সংবাদ

রেশম শিল্পে জাগুক নতুন প্রাণ


শাহ মো. জিয়াউদ্দিন
শাহ মো. জিয়াউদ্দিন
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩১ এএম

রেশম শিল্পে জাগুক নতুন প্রাণ
বাংলায় প্রাচীনকাল থেকেই রেশম চাষ বা পলু পোকা পালন এবং রেশম সুতা তৈরির প্রচলন ছিল

বাংলায় প্রাচীনকাল থেকেই রেশম চাষ বা পলু পোকা পালন এবং রেশম সুতা তৈরির প্রচলন ছিল। মুঘল আমলে বাংলায় রেশম উৎপাদন ও কারিগরি উৎকর্ষ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। সে সময় মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও ঢাকা রেশম বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে। সপ্তদশ শতকে বিদেশি বণিক ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার রেশমের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তারা কাসিমবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে কুঠি স্থাপন করে রেশম ব্যবসা সম্প্রসারণ করে।

সুলতানি ও মুঘল আমলে অবিভক্ত বাংলা, বিশেষ করে কাসিমবাজার ও রাজশাহী অঞ্চল, রেশম উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। বাংলার রেশমের মান ভালো হওয়ায় তা ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানি হতো। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রেশম বাণিজ্য থেকে বিপুল মুনাফা অর্জন করে। তবে ব্রিটিশদের নীতির পরিবর্তন, ১৭৭০ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ এবং শিল্পবিপ্লবের প্রভাবে ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়ে।

১৮৩৫ সালের মধ্যে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এ অঞ্চলের প্রায় ১০০টি রেশম নিষ্কাশনকেন্দ্র নিষ্ক্রিয় করে দেয় বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। যদিও পরবর্তী সময়ে বেসরকারি উদ্যোগে রেশম শিল্পের কিছুটা সম্প্রসারণ ঘটে এবং রপ্তানি বাণিজ্যও জমজমাট হয়ে ওঠে। কিন্তু ১৮৭০-এর দশকে রেশমকীটের রোগের ব্যাপক বিস্তার এবং কারিগরি ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার কারণে বাংলার রেশম শিল্প বিদেশের বাজার হারাতে শুরু করে।

দেশভাগের পর ১৯৫২ সাল থেকে রাজশাহীতে নতুন করে রেশম উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৬১ সালে রাজশাহীতে একটি সরকারি রেশম কারখানা স্থাপিত হয়। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেশম চাষ ও উৎপাদনের অবকাঠামো রয়েছে। রেশম উন্নয়ন বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয় রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, যশোর ও রাঙামাটিতে রয়েছে। ভোলাহাট, ঠাকুরগাঁও, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ, বগুড়া, কুমিল্লা ও রাজবাড়ীতে রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয় রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ভোলাহাট, মীরগঞ্জ, ঈশ্বরদী, ঝিনাইদহ, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, কোনাবাড়ী, ময়নামতি, চন্দ্রঘোনা ও সাঁকোয়ায় রেশম বীজাগার ও খামার এলাকা রয়েছে।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় রেশম বোর্ডের অধীনে আদর্শ নার্সারি, মিনি ফার্ম এবং চাউকি রিসার্চ সেন্টারও রয়েছে। এসব কেন্দ্রে উন্নত জাতের তুঁত গাছ ও রেশম গুটি উৎপাদনের ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রেশম চাষ সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমি তুঁত চাষের আওতায় আনা হয়েছিল। রাঙামাটির চন্দ্রঘোনা ও পঞ্চগড়ের সাঁকোয়ায় জার্মপ্লাজম সংরক্ষণ ও রেশম বীজাগার রয়েছে।

তুঁত চাষের জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জমি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট রেশম বীজাগারের জমির পরিমাণই প্রায় ৩৬ দশমিক ৭৯ একর। রাজশাহী রেশম কারখানা প্রায় সাড়ে ১৫ বিঘা জমির ওপর অবস্থিত। রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটও রাজশাহীতে রয়েছে। বোর্ডের অধীনে থাকা বিভিন্ন মিনি ফার্ম, বীজাগার, নার্সারি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জমি বিবেচনায় নিলে রেশম খাতের একটি উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত ভিত্তি রয়েছে। কিন্তু এই সম্পদ ও অবকাঠামো থাকার পরও শিল্পটি আজ রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে।

১৯৯১ সালে আমদানি শুল্ক কমানোর পর চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কম দামে রেশম সুতা দেশের বাজারে প্রবেশ করে। বিদেশি সুতা তুলনামূলক সস্তা ও চকচকে হওয়ায় দেশীয় রেশম সুতা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। ২০০২ সালে লোকসানের কারণ দেখিয়ে ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী সরকারি রেশম কারখানা ও অন্যান্য সরকারি মিল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে রেশম শিল্পের মূল চালিকাশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সুতার সংকটে বেসরকারি মিলগুলোও একে একে বন্ধ হতে থাকে।

রেশম শিল্প পুনরুজ্জীবিত করা গেলে গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র‍্য বিমোচনে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। দেশে বছরে প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ মেট্রিক টন রেশমের চাহিদা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। তুঁত চাষ, রেশম পোকা পালন, সুতা তৈরি এবং কাপড় বোনার মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রামীণ অর্থনৈতিক চক্র গড়ে তোলা সম্ভব। এ শিল্পে বিভিন্ন স্তরে দক্ষ ও অদক্ষ—উভয় ধরনের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।

দারিদ্র‍্য বিমোচনের অন্যতম প্রধান শর্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি। বাংলাদেশের দরিদ্র ও গ্রামীণ অঞ্চলগুলোতে রেশম শিল্পের সম্ভাবনা রয়েছে। শিল্পটি পুনরুজ্জীবিত করা গেলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুল মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এ শিল্পের প্রয়োজনীয় শ্রমশক্তি ও অনেক কাঁচামাল দেশেই রয়েছে। তাই আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে।

রেশম চাষের মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নও সম্ভব। গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি নারীরা ছোট পরিসরে তুঁত চাষ ও রেশম পোকা পালনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। এতে পরিবারের বাড়তি আয় সৃষ্টি হতে পারে। বাড়ির আঙিনা কিংবা গ্রামীণ রাস্তার পাশের জমিতেও ছোট পরিসরে তুঁত চাষ করা সম্ভব। রেশম চাষ তুলনামূলকভাবে শ্রমঘন এবং গ্রামীণ মানুষের জন্য আয় সৃষ্টির একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র।

তাই ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে শুধু অতীতের গৌরব হিসেবে দেখলে চলবে না। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের তুঁত ও রেশমকীট, ন্যায্যমূল্য, মানসম্মত সুতা উৎপাদন, সরকারি কারখানার আধুনিকায়ন এবং বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে রেশম শিল্পকে নতুন করে দাঁড় করাতে হবে। উৎপাদক, গবেষক, উদ্যোক্তা ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগই পারে বাংলাদেশের রেশম শিল্পকে আবারও সম্ভাবনাময় করে তুলতে।

[লেখক: উন্নয়নকর্মী]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রেশম শিল্পে জাগুক নতুন প্রাণ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বাংলায় প্রাচীনকাল থেকেই রেশম চাষ বা পলু পোকা পালন এবং রেশম সুতা তৈরির প্রচলন ছিল। মুঘল আমলে বাংলায় রেশম উৎপাদন ও কারিগরি উৎকর্ষ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। সে সময় মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও ঢাকা রেশম বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে। সপ্তদশ শতকে বিদেশি বণিক ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার রেশমের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তারা কাসিমবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে কুঠি স্থাপন করে রেশম ব্যবসা সম্প্রসারণ করে।

সুলতানি ও মুঘল আমলে অবিভক্ত বাংলা, বিশেষ করে কাসিমবাজার ও রাজশাহী অঞ্চল, রেশম উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। বাংলার রেশমের মান ভালো হওয়ায় তা ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানি হতো। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রেশম বাণিজ্য থেকে বিপুল মুনাফা অর্জন করে। তবে ব্রিটিশদের নীতির পরিবর্তন, ১৭৭০ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ এবং শিল্পবিপ্লবের প্রভাবে ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়ে।

১৮৩৫ সালের মধ্যে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এ অঞ্চলের প্রায় ১০০টি রেশম নিষ্কাশনকেন্দ্র নিষ্ক্রিয় করে দেয় বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। যদিও পরবর্তী সময়ে বেসরকারি উদ্যোগে রেশম শিল্পের কিছুটা সম্প্রসারণ ঘটে এবং রপ্তানি বাণিজ্যও জমজমাট হয়ে ওঠে। কিন্তু ১৮৭০-এর দশকে রেশমকীটের রোগের ব্যাপক বিস্তার এবং কারিগরি ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার কারণে বাংলার রেশম শিল্প বিদেশের বাজার হারাতে শুরু করে।

দেশভাগের পর ১৯৫২ সাল থেকে রাজশাহীতে নতুন করে রেশম উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৬১ সালে রাজশাহীতে একটি সরকারি রেশম কারখানা স্থাপিত হয়। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেশম চাষ ও উৎপাদনের অবকাঠামো রয়েছে। রেশম উন্নয়ন বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয় রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, যশোর ও রাঙামাটিতে রয়েছে। ভোলাহাট, ঠাকুরগাঁও, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ, বগুড়া, কুমিল্লা ও রাজবাড়ীতে রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয় রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ভোলাহাট, মীরগঞ্জ, ঈশ্বরদী, ঝিনাইদহ, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, কোনাবাড়ী, ময়নামতি, চন্দ্রঘোনা ও সাঁকোয়ায় রেশম বীজাগার ও খামার এলাকা রয়েছে।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় রেশম বোর্ডের অধীনে আদর্শ নার্সারি, মিনি ফার্ম এবং চাউকি রিসার্চ সেন্টারও রয়েছে। এসব কেন্দ্রে উন্নত জাতের তুঁত গাছ ও রেশম গুটি উৎপাদনের ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রেশম চাষ সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমি তুঁত চাষের আওতায় আনা হয়েছিল। রাঙামাটির চন্দ্রঘোনা ও পঞ্চগড়ের সাঁকোয়ায় জার্মপ্লাজম সংরক্ষণ ও রেশম বীজাগার রয়েছে।

তুঁত চাষের জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জমি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট রেশম বীজাগারের জমির পরিমাণই প্রায় ৩৬ দশমিক ৭৯ একর। রাজশাহী রেশম কারখানা প্রায় সাড়ে ১৫ বিঘা জমির ওপর অবস্থিত। রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটও রাজশাহীতে রয়েছে। বোর্ডের অধীনে থাকা বিভিন্ন মিনি ফার্ম, বীজাগার, নার্সারি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জমি বিবেচনায় নিলে রেশম খাতের একটি উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত ভিত্তি রয়েছে। কিন্তু এই সম্পদ ও অবকাঠামো থাকার পরও শিল্পটি আজ রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে।

১৯৯১ সালে আমদানি শুল্ক কমানোর পর চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কম দামে রেশম সুতা দেশের বাজারে প্রবেশ করে। বিদেশি সুতা তুলনামূলক সস্তা ও চকচকে হওয়ায় দেশীয় রেশম সুতা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। ২০০২ সালে লোকসানের কারণ দেখিয়ে ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী সরকারি রেশম কারখানা ও অন্যান্য সরকারি মিল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে রেশম শিল্পের মূল চালিকাশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সুতার সংকটে বেসরকারি মিলগুলোও একে একে বন্ধ হতে থাকে।

রেশম শিল্প পুনরুজ্জীবিত করা গেলে গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র‍্য বিমোচনে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। দেশে বছরে প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ মেট্রিক টন রেশমের চাহিদা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। তুঁত চাষ, রেশম পোকা পালন, সুতা তৈরি এবং কাপড় বোনার মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রামীণ অর্থনৈতিক চক্র গড়ে তোলা সম্ভব। এ শিল্পে বিভিন্ন স্তরে দক্ষ ও অদক্ষ—উভয় ধরনের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।

দারিদ্র‍্য বিমোচনের অন্যতম প্রধান শর্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি। বাংলাদেশের দরিদ্র ও গ্রামীণ অঞ্চলগুলোতে রেশম শিল্পের সম্ভাবনা রয়েছে। শিল্পটি পুনরুজ্জীবিত করা গেলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুল মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এ শিল্পের প্রয়োজনীয় শ্রমশক্তি ও অনেক কাঁচামাল দেশেই রয়েছে। তাই আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে।

রেশম চাষের মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নও সম্ভব। গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি নারীরা ছোট পরিসরে তুঁত চাষ ও রেশম পোকা পালনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। এতে পরিবারের বাড়তি আয় সৃষ্টি হতে পারে। বাড়ির আঙিনা কিংবা গ্রামীণ রাস্তার পাশের জমিতেও ছোট পরিসরে তুঁত চাষ করা সম্ভব। রেশম চাষ তুলনামূলকভাবে শ্রমঘন এবং গ্রামীণ মানুষের জন্য আয় সৃষ্টির একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র।

তাই ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে শুধু অতীতের গৌরব হিসেবে দেখলে চলবে না। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের তুঁত ও রেশমকীট, ন্যায্যমূল্য, মানসম্মত সুতা উৎপাদন, সরকারি কারখানার আধুনিকায়ন এবং বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে রেশম শিল্পকে নতুন করে দাঁড় করাতে হবে। উৎপাদক, গবেষক, উদ্যোক্তা ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগই পারে বাংলাদেশের রেশম শিল্পকে আবারও সম্ভাবনাময় করে তুলতে।

[লেখক: উন্নয়নকর্মী]


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত