রসগোল্লা, সন্দেশ, রসমালাই কিংবা লাড্ডু - মিষ্টি পছন্দ করেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। পারিবারিক অনুষ্ঠান, উৎসব কিংবা অতিথি আপ্যায়ন, নানা আয়োজনে মিষ্টি থাকে খাবারের তালিকায়। তবে দোকানে সাজানো আকর্ষণীয় মিষ্টি দেখেই তার মান বা বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না।
মিষ্টির পরিমাণ বাড়ানো কিংবা উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিম্নমানের উপাদান বা ভেজাল পদার্থ ব্যবহার করতে পারেন। দুধ ও দুধজাত উপকরণে তৈরি মিষ্টিতে স্টার্চ, কৃত্রিম রং কিংবা ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানোর আশঙ্কাও রয়েছে। এসব উপাদান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
কিছু ঘরোয়া পরীক্ষায় নির্দিষ্ট কয়েকটি উপাদানের উপস্থিতি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। তবে এসব পরীক্ষা দিয়ে মিষ্টির সম্পূর্ণ বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
মিষ্টির পরিমাণ বাড়াতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্টার্চ ব্যবহার করা হতে পারে। এটি শনাক্ত করার প্রাথমিক একটি উপায় হলো আয়োডিন পরীক্ষা।
এ জন্য মিষ্টির সামান্য অংশ পানিতে মিশিয়ে তাতে কয়েক ফোঁটা আয়োডিন দ্রবণ দিতে হবে। মিশ্রণটি নীল বা নীলচে-বেগুনি রং ধারণ করলে স্টার্চ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
দুধ বা দুগ্ধজাত উপাদানে ডিটারজেন্ট মেশানোর অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। তবে মিষ্টি পানিতে মিশিয়ে ঝাঁকানোর পর ফেনা তৈরি হলেই সেখানে ডিটারজেন্ট রয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। মিষ্টির অন্যান্য উপাদান থেকেও ফেনা তৈরি হতে পারে।
এ ধরনের সন্দেহ হলে মিষ্টিটি না খাওয়াই ভালো। নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনে পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করানো যেতে পারে।
কিছু মিষ্টির ওপর সৌন্দর্য বাড়াতে রুপালি পাতলা আবরণ দেওয়া হয়। তবে দেখতে রুপালি হলেই সেটি খাঁটি রুপার তৈরি, এমন নিশ্চয়তা নেই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অ্যালুমিনিয়াম বা অন্য উপাদান ব্যবহার করা হতে পারে।
হাত দিয়ে ঘষে কিংবা আবরণ উঠে যাচ্ছে কি না দেখে এর উপাদান নির্ধারণ করা যায় না। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে নির্ভরযোগ্য তথ্য বা পরীক্ষাগারের সহায়তা প্রয়োজন।
ভেজাল এড়াতে মিষ্টি কেনার সময় কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখা জরুরি।
· পরিচ্ছন্ন ও বিশ্বস্ত দোকান থেকে মিষ্টি কিনুন।
· প্যাকেটজাত পণ্যের উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখুন।
· উপাদানের তালিকা পড়ে নিন।
· অস্বাভাবিক উজ্জ্বল রং, দুর্গন্ধ, অস্বাভাবিক স্বাদ বা গঠন পরিবর্তন হলে মিষ্টি এড়িয়ে চলুন।
· খোলা মিষ্টি কেনার ক্ষেত্রে দোকানের পরিচ্ছন্নতা ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা দেখুন।
· খাবার ঢেকে রাখা হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর দিন।
আয়োডিন পরীক্ষার মতো কিছু পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট উপাদানের উপস্থিতি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেলেও সব ধরনের ভেজাল শনাক্ত করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিক বা কৃত্রিম রং সাধারণ পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে।
তাই মিষ্টির মান নিয়ে সন্দেহ হলে সেটি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। পছন্দের মিষ্টি খাওয়ার আনন্দ থাকুক, তবে কেনা ও খাওয়ার ক্ষেত্রে সচেতনতাও জরুরি।

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬
রসগোল্লা, সন্দেশ, রসমালাই কিংবা লাড্ডু - মিষ্টি পছন্দ করেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। পারিবারিক অনুষ্ঠান, উৎসব কিংবা অতিথি আপ্যায়ন, নানা আয়োজনে মিষ্টি থাকে খাবারের তালিকায়। তবে দোকানে সাজানো আকর্ষণীয় মিষ্টি দেখেই তার মান বা বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না।
মিষ্টির পরিমাণ বাড়ানো কিংবা উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিম্নমানের উপাদান বা ভেজাল পদার্থ ব্যবহার করতে পারেন। দুধ ও দুধজাত উপকরণে তৈরি মিষ্টিতে স্টার্চ, কৃত্রিম রং কিংবা ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানোর আশঙ্কাও রয়েছে। এসব উপাদান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
কিছু ঘরোয়া পরীক্ষায় নির্দিষ্ট কয়েকটি উপাদানের উপস্থিতি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। তবে এসব পরীক্ষা দিয়ে মিষ্টির সম্পূর্ণ বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
মিষ্টির পরিমাণ বাড়াতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্টার্চ ব্যবহার করা হতে পারে। এটি শনাক্ত করার প্রাথমিক একটি উপায় হলো আয়োডিন পরীক্ষা।
এ জন্য মিষ্টির সামান্য অংশ পানিতে মিশিয়ে তাতে কয়েক ফোঁটা আয়োডিন দ্রবণ দিতে হবে। মিশ্রণটি নীল বা নীলচে-বেগুনি রং ধারণ করলে স্টার্চ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
দুধ বা দুগ্ধজাত উপাদানে ডিটারজেন্ট মেশানোর অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। তবে মিষ্টি পানিতে মিশিয়ে ঝাঁকানোর পর ফেনা তৈরি হলেই সেখানে ডিটারজেন্ট রয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। মিষ্টির অন্যান্য উপাদান থেকেও ফেনা তৈরি হতে পারে।
এ ধরনের সন্দেহ হলে মিষ্টিটি না খাওয়াই ভালো। নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনে পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করানো যেতে পারে।
কিছু মিষ্টির ওপর সৌন্দর্য বাড়াতে রুপালি পাতলা আবরণ দেওয়া হয়। তবে দেখতে রুপালি হলেই সেটি খাঁটি রুপার তৈরি, এমন নিশ্চয়তা নেই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অ্যালুমিনিয়াম বা অন্য উপাদান ব্যবহার করা হতে পারে।
হাত দিয়ে ঘষে কিংবা আবরণ উঠে যাচ্ছে কি না দেখে এর উপাদান নির্ধারণ করা যায় না। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে নির্ভরযোগ্য তথ্য বা পরীক্ষাগারের সহায়তা প্রয়োজন।
ভেজাল এড়াতে মিষ্টি কেনার সময় কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখা জরুরি।
· পরিচ্ছন্ন ও বিশ্বস্ত দোকান থেকে মিষ্টি কিনুন।
· প্যাকেটজাত পণ্যের উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখুন।
· উপাদানের তালিকা পড়ে নিন।
· অস্বাভাবিক উজ্জ্বল রং, দুর্গন্ধ, অস্বাভাবিক স্বাদ বা গঠন পরিবর্তন হলে মিষ্টি এড়িয়ে চলুন।
· খোলা মিষ্টি কেনার ক্ষেত্রে দোকানের পরিচ্ছন্নতা ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা দেখুন।
· খাবার ঢেকে রাখা হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর দিন।
আয়োডিন পরীক্ষার মতো কিছু পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট উপাদানের উপস্থিতি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেলেও সব ধরনের ভেজাল শনাক্ত করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিক বা কৃত্রিম রং সাধারণ পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে।
তাই মিষ্টির মান নিয়ে সন্দেহ হলে সেটি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। পছন্দের মিষ্টি খাওয়ার আনন্দ থাকুক, তবে কেনা ও খাওয়ার ক্ষেত্রে সচেতনতাও জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন