নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা একের পর এক হাঁচি-এ ধরনের সমস্যা হলেই অনেকে ধরে নেন ঠান্ডা লেগেছে। এরপর প্যারাসিটামল, গরম পানির ভাপ বা আদা চায়ের মতো ঘরোয়া উপায়ে স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু একই সমস্যা যদি বারবার হয় বা দীর্ঘ সময়েও না কমে, তখন কারণটা শুধু সর্দি কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
কারণ সাধারণ সর্দির সঙ্গে অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের অনেক উপসর্গের মিল রয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া ও নাক বন্ধ হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে উপসর্গের ধরন, কখন শুরু হচ্ছে এবং কোন পরিবেশে বাড়ছে-এসব দিকে নজর দিলে দুটির মধ্যে পার্থক্য করা অনেকটাই সহজ।
হঠাৎ শুরু হলে নজর দিন
ভাইরাসজনিত সাধারণ সর্দির উপসর্গ অনেক সময় ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। শুরুতে গলা খুসখুস, হালকা ব্যথা বা শরীরে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। পরে নাক বন্ধ হওয়া বা পানি পড়ার সমস্যা যুক্ত হয়।
অন্যদিকে, অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত শুরু হতে পারে। ধুলাবালি, ছত্রাক বা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের মতো নির্দিষ্ট কোনো ট্রিগারের সংস্পর্শে যাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই হাঁচি, নাক চুলকানো বা পানি পড়া শুরু হতে পারে।
জ্বর আছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ
সর্দির সঙ্গে ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে জ্বর, শরীর দুর্বল লাগা কিংবা গা-হাত-পা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অ্যালার্জিক রাইনাইটিসে সাধারণত জ্বর থাকে না।
তাই নাক দিয়ে পানি পড়া ও হাঁচির পাশাপাশি জ্বর বা শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ থাকলে শুধু অ্যালার্জি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
নাক-চোখ চুলকালে অ্যালার্জির সম্ভাবনা
চুলকানি অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের একটি পরিচিত বৈশিষ্ট্য। নাকের ভেতর, চোখ কিংবা গলার পেছনে চুলকানি হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে চোখ দিয়ে পানি পড়া বা চোখ লাল হয়ে যাওয়ার সমস্যাও দেখা যায়।
সাধারণ সর্দিতে নাক বন্ধ বা পানি পড়তে পারে, তবে এ ধরনের চুলকানি তুলনামূলক কম দেখা যায়।
কয়েক দিন পরও না কমলে
সাধারণ সর্দি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যে ধীরে ধীরে ভালো হতে শুরু করে এবং সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সেরে যায়। কিন্তু নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি বা নাক বন্ধ থাকার সমস্যা দীর্ঘ সময় ধরে চললে অ্যালার্জির বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
একই সমস্যা ভালো হয়ে আবার ফিরে আসলেও সতর্ক হওয়া দরকার। বিশেষ করে কোনো নির্দিষ্ট মৌসুম বা পরিবেশে বারবার একই উপসর্গ দেখা দিলে কারণটি খুঁজে দেখা জরুরি।
জায়গা বদলালেই যদি উপসর্গ বাড়ে
অ্যালার্জির ক্ষেত্রে পরিবেশের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ধুলাময় ঘরে ঢুকলেই হাঁচি শুরু হওয়া, পুরোনো বা স্যাঁতসেঁতে জায়গায় গেলে নাক চুলকানো কিংবা আর্দ্র পরিবেশে থাকার পর নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা অ্যালার্জির ইঙ্গিত দিতে পারে।
সাধারণ সর্দির ক্ষেত্রে এ ধরনের নির্দিষ্ট পরিবেশগত সম্পর্ক সাধারণত থাকে না।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
নাকের সমস্যা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, বারবার ফিরে এলে কিংবা দৈনন্দিন কাজ ও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। কারণ উপসর্গের ভিত্তিতে সঠিক কারণ চিহ্নিত করা জরুরি।
তাই নাক বন্ধ বা হাঁচি হলেই প্রতিবার সর্দি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কখন উপসর্গ শুরু হচ্ছে, কত দিন থাকছে এবং কোন পরিবেশে বাড়ছে-এই তিনটি বিষয় খেয়াল করলেই সর্দি ও অ্যালার্জির মধ্যে পার্থক্য বোঝার প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা একের পর এক হাঁচি-এ ধরনের সমস্যা হলেই অনেকে ধরে নেন ঠান্ডা লেগেছে। এরপর প্যারাসিটামল, গরম পানির ভাপ বা আদা চায়ের মতো ঘরোয়া উপায়ে স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু একই সমস্যা যদি বারবার হয় বা দীর্ঘ সময়েও না কমে, তখন কারণটা শুধু সর্দি কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
কারণ সাধারণ সর্দির সঙ্গে অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের অনেক উপসর্গের মিল রয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া ও নাক বন্ধ হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে উপসর্গের ধরন, কখন শুরু হচ্ছে এবং কোন পরিবেশে বাড়ছে-এসব দিকে নজর দিলে দুটির মধ্যে পার্থক্য করা অনেকটাই সহজ।
হঠাৎ শুরু হলে নজর দিন
ভাইরাসজনিত সাধারণ সর্দির উপসর্গ অনেক সময় ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। শুরুতে গলা খুসখুস, হালকা ব্যথা বা শরীরে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। পরে নাক বন্ধ হওয়া বা পানি পড়ার সমস্যা যুক্ত হয়।
অন্যদিকে, অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত শুরু হতে পারে। ধুলাবালি, ছত্রাক বা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের মতো নির্দিষ্ট কোনো ট্রিগারের সংস্পর্শে যাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই হাঁচি, নাক চুলকানো বা পানি পড়া শুরু হতে পারে।
জ্বর আছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ
সর্দির সঙ্গে ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে জ্বর, শরীর দুর্বল লাগা কিংবা গা-হাত-পা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অ্যালার্জিক রাইনাইটিসে সাধারণত জ্বর থাকে না।
তাই নাক দিয়ে পানি পড়া ও হাঁচির পাশাপাশি জ্বর বা শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ থাকলে শুধু অ্যালার্জি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
নাক-চোখ চুলকালে অ্যালার্জির সম্ভাবনা
চুলকানি অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের একটি পরিচিত বৈশিষ্ট্য। নাকের ভেতর, চোখ কিংবা গলার পেছনে চুলকানি হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে চোখ দিয়ে পানি পড়া বা চোখ লাল হয়ে যাওয়ার সমস্যাও দেখা যায়।
সাধারণ সর্দিতে নাক বন্ধ বা পানি পড়তে পারে, তবে এ ধরনের চুলকানি তুলনামূলক কম দেখা যায়।
কয়েক দিন পরও না কমলে
সাধারণ সর্দি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যে ধীরে ধীরে ভালো হতে শুরু করে এবং সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সেরে যায়। কিন্তু নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি বা নাক বন্ধ থাকার সমস্যা দীর্ঘ সময় ধরে চললে অ্যালার্জির বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
একই সমস্যা ভালো হয়ে আবার ফিরে আসলেও সতর্ক হওয়া দরকার। বিশেষ করে কোনো নির্দিষ্ট মৌসুম বা পরিবেশে বারবার একই উপসর্গ দেখা দিলে কারণটি খুঁজে দেখা জরুরি।
জায়গা বদলালেই যদি উপসর্গ বাড়ে
অ্যালার্জির ক্ষেত্রে পরিবেশের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ধুলাময় ঘরে ঢুকলেই হাঁচি শুরু হওয়া, পুরোনো বা স্যাঁতসেঁতে জায়গায় গেলে নাক চুলকানো কিংবা আর্দ্র পরিবেশে থাকার পর নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা অ্যালার্জির ইঙ্গিত দিতে পারে।
সাধারণ সর্দির ক্ষেত্রে এ ধরনের নির্দিষ্ট পরিবেশগত সম্পর্ক সাধারণত থাকে না।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
নাকের সমস্যা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, বারবার ফিরে এলে কিংবা দৈনন্দিন কাজ ও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। কারণ উপসর্গের ভিত্তিতে সঠিক কারণ চিহ্নিত করা জরুরি।
তাই নাক বন্ধ বা হাঁচি হলেই প্রতিবার সর্দি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কখন উপসর্গ শুরু হচ্ছে, কত দিন থাকছে এবং কোন পরিবেশে বাড়ছে-এই তিনটি বিষয় খেয়াল করলেই সর্দি ও অ্যালার্জির মধ্যে পার্থক্য বোঝার প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন