সংবাদ

মিষ্টি খাবার কি পরোক্ষভাবে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়?


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম

মিষ্টি খাবার কি পরোক্ষভাবে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়?

মিষ্টি খাবার কিংবা চিনিযুক্ত পানীয় অনেকেরই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকে। ছুটির দিন, পারিবারিক আয়োজন বা অবসর - নানা উপলক্ষে মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি চিনি গ্রহণ করলে তার প্রভাব শুধু দাঁত বা ওজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। অতিরিক্ত চিনি থেকে বাড়তে পারে স্থূলতা ও বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকি, যা পরোক্ষভাবে কয়েক ধরনের ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্কিত।

চিনি সরাসরি ক্যান্সার সৃষ্টি করে - এমন প্রমাণ নেই। তবে চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয়তে অনেক সময় পুষ্টিগুণ কম থাকলেও ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকে। নিয়মিত এসব খাবার গ্রহণের ফলে শরীরে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্যালরি জমতে পারে। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চললে বাড়তে পারে শরীরের চর্বি ও স্থূলতার ঝুঁকি।

স্থূলতার সঙ্গে কোন কোন ক্যান্সারের সম্পর্ক

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত শারীরিক ওজন অন্তত ১৩ ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে রয়েছে মেনোপজ-পরবর্তী স্তন ক্যান্সার, কোলোরেক্টাল, অগ্ন্যাশয়, যকৃত, কিডনি ও এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার।

শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমলে দীর্ঘস্থায়ী মৃদু প্রদাহ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ইনসুলিন, ইনসুলিন-সদৃশ বৃদ্ধি ফ্যাক্টর এবং কিছু যৌন হরমোনের মাত্রায় পরিবর্তন আসতে পারে। এসব জৈবিক পরিবর্তন অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

তবে স্থূলতা থাকলেই কারও ক্যান্সার হবে, এমন নয়। এটি ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকির কারণের একটি।

চিনি বাদ দিলেই কি ক্যান্সার কোষ দুর্বল হবে?

ক্যান্সার কোষ স্বাভাবিক কোষের তুলনায় বেশি গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে। এ কারণে অনেকের ধারণা, খাবার থেকে চিনি বাদ দিলে ক্যান্সার কোষ প্রয়োজনীয় শক্তি পাবে না এবং টিউমার ছোট হয়ে যাবে।

কিন্তু এই ধারণার পক্ষে প্রমাণ নেই। খাদ্যতালিকা থেকে চিনি বাদ দিলেই ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি বন্ধ হবে বা টিউমার সংকুচিত হবে, এমনটা বলা যায় না। তাই চিনি বা শর্করা পুরোপুরি বাদ দেওয়া ক্যান্সার প্রতিরোধ কিংবা চিকিৎসার স্বীকৃত পদ্ধতি নয়।

দৈনিক কতটা চিনি খাওয়া উচিত

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুযায়ী, দৈনিক মোট ক্যালরির ১০ শতাংশের কম মুক্ত চিনি থেকে আসা উচিত। ৫ শতাংশের নিচে রাখতে পারলে তা স্বাস্থ্যের জন্য আরও উপকারী হতে পারে।

চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কয়েকটি অভ্যাস সহায়ক হতে পারে-

  • চিনিযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে পানি পান করুন।
  • মিষ্টি খাবারের বদলে তাজা ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • খাদ্যতালিকায় আঁশযুক্ত খাবার রাখুন।
  • অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • প্রতিদিনের খাবারে ভারসাম্য বজায় রাখুন।

সুস্থ থাকতে জীবনযাপনেও নজর দিন

শুধু চিনির পরিমাণ কমালেই সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হয় না। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। মাঝেমধ্যে পছন্দের মিষ্টি খাওয়ায় আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে প্রতিদিন অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই খাদ্যতালিকা থেকে সব মিষ্টি বাদ না দিয়ে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং সুষম খাবার গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তোলাই গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


মিষ্টি খাবার কি পরোক্ষভাবে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়?

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

মিষ্টি খাবার কিংবা চিনিযুক্ত পানীয় অনেকেরই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকে। ছুটির দিন, পারিবারিক আয়োজন বা অবসর - নানা উপলক্ষে মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি চিনি গ্রহণ করলে তার প্রভাব শুধু দাঁত বা ওজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। অতিরিক্ত চিনি থেকে বাড়তে পারে স্থূলতা ও বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকি, যা পরোক্ষভাবে কয়েক ধরনের ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্কিত।

চিনি সরাসরি ক্যান্সার সৃষ্টি করে - এমন প্রমাণ নেই। তবে চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয়তে অনেক সময় পুষ্টিগুণ কম থাকলেও ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকে। নিয়মিত এসব খাবার গ্রহণের ফলে শরীরে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্যালরি জমতে পারে। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চললে বাড়তে পারে শরীরের চর্বি ও স্থূলতার ঝুঁকি।

স্থূলতার সঙ্গে কোন কোন ক্যান্সারের সম্পর্ক

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত শারীরিক ওজন অন্তত ১৩ ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে রয়েছে মেনোপজ-পরবর্তী স্তন ক্যান্সার, কোলোরেক্টাল, অগ্ন্যাশয়, যকৃত, কিডনি ও এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার।

শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমলে দীর্ঘস্থায়ী মৃদু প্রদাহ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ইনসুলিন, ইনসুলিন-সদৃশ বৃদ্ধি ফ্যাক্টর এবং কিছু যৌন হরমোনের মাত্রায় পরিবর্তন আসতে পারে। এসব জৈবিক পরিবর্তন অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

তবে স্থূলতা থাকলেই কারও ক্যান্সার হবে, এমন নয়। এটি ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকির কারণের একটি।

চিনি বাদ দিলেই কি ক্যান্সার কোষ দুর্বল হবে?

ক্যান্সার কোষ স্বাভাবিক কোষের তুলনায় বেশি গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে। এ কারণে অনেকের ধারণা, খাবার থেকে চিনি বাদ দিলে ক্যান্সার কোষ প্রয়োজনীয় শক্তি পাবে না এবং টিউমার ছোট হয়ে যাবে।

কিন্তু এই ধারণার পক্ষে প্রমাণ নেই। খাদ্যতালিকা থেকে চিনি বাদ দিলেই ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি বন্ধ হবে বা টিউমার সংকুচিত হবে, এমনটা বলা যায় না। তাই চিনি বা শর্করা পুরোপুরি বাদ দেওয়া ক্যান্সার প্রতিরোধ কিংবা চিকিৎসার স্বীকৃত পদ্ধতি নয়।

দৈনিক কতটা চিনি খাওয়া উচিত

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুযায়ী, দৈনিক মোট ক্যালরির ১০ শতাংশের কম মুক্ত চিনি থেকে আসা উচিত। ৫ শতাংশের নিচে রাখতে পারলে তা স্বাস্থ্যের জন্য আরও উপকারী হতে পারে।

চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কয়েকটি অভ্যাস সহায়ক হতে পারে-

  • চিনিযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে পানি পান করুন।
  • মিষ্টি খাবারের বদলে তাজা ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • খাদ্যতালিকায় আঁশযুক্ত খাবার রাখুন।
  • অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • প্রতিদিনের খাবারে ভারসাম্য বজায় রাখুন।

সুস্থ থাকতে জীবনযাপনেও নজর দিন

শুধু চিনির পরিমাণ কমালেই সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হয় না। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। মাঝেমধ্যে পছন্দের মিষ্টি খাওয়ায় আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে প্রতিদিন অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই খাদ্যতালিকা থেকে সব মিষ্টি বাদ না দিয়ে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং সুষম খাবার গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তোলাই গুরুত্বপূর্ণ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত