সংবাদ

গাজায় নিজেদেরই ড্রোন বিস্ফোরণে নিহত দুই ইসরায়েলি সেনা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

গাজায় নিজেদেরই ড্রোন বিস্ফোরণে নিহত দুই ইসরায়েলি সেনা

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে নিজেদেরই পরিচালিত একটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ভেঙে পড়ে ও পরবর্তীতে বিস্ফোরিত হয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেনা মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
​নিহত দুই সেনাসদস্য হলেন মাস্টার সার্জেন্ট (রিজার্ভ) নাদাভ কালি (২৪) ও মাস্টার সার্জেন্ট (রিজার্ভ) ওফেক মোয়ালেম (২৩)। তারা উভয়েই আইডিএফের জেরুজালেম ব্রিগেডের ৭০০৭তম ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন।
​ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গাজার উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তসংলগ্ন একটি সামরিক পোস্টে অবস্থান করে এই দুই সেনা হিব্রু ভাষায় ‘আতালেফ’ (যার অর্থ বাদুড়) নামে পরিচিত ‘ফার্স্ট-পারসন ভিউ’ (এফপিভি) ড্রোন পরিচালনা করছিলেন। প্রথম ড্রোনটি সফলভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় মিশন সম্পন্ন করে ফিরে এলেও দ্বিতীয় ড্রোনটি উড্ডয়নের পরপরই অজানা কারিগরি ত্রুটির কারণে ক্যাম্পের ভেতরে ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ পর সেনাসদস্য দুজন ড্রোনটির কাছে গিয়ে তা হাত দিয়ে তোলার চেষ্টা করলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে আশকেলনের বারজিলাই মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
​ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ। তদন্ত চলায় নিরাপত্তার স্বার্থে বিস্ফোরক বহনে সক্ষম সব ধরনের ছোট আকারের ড্রোন, যেমন আত্মঘাতী ড্রোন ও বিস্ফোরক ফেলার ড্রোন এর ব্যবহার সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে আইডিএফ।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানে ইসরায়েল সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফট্যানেন্ট জেনারেল আইয়াল জামির পদাতিক বাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ তদন্ত প্যানেল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সুপারিশ করবে।
​উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের জেরে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা এখনো ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুদ্ধবিরতি ও হামাসের পুনর্গঠন ঠেকাতে মাঝেমধ্যেই আইডিএফ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। কয়েক মাসের দীর্ঘ আলোচনার পর চলতি বছরের ৩০ জুলাই হামাস যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর দেওয়া নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সম্মত হলেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর আপত্তির কারণে তা স্থবির হয়ে পড়ে।
নেতানিয়াহুর দাবি, হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ না করা পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। অন্যদিকে ‘বোর্ড অব পিস’-এর কর্মকর্তাদের ধারণা, আগামী ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহু এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিলম্ব করছেন।
​গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দীর্ঘ এই সংঘাত ও যুদ্ধে গাজায় এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও অন্তত ১ হাজার ৩৩০ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক মূল্যায়নেও গাজার এই সামগ্রিক মৃত্যুসংখ্যা অনেকটাই সঠিক বলে ধরা হয়েছে, যেখানে গড়ে প্রতিজন সশস্ত্র যোদ্ধার মৃত্যুর বিপরীতে ২ থেকে ৩ জন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গাজায় নিজেদেরই ড্রোন বিস্ফোরণে নিহত দুই ইসরায়েলি সেনা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে নিজেদেরই পরিচালিত একটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ভেঙে পড়ে ও পরবর্তীতে বিস্ফোরিত হয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেনা মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
​নিহত দুই সেনাসদস্য হলেন মাস্টার সার্জেন্ট (রিজার্ভ) নাদাভ কালি (২৪) ও মাস্টার সার্জেন্ট (রিজার্ভ) ওফেক মোয়ালেম (২৩)। তারা উভয়েই আইডিএফের জেরুজালেম ব্রিগেডের ৭০০৭তম ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন।
​ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গাজার উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তসংলগ্ন একটি সামরিক পোস্টে অবস্থান করে এই দুই সেনা হিব্রু ভাষায় ‘আতালেফ’ (যার অর্থ বাদুড়) নামে পরিচিত ‘ফার্স্ট-পারসন ভিউ’ (এফপিভি) ড্রোন পরিচালনা করছিলেন। প্রথম ড্রোনটি সফলভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় মিশন সম্পন্ন করে ফিরে এলেও দ্বিতীয় ড্রোনটি উড্ডয়নের পরপরই অজানা কারিগরি ত্রুটির কারণে ক্যাম্পের ভেতরে ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ পর সেনাসদস্য দুজন ড্রোনটির কাছে গিয়ে তা হাত দিয়ে তোলার চেষ্টা করলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে আশকেলনের বারজিলাই মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
​ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ। তদন্ত চলায় নিরাপত্তার স্বার্থে বিস্ফোরক বহনে সক্ষম সব ধরনের ছোট আকারের ড্রোন, যেমন আত্মঘাতী ড্রোন ও বিস্ফোরক ফেলার ড্রোন এর ব্যবহার সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে আইডিএফ।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানে ইসরায়েল সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফট্যানেন্ট জেনারেল আইয়াল জামির পদাতিক বাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ তদন্ত প্যানেল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সুপারিশ করবে।
​উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের জেরে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা এখনো ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুদ্ধবিরতি ও হামাসের পুনর্গঠন ঠেকাতে মাঝেমধ্যেই আইডিএফ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। কয়েক মাসের দীর্ঘ আলোচনার পর চলতি বছরের ৩০ জুলাই হামাস যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর দেওয়া নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সম্মত হলেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর আপত্তির কারণে তা স্থবির হয়ে পড়ে।
নেতানিয়াহুর দাবি, হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ না করা পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। অন্যদিকে ‘বোর্ড অব পিস’-এর কর্মকর্তাদের ধারণা, আগামী ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহু এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিলম্ব করছেন।
​গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দীর্ঘ এই সংঘাত ও যুদ্ধে গাজায় এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও অন্তত ১ হাজার ৩৩০ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক মূল্যায়নেও গাজার এই সামগ্রিক মৃত্যুসংখ্যা অনেকটাই সঠিক বলে ধরা হয়েছে, যেখানে গড়ে প্রতিজন সশস্ত্র যোদ্ধার মৃত্যুর বিপরীতে ২ থেকে ৩ জন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত