সংবাদ

অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে দুই শ্রমিককে কারাদণ্ড


প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)
প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৩ এএম

অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে দুই শ্রমিককে কারাদণ্ড
ছবি : সংবাদ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পাহাড়ি ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার দায়ে দুজনকে আটক করে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত মির্জাপুর ইউনিয়নের রায়পরান, কেদারপুর চা-বাগান ও দিনারপুর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযান পরিচালনা করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুল ইসলাম। এ সময় শ্রীমঙ্গল থানা-পুলিশের একটি দল তাকে সহায়তা করে।

অভিযান চলাকালে কেদারপুর চা-বাগানের দিনারপুর ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার সময় জুনেল ঝরা (৩০) ও সোহাগ মুন্ডা (২৪) নামের দুই তরুণকে হাতেনাতে ধরা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে পৃথক দুটি মামলায় তাদের প্রত্যেককে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ের ফেসবুক পেজ ‘এসি ল্যান্ড শ্রীমঙ্গল’-এ এক পোস্টের মাধ্যমে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

পাহাড়, বনাঞ্চল ও পাহাড়ি ছড়াবেষ্টিত শ্রীমঙ্গলে স্থানীয়ভাবে এসব ছড়াকে ছোট নদীও বলা হয়। স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা গোষ্ঠী এসব ছড়া থেকে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে শ্রমিক বা চালকদের জরিমানা ও কারাদণ্ড দিলেও নেপথ্যে থাকা মূল কারবারিরা সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান।

এদিকে ছড়া থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশের যে ধ্বংসাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, তার চেয়েও বড় আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে সড়কে এসব বালুবাহী বেপরোয়া ট্রাকের চলাচল। গত কয়েক বছরে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন সড়কে অবৈধ বালু ও ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন সাধারণ পথচারী, নারী ও শিশুসহ একাধিক মানুষ। এমনকি আহত হয়েছেন বিদেশি পর্যটকও।

সর্বশেষ গত ৩ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সুরমাভ্যালি এলাকায় বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় আব্দুল মান্নান নামের এক ইজিবাইকচালক নিহত হন। তার আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ভুনবীর ইউনিয়নে ট্রাকের চাপায় এক নারী ও তার সাত বছর বয়সী সন্তান প্রাণ হারান।

একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটলেও সড়কে ড্রাম ট্রাকের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অধিবাসীরা। তাদের মতে, কেবল চুনোপুঁটি শ্রমিকদের সাজা দিয়ে এ অপরাধ বন্ধ করা যাবে না। প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা এবং সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে অবৈধ বালু উত্তোলনের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার ও ড্রাম ট্রাকের ওপর কঠোর নজরদারি জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে দুই শ্রমিককে কারাদণ্ড

প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পাহাড়ি ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার দায়ে দুজনকে আটক করে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত মির্জাপুর ইউনিয়নের রায়পরান, কেদারপুর চা-বাগান ও দিনারপুর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযান পরিচালনা করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুল ইসলাম। এ সময় শ্রীমঙ্গল থানা-পুলিশের একটি দল তাকে সহায়তা করে।

অভিযান চলাকালে কেদারপুর চা-বাগানের দিনারপুর ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার সময় জুনেল ঝরা (৩০) ও সোহাগ মুন্ডা (২৪) নামের দুই তরুণকে হাতেনাতে ধরা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে পৃথক দুটি মামলায় তাদের প্রত্যেককে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ের ফেসবুক পেজ ‘এসি ল্যান্ড শ্রীমঙ্গল’-এ এক পোস্টের মাধ্যমে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

পাহাড়, বনাঞ্চল ও পাহাড়ি ছড়াবেষ্টিত শ্রীমঙ্গলে স্থানীয়ভাবে এসব ছড়াকে ছোট নদীও বলা হয়। স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা গোষ্ঠী এসব ছড়া থেকে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে শ্রমিক বা চালকদের জরিমানা ও কারাদণ্ড দিলেও নেপথ্যে থাকা মূল কারবারিরা সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান।

এদিকে ছড়া থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশের যে ধ্বংসাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, তার চেয়েও বড় আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে সড়কে এসব বালুবাহী বেপরোয়া ট্রাকের চলাচল। গত কয়েক বছরে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন সড়কে অবৈধ বালু ও ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন সাধারণ পথচারী, নারী ও শিশুসহ একাধিক মানুষ। এমনকি আহত হয়েছেন বিদেশি পর্যটকও।

সর্বশেষ গত ৩ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সুরমাভ্যালি এলাকায় বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় আব্দুল মান্নান নামের এক ইজিবাইকচালক নিহত হন। তার আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ভুনবীর ইউনিয়নে ট্রাকের চাপায় এক নারী ও তার সাত বছর বয়সী সন্তান প্রাণ হারান।

একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটলেও সড়কে ড্রাম ট্রাকের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অধিবাসীরা। তাদের মতে, কেবল চুনোপুঁটি শ্রমিকদের সাজা দিয়ে এ অপরাধ বন্ধ করা যাবে না। প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা এবং সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে অবৈধ বালু উত্তোলনের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার ও ড্রাম ট্রাকের ওপর কঠোর নজরদারি জরুরি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত