ১ কোটি ১৭ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা রাজস্ব ফাঁকি বা অতিরিক্ত শুল্ক-কর, ১ কোটি ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা বিমোচন জরিমানা নির্ধারণ করা হয়।

ফলে কম শুল্কহারযুক্ত পণ্য শ্রেণিকরণ ব্যবহার করে বড় অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পণ্যের কায়িক পরীক্ষা, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগারে নমুনা বিশ্লেষণ এবং শুল্ক তালিকার যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে ঘটনাটি উদঘাটন করা হয়েছে।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, কোনো পণ্যের শুল্ক নির্ধারণে শুধু আমদানিকারকের দেওয়া নাম বিবেচনা করা হয় না। পণ্যের প্রকৃত গঠন, ব্যবহার ও শ্রেণিও যাচাই করা হয়। এ চালানের ক্ষেত্রেও পরীক্ষায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পণ্যটির সঠিক শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়েছে। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রেজিনের নামে আঠা: বিপুল রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্যের ভুল শ্রেণিবিন্যাস দেখিয়ে বড় অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা উদ্ঘাটন করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। আমদানিকারক ওএসএল ফার্মা লিমিটেডের একটি চালানে ইপোক্সাইড রেজিন ঘোষণা করে কম শুল্ককরযুক্ত পণ্য শ্রেণিকরণ ব্যবহার করা হলেও পরীক্ষায় সেটিকে প্রস্তুত আঠা হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

এ ঘটনায় ১ কোটি ১৭ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা ৬ পয়সা রাজস্ব ঘাটতি, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও বিমোচন জরিমানাসহ সরকারের মোট ২ কোটি ৩৯ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমদানিকারকের ৩০ হাজার ৩৬০ কেজি ঘোষিত নীট ওজনের পণ্যচালানটি কায়িক পরীক্ষার আওতায় আনে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের বেনাপোল সার্কেল।

আমদানিকারক চালানটিতে পণ্যটি ইপোক্সাইড রেজিন হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। এ ক্ষেত্রে পণ্যটির শুল্কহার ৩৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ঘোষিত শ্রেণিকরণ অনুযায়ী চালানটির শুল্ক-কর ছিল ১ কোটি ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭০ টাকা।

কায়িক পরীক্ষায় চালানটিতে দুই ধরনের রাসায়নিক পণ্য পাওয়া যায়। প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে নমুনা খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে নমুনা দুটি যথাক্রমে ইপোক্সাইড রেজিন ও পলিআমাইড রেজিন হিসেবে শনাক্ত হয়।

পরীক্ষায় আরও দেখা যায়, নির্দিষ্ট অনুপাতে পণ্য দুটি একত্রে মিশ্রিত করলে আঠা তৈরি হয়। শুল্ক তালিকার সংশ্লিষ্ট বিধান ও ব্যাখ্যামূলক নোট অনুযায়ী, একই চালানে একত্রে উপস্থাপিত এবং পরস্পরের পরিপূরক এসব উপাদান নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে সরাসরি একক প্রস্তুত পণ্য হিসেবে ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় চালানটি প্রস্তুত আঠা হিসেবে শ্রেণিবিন্যাসযোগ্য। এর সঠিক পণ্য শ্রেণিকরণে মোট শুল্ক হার ৭৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।

সঠিক পণ্য শ্রেণিকরণ ও মোট শুল্ক হার প্রয়োগের পর আরও ১ কোটি ১৭ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি উদঘাটিত হয়। পরে কাস্টমস হাউস, বেনাপোলের বিচারাদেশে ১ কোটি ১৭ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা রাজস্ব ফাঁকি বা অতিরিক্ত শুল্ক-কর, ১ কোটি ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা বিমোচন জরিমানা নির্ধারণ করা হয়।

ফলে কম শুল্কহারযুক্ত পণ্য শ্রেণিকরণ ব্যবহার করে বড় অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পণ্যের কায়িক পরীক্ষা, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগারে নমুনা বিশ্লেষণ এবং শুল্ক তালিকার যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে ঘটনাটি উদঘাটন করা হয়েছে।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, কোনো পণ্যের শুল্ক নির্ধারণে শুধু আমদানিকারকের দেওয়া নাম বিবেচনা করা হয় না। পণ্যের প্রকৃত গঠন, ব্যবহার ও শ্রেণিও যাচাই করা হয়। এ চালানের ক্ষেত্রেও পরীক্ষায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পণ্যটির সঠিক শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়েছে। 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত