সংবাদ

স্বাভাবিক হচ্ছে গ্যাসের সরবরাহ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

স্বাভাবিক হচ্ছে গ্যাসের সরবরাহ

কক্সবাজারের মহেশখালী ভাসমান টার্মিনালে কার্গো থেকে এলএনজি খালাস পুনরায় শুরু হয়েছে। এর ফলে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পেট্রোবাংলা এ তথ্য জানিয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল থাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ কমে গিয়েছিল। এতে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহও কমে যায়। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কিছু এলাকায় রান্নার চুলায় গ্যাসের চাপ কমে যায়।

প্রায় দুই মাস পর আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে এসেছিল গ্যাস সরবরাহ। গত ১৬ আগস্ট থেকেই মহেশখালীর দুটো ভাসমান টার্মিনাল পুরো সক্ষমতায় এলএনজি সরবরাহ করছিল।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) থেকে পাঠানো পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর করায় বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে এলএনজি সরবরাহ কমায় সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ কিছুটা কমেছে।

বঙ্গোপসাগরে আবহাওয়ার উন্নতি হলে দ্রুততম সময়ে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। অনিবার্য কারণে গ্যাস সরবরাহ কমায় গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে পেট্রোবাংলা।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ি, দেশে দৈনিক মোট গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দৈনিক গড়ে সরবরাহ করা হয় ২৬০ কোটি ঘনফুটের মত।

এরমধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে আসে দৈনিক ১৫৫ থেকে ১৬৫ কোটি ঘনফুটের মতো। কক্সবাজারের মহেশখালিতে স্থাপিত মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট ও বেসরকারি কোম্পানি সামিটের পৃথক দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে আসে দৈনিক মোট ৯৫ থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুট। দৈনিক ঘাটতি থাকে প্রায় ১২০ কোটি ঘনফুটের মতো।

গত বুধবারও সরবরাহ করা হয়েছে ২৬০ কোটি ঘনফুট। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সরবরাহ কমে দাঁড়িয়েছে ২২০ কোটি ঘনফুটে। সে হিসাবে ৪০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ কমে গেছে।

সূত্র বলছে, এলএনজি ফুরিয়ে যাওয়ায় একটি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায়। এলএনজি নিয়ে নতুন জাহাজ এলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে টার্মিনালে স্থানান্তর করা যায়নি। এর পর থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে ৫৯ কোটি ঘনফুট। কয়েক দিন ধরে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছিল।

দেশে গ্যাস সংকট দীর্ঘদিনের। দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) দিয়ে চাহিদার দুই-তৃতীয়াংশ মেটানো সম্ভব হচ্ছে। এক-তৃতীয়াংশ ঘাটতির কারণে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশপাশি শিল্পোৎপাদনেও ভাটা পড়েছে।

গত ২১ জুলাই মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সেটি থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসে। দেশে তীব্র গ্যাস-সংকট দেখা দেয়। এতে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশপাশি শিল্পোৎপাদনে ধ্বস নামে। গ্যাসের অভাবে অনেক সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং অনেক এলাকায় আবাসিকে রান্নার চুলা বন্ধ হয়ে যায়।

গত ১৫ আগস্ট ওই টার্মিনাল পুরোদমে গ্যাস সরবরাহের জন্য তৈরি হলেও আমদানি করা জাহাজ না আসায় সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছিল না। এ মাসে আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার পর সরবরাহ বাড়ানো হয়।

বৃহস্পতিবার সাগর উত্তল থাকায় এলএনজি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলেও শুক্রবার সকালে তা পুনরায় স্বাভাবিক হয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


স্বাভাবিক হচ্ছে গ্যাসের সরবরাহ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের মহেশখালী ভাসমান টার্মিনালে কার্গো থেকে এলএনজি খালাস পুনরায় শুরু হয়েছে। এর ফলে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পেট্রোবাংলা এ তথ্য জানিয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল থাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ কমে গিয়েছিল। এতে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহও কমে যায়। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কিছু এলাকায় রান্নার চুলায় গ্যাসের চাপ কমে যায়।

প্রায় দুই মাস পর আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে এসেছিল গ্যাস সরবরাহ। গত ১৬ আগস্ট থেকেই মহেশখালীর দুটো ভাসমান টার্মিনাল পুরো সক্ষমতায় এলএনজি সরবরাহ করছিল।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) থেকে পাঠানো পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর করায় বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে এলএনজি সরবরাহ কমায় সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ কিছুটা কমেছে।

বঙ্গোপসাগরে আবহাওয়ার উন্নতি হলে দ্রুততম সময়ে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। অনিবার্য কারণে গ্যাস সরবরাহ কমায় গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে পেট্রোবাংলা।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ি, দেশে দৈনিক মোট গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দৈনিক গড়ে সরবরাহ করা হয় ২৬০ কোটি ঘনফুটের মত।

এরমধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে আসে দৈনিক ১৫৫ থেকে ১৬৫ কোটি ঘনফুটের মতো। কক্সবাজারের মহেশখালিতে স্থাপিত মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট ও বেসরকারি কোম্পানি সামিটের পৃথক দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে আসে দৈনিক মোট ৯৫ থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুট। দৈনিক ঘাটতি থাকে প্রায় ১২০ কোটি ঘনফুটের মতো।

গত বুধবারও সরবরাহ করা হয়েছে ২৬০ কোটি ঘনফুট। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সরবরাহ কমে দাঁড়িয়েছে ২২০ কোটি ঘনফুটে। সে হিসাবে ৪০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ কমে গেছে।

সূত্র বলছে, এলএনজি ফুরিয়ে যাওয়ায় একটি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায়। এলএনজি নিয়ে নতুন জাহাজ এলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে টার্মিনালে স্থানান্তর করা যায়নি। এর পর থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে ৫৯ কোটি ঘনফুট। কয়েক দিন ধরে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছিল।

দেশে গ্যাস সংকট দীর্ঘদিনের। দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) দিয়ে চাহিদার দুই-তৃতীয়াংশ মেটানো সম্ভব হচ্ছে। এক-তৃতীয়াংশ ঘাটতির কারণে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশপাশি শিল্পোৎপাদনেও ভাটা পড়েছে।

গত ২১ জুলাই মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সেটি থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসে। দেশে তীব্র গ্যাস-সংকট দেখা দেয়। এতে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশপাশি শিল্পোৎপাদনে ধ্বস নামে। গ্যাসের অভাবে অনেক সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং অনেক এলাকায় আবাসিকে রান্নার চুলা বন্ধ হয়ে যায়।

গত ১৫ আগস্ট ওই টার্মিনাল পুরোদমে গ্যাস সরবরাহের জন্য তৈরি হলেও আমদানি করা জাহাজ না আসায় সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছিল না। এ মাসে আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার পর সরবরাহ বাড়ানো হয়।

বৃহস্পতিবার সাগর উত্তল থাকায় এলএনজি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলেও শুক্রবার সকালে তা পুনরায় স্বাভাবিক হয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত