ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর কোনো দূরবর্তী রাজনৈতিক রূপকল্প বা কেবল নথিপত্রের ঘোষণা নয়, এটি আমাদের প্রতিদিনের প্রত্যক্ষ বাস্তবতা। ২০২৫ সালের শুরুর পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই এই রূপান্তরের বিশালতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা পৌনে আট কোটিতে পৌঁছেছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৪.৫ শতাংশ। অন্যদিকে সক্রিয় মোবাইল সংযোগের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১৮ কোটিতে, যা জনসংখ্যার প্রায় ১০৬ শতাংশ। দৈনন্দিন অর্থপ্রবাহ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতেও ঘটেছে অভূতপূর্ব বিপ্লব। বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস বা এমএফএসের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতিদিনের কেনাকাটা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক লেনদেন সারছেন। নিবন্ধিত এমএফএস অ্যাকাউন্টের সংখ্যা প্রায় ২৫ কোটি এবং সারাদেশে সক্রিয় এজেন্ট ছড়িয়ে রয়েছেন প্রায় ২০ লাখ। এই এমএফএস ব্যবস্থার দৌলতে এতদিন অর্থনীতির বাইরে থাকা অনানুষ্ঠানিক খাত দ্রুতগতিতে প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
তবে প্রযুক্তিগত এই উল্লম্ফন ও আপাত-সুবিধার চমকপ্রদ অন্তরালে একটি মৌলিক ও জটিল প্রশ্ন ক্রমশ ভারী হয়ে উঠছে। যে ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর আমরা চোখ বন্ধ করে নির্ভরশীল হয়ে উঠছি, মূলত তার আসল মালিক কে? প্রতিদিনের কেনাকাটা, সামাজিক যোগাযোগ বা নানা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নাগরিকেরা যে বিপুল পরিমাণ ডেটা তৈরি করছেন, তার নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাচ্ছে? অদৃশ্য সফটওয়্যার অ্যালগরিদম কীভাবে শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ ভোক্তার দৈনন্দিন জীবন, আয় ও ভাগ্য নির্ধারণ করছে? প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর এই একচ্ছত্র আধিপত্য থেকে জন্ম নেওয়া বিপুল মুনাফা কার পকেটে জমা হচ্ছে, আর এর পরিবেশগত ও সামাজিক চড়া মূল্যই বা কারা পরিশোধ করছে?
এই কঠিন ও অস্বস্তিকর প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে গবেষক আইটর জিমেনেজের বই ‘দ্য ক্রাইমস অফ ডিজিটাল ক্যাপিটালিজম: করপোরেট ক্রাইম ইন এন এজ অফ এক্সপ্লয়টেশন’। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস থেকে প্রকাশিত এবং আমেরিকান সোসাইটি অফ ক্রিমিনোলজির সম্মানজনক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বইটির মূল বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট ও জোরালো। জিমেনেজ দেখিয়েছেন, ডিজিটাল পুঁজিবাদে যে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতিগুলো ঘটছে, সেগুলোকে নিছক প্রযুক্তির অনিচ্ছাকৃত বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি কিংবা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এসব ক্ষতি মূলত এমন এক কাঠামোগত ব্যবসায়িক ব্যবস্থার সরাসরি ফল, যেখানে করপোরেট মুনাফা অর্জন, নাগরিকদের ওপর প্রতিনিয়ত নজরদারি, অনিয়ন্ত্রিত উপায়ে ডেটা আহরণ এবং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে শ্রমশক্তির ওপর আধিপত্য বিস্তার একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতিতে, যেখানে দ্রুত ডিজিটালাইজেশন ঘটছে অথচ প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা, ডেটা সুরক্ষা ও জনস্বার্থ রক্ষা নিয়ে গভীর ও নীতিগত বিতর্কের চরম অভাব রয়েছে, সেখানে জিমেনেজের এই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও জরুরি।
আইটর জিমেনেজের অন্যতম প্রধান অবদান হলো, তিনি প্রচলিত আইনি বৈধতা এবং প্রকৃত সামাজিক ন্যায়বিচারের মধ্যবর্তী সূক্ষ্ম পার্থক্যটিকে উন্মোচিত করেছেন। প্রচলিত ফৌজদারি আইন সাধারণত কেবল সরাসরি নিষিদ্ধ আইনভঙ্গ বা দৃশ্যমান অপরাধকেই অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে। কিন্তু বহুজাতিক বা বৃহৎ করপোরেট ব্যবস্থার বেলায় দেখা যায়, একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় আইন অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেও কোটি কোটি মানুষের বিপুল সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতিসাধন করতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে আইন নিজেই পুরোনো অথবা শক্তিশালী বহুজাতিক অর্থনৈতিক গোষ্ঠী বা টেক-জায়ান্টদের স্বার্থে প্রভাবিত বা তৈরি হতে পারে। ডিজিটাল অর্থনীতিতে সাধারণ নাগরিকের ডেটা সংগ্রহ করা সেবার শর্তাবলীতে সম্মতির আড়ালে আইনসম্মত মনে হলেও তা গোপনীয়তার অপমৃত্যু ঘটায়। গিগ-শ্রমিককে ‘স্বাধীন ঠিকাদার’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা আপাতদৃষ্টিতে আইনি হলেও তা শ্রমিককে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করে। আবার অ্যালগরিদমিক সিদ্ধান্তের কারণে শ্রমিক কাজ হারালে মেধা-সম্পদের অজুহাতে কোনো আপিলের সুযোগ থাকে না, এবং এই সার্বিক অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত বেসরকারি প্রযুক্তি কোম্পানির ওপর চরমভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। জিমেনেজ এখানে প্রযুক্তির অন্ধ বিরোধিতা করছেন না; বরং তিনি প্রশ্ন তুলছেন—নতুন প্রযুক্তিনির্ভর এই করপোরেট ও নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতাকে সামাজিক জবাবদিহিতার আওতায় আনার মতো পর্যাপ্ত আইনি ব্যবস্থা, রাজনৈতিক ইচ্ছা ও প্রাতিষ্ঠানিক সামর্থ্য আমাদের মতো রাষ্ট্রগুলোর আদৌ আছে কি না।
সাধারণ মানুষের মনে ধারণা দেওয়া হয় যে ডিজিটাল বা ক্লাউড প্রযুক্তি হলো ভার্চয়াল, বস্তুহীন এবং পরিবেশবান্ধব। কিন্তু এই কাল্পনিক জগতের পেছনে রয়েছে এক বিশালাকার বাস্তব ও বস্তুগত অবকাঠামো। বিপুল ডেটা সেন্টার, কোটি কোটি মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ, ভারী যন্ত্রাংশ, বিরল খনিজ সম্পদ এবং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে লুকিয়ে থাকা লক্ষ লক্ষ প্রচ্ছন্ন শ্রমিকের কায়িক শ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে আজকের ডিজিটাল বিশ্ব। প্রযুক্তির প্রয়োজনীয় খনিজ ও কাঁচামাল আহরণ করতে গিয়ে বিভিন্ন দেশে পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী স্থানচ্যুত হচ্ছে। বাংলাদেশেও ডিজিটালাইজেশনের এই অবকাঠামো টিকিয়ে রাখতে প্রতিদিন কী পরিমাণ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে, অপ্রয়োজনীয় বা মেয়াদোত্তীর্ণ ইলেকট্রনিক বর্জ্য কোথায় ও কীভাবে ফেলার মাধ্যমে মাটি ও পানি দূষিত করছে, আর সরঞ্জাম সরবরাহ-শৃঙ্খলে যুক্ত শ্রমিকদের অবস্থান কী—এসব বিষয়ে আমাদের নীতি-নির্ধারণী মহলে পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক আলোচনার পরিধি এখনও অত্যন্ত সীমিত।
ডিজিটাল প্রযুক্তি শ্রমবাজারের ঐতিহ্যবাহী রূপ ও ধারণাকে আমূল বদলে দিয়ে শ্রমিকের মৌলিক অধিকারকে নতুন সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে বৈশ্বিক গিগ-শ্রমশক্তির দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস। দেশে লক্ষাধিক নিয়মিত ও অনিয়মিত ফ্রিল্যান্সার কাজ করছেন, পাশাপাশি রাইড-শেয়ারিং, ফুড-ডেলিভারি কিংবা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রতিদিন লাখো তরুণ যুক্ত হচ্ছেন। তবে এই তথাকথিত স্বাধীন কাজের আড়ালে থাকা অন্ধকার দিকটি উপেক্ষা করার মতো নয়। রাইড-শেয়ারিং বা ফুড-ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের কর্মীরা প্রথাগত শ্রমিকের মতো কোনো নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, চিকিৎসা সুবিধা, পেনশন, বা দুর্ঘটনায় আইনি সুরক্ষা পান না। এসব প্ল্যাটফর্মে একজন শ্রমিক কখন কাজ পাবেন, কোন ট্রিপে তাঁর কত আয় হবে, কিংবা তাঁর কাজের রেটিং কেমন হবে—তা নির্ধারণ করে একজন অদৃশ্য মানুষ নয়, বরং কোম্পানির জটিল সফটওয়্যার অ্যালগরিদম। বিশ্বখ্যাত ফেয়ারওয়ার্কের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, বাংলাদেশে পরিচালিত একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে উপযুক্ত কর্মপরিবেশ, উপযুক্ত মজুরি ও সুরক্ষার চরম অভাব রয়েছে। কোনো অ্যালগরিদম যদি ভুল বা অন্যায্য সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো শ্রমিকের অ্যাকাউন্ট হঠাৎ ব্লক করে দেয় বা আয় কমিয়ে দেয়, তবে রাষ্ট্রীয় শ্রম আইনে তার বিরুদ্ধে আপিল করা বা আইনি দায়ভার চাপানোর জন্য স্পষ্ট কোনো ধারা নেই।
ডিজিটাল পুঁজিবাদে তথ্যের চেয়ে মূল্যবান ও লাভজনক সম্পদ আর কিছু হতে পারে না। কোনো নাগরিক যখন প্রয়োজনীয় সেবা নিতে গিয়ে অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে ঢোকেন, তখন দীর্ঘ আইনি ভাষা না বুঝেই তিনি সম্মতির মাধ্যমে নিজের অতি ব্যক্তিগত ডেটা কোম্পানির হাতে তুলে দেন। এই ডেটা সংকট ও তথ্যের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অর্ডিনেন্স এবং ন্যাশনাল ডেটা গভর্ন্যান্স অর্ডিনেন্সের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু মূল পরীক্ষাটি রয়ে গেছে বাস্তবায়নের জায়গায়—এই আইনগুলো কি প্রকৃতপক্ষে সাধারণ নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও ডেটা অধিকার রক্ষা করবে, নাকি রাষ্ট্র ও বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে যৌথভাবে নজরদারির বাড়তি ক্ষমতা এনে দেবে? এর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত রয়েছে প্রযুক্তিগত বৈষম্যের বিষয়টি। ২০২৫ সালের শুরুতে দেশে পৌনে আট কোটি মানুষ কোনোভাবে অনলাইনে এলেও, সাড়ে নয় কোটির বেশি মানুষ অর্থাৎ প্রায় ৫৫.৫ শতাংশ জনগোষ্ঠী এখনও নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধার বাইরে। ফলে, প্রযুক্তিগত সুবিধা ও ডিজিটাল অর্থনীতি যদি কেবল শহরের সচ্ছল ও সুবিধাভোগী শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে এই ডিজিটালাইজেশন বিদ্যমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যকে কমানোর বদলে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।
আইটর জিমেনেজের বইটির মূল বার্তা প্রযুক্তির বিকাশকে রুদ্ধ করা নয়, বরং প্রযুক্তির সামাজিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে সেই ক্ষমতার ভারসাম্যকে পুনর্নির্ধারণ করা। বাংলাদেশের সামনে এখন প্রযুক্তিগত বিকাশ বজায় রাখা এবং সেই ব্যবস্থার ওপর গণতান্ত্রিক ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করার জোড়া দায়িত্ব রয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে অবিলম্বে নাগরিকের ব্যক্তিগত ডেটাকে নিছক বাণিজ্যিকভাবে বিক্রিযোগ্য পণ্য হিসেবে দেখা বন্ধ করতে হবে এবং গিগ ও প্ল্যাটফর্ম-শ্রমিকদের প্রচলিত শ্রম আইনের স্পষ্ট সংজ্ঞায় এনে ন্যূনতম মজুরি, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে অ্যালগরিদম কীভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বা রেটিং দিচ্ছে তা জানার অধিকার ও অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রাখতে হবে এবং প্রযুক্তি সংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন ও অবকাঠামো পরিচালনায় কয়েকটি সীমিত বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানির ওপর রাষ্ট্রের অতি-নির্ভরশীলতা রোধ করতে হবে।
বাংলাদেশ আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করবে কি করবে না, সেই বিতর্ক বা প্রাতিষ্ঠানিক সংশয় আজকের দিনে পুরোপুরি অচল ও নিরর্থক। ডিজিটাল ব্যবস্থা আমাদের জীবনের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে গেছে। কিন্তু মূল ও ঐতিহাসিক প্রশ্নটি হলো, আমরা কেমন ডিজিটাল সমাজ গড়ে তুলতে চাই? আমরা কি এমন এক সমাজ বানাব যেখানে কোটি কোটি মানুষের অক্লান্ত শ্রম, ব্যক্তিগত ডেটা ও দৈনন্দিন গতিবিধি কয়েকটি বৈশ্বিক করপোরেট জায়ান্টের জমাটবদ্ধ সম্পদে পরিণত হবে? নাকি আমরা এমন একটি সচেতন ডিজিটাল সমাজ গড়ব, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে সাধারণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার, শ্রমিকের মানবিক মর্যাদা, সর্বজনীন ন্যায়বিচার এবং সামগ্রিক জনস্বার্থকে শক্তিশালী করার হাতিয়ার হিসেবে? পছন্দটি সম্পূর্ণ আমাদের এবং আমাদের রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারণের ওপর নির্ভর করছে।
[লেখক: গবেষক ও উন্নয়ন পেশাজীবী।]

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর কোনো দূরবর্তী রাজনৈতিক রূপকল্প বা কেবল নথিপত্রের ঘোষণা নয়, এটি আমাদের প্রতিদিনের প্রত্যক্ষ বাস্তবতা। ২০২৫ সালের শুরুর পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই এই রূপান্তরের বিশালতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা পৌনে আট কোটিতে পৌঁছেছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৪.৫ শতাংশ। অন্যদিকে সক্রিয় মোবাইল সংযোগের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১৮ কোটিতে, যা জনসংখ্যার প্রায় ১০৬ শতাংশ। দৈনন্দিন অর্থপ্রবাহ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতেও ঘটেছে অভূতপূর্ব বিপ্লব। বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস বা এমএফএসের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতিদিনের কেনাকাটা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক লেনদেন সারছেন। নিবন্ধিত এমএফএস অ্যাকাউন্টের সংখ্যা প্রায় ২৫ কোটি এবং সারাদেশে সক্রিয় এজেন্ট ছড়িয়ে রয়েছেন প্রায় ২০ লাখ। এই এমএফএস ব্যবস্থার দৌলতে এতদিন অর্থনীতির বাইরে থাকা অনানুষ্ঠানিক খাত দ্রুতগতিতে প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
তবে প্রযুক্তিগত এই উল্লম্ফন ও আপাত-সুবিধার চমকপ্রদ অন্তরালে একটি মৌলিক ও জটিল প্রশ্ন ক্রমশ ভারী হয়ে উঠছে। যে ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর আমরা চোখ বন্ধ করে নির্ভরশীল হয়ে উঠছি, মূলত তার আসল মালিক কে? প্রতিদিনের কেনাকাটা, সামাজিক যোগাযোগ বা নানা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নাগরিকেরা যে বিপুল পরিমাণ ডেটা তৈরি করছেন, তার নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাচ্ছে? অদৃশ্য সফটওয়্যার অ্যালগরিদম কীভাবে শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ ভোক্তার দৈনন্দিন জীবন, আয় ও ভাগ্য নির্ধারণ করছে? প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর এই একচ্ছত্র আধিপত্য থেকে জন্ম নেওয়া বিপুল মুনাফা কার পকেটে জমা হচ্ছে, আর এর পরিবেশগত ও সামাজিক চড়া মূল্যই বা কারা পরিশোধ করছে?
এই কঠিন ও অস্বস্তিকর প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে গবেষক আইটর জিমেনেজের বই ‘দ্য ক্রাইমস অফ ডিজিটাল ক্যাপিটালিজম: করপোরেট ক্রাইম ইন এন এজ অফ এক্সপ্লয়টেশন’। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস থেকে প্রকাশিত এবং আমেরিকান সোসাইটি অফ ক্রিমিনোলজির সম্মানজনক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বইটির মূল বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট ও জোরালো। জিমেনেজ দেখিয়েছেন, ডিজিটাল পুঁজিবাদে যে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতিগুলো ঘটছে, সেগুলোকে নিছক প্রযুক্তির অনিচ্ছাকৃত বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি কিংবা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এসব ক্ষতি মূলত এমন এক কাঠামোগত ব্যবসায়িক ব্যবস্থার সরাসরি ফল, যেখানে করপোরেট মুনাফা অর্জন, নাগরিকদের ওপর প্রতিনিয়ত নজরদারি, অনিয়ন্ত্রিত উপায়ে ডেটা আহরণ এবং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে শ্রমশক্তির ওপর আধিপত্য বিস্তার একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতিতে, যেখানে দ্রুত ডিজিটালাইজেশন ঘটছে অথচ প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা, ডেটা সুরক্ষা ও জনস্বার্থ রক্ষা নিয়ে গভীর ও নীতিগত বিতর্কের চরম অভাব রয়েছে, সেখানে জিমেনেজের এই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও জরুরি।
আইটর জিমেনেজের অন্যতম প্রধান অবদান হলো, তিনি প্রচলিত আইনি বৈধতা এবং প্রকৃত সামাজিক ন্যায়বিচারের মধ্যবর্তী সূক্ষ্ম পার্থক্যটিকে উন্মোচিত করেছেন। প্রচলিত ফৌজদারি আইন সাধারণত কেবল সরাসরি নিষিদ্ধ আইনভঙ্গ বা দৃশ্যমান অপরাধকেই অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে। কিন্তু বহুজাতিক বা বৃহৎ করপোরেট ব্যবস্থার বেলায় দেখা যায়, একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় আইন অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেও কোটি কোটি মানুষের বিপুল সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতিসাধন করতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে আইন নিজেই পুরোনো অথবা শক্তিশালী বহুজাতিক অর্থনৈতিক গোষ্ঠী বা টেক-জায়ান্টদের স্বার্থে প্রভাবিত বা তৈরি হতে পারে। ডিজিটাল অর্থনীতিতে সাধারণ নাগরিকের ডেটা সংগ্রহ করা সেবার শর্তাবলীতে সম্মতির আড়ালে আইনসম্মত মনে হলেও তা গোপনীয়তার অপমৃত্যু ঘটায়। গিগ-শ্রমিককে ‘স্বাধীন ঠিকাদার’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা আপাতদৃষ্টিতে আইনি হলেও তা শ্রমিককে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করে। আবার অ্যালগরিদমিক সিদ্ধান্তের কারণে শ্রমিক কাজ হারালে মেধা-সম্পদের অজুহাতে কোনো আপিলের সুযোগ থাকে না, এবং এই সার্বিক অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত বেসরকারি প্রযুক্তি কোম্পানির ওপর চরমভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। জিমেনেজ এখানে প্রযুক্তির অন্ধ বিরোধিতা করছেন না; বরং তিনি প্রশ্ন তুলছেন—নতুন প্রযুক্তিনির্ভর এই করপোরেট ও নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতাকে সামাজিক জবাবদিহিতার আওতায় আনার মতো পর্যাপ্ত আইনি ব্যবস্থা, রাজনৈতিক ইচ্ছা ও প্রাতিষ্ঠানিক সামর্থ্য আমাদের মতো রাষ্ট্রগুলোর আদৌ আছে কি না।
সাধারণ মানুষের মনে ধারণা দেওয়া হয় যে ডিজিটাল বা ক্লাউড প্রযুক্তি হলো ভার্চয়াল, বস্তুহীন এবং পরিবেশবান্ধব। কিন্তু এই কাল্পনিক জগতের পেছনে রয়েছে এক বিশালাকার বাস্তব ও বস্তুগত অবকাঠামো। বিপুল ডেটা সেন্টার, কোটি কোটি মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ, ভারী যন্ত্রাংশ, বিরল খনিজ সম্পদ এবং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে লুকিয়ে থাকা লক্ষ লক্ষ প্রচ্ছন্ন শ্রমিকের কায়িক শ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে আজকের ডিজিটাল বিশ্ব। প্রযুক্তির প্রয়োজনীয় খনিজ ও কাঁচামাল আহরণ করতে গিয়ে বিভিন্ন দেশে পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী স্থানচ্যুত হচ্ছে। বাংলাদেশেও ডিজিটালাইজেশনের এই অবকাঠামো টিকিয়ে রাখতে প্রতিদিন কী পরিমাণ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে, অপ্রয়োজনীয় বা মেয়াদোত্তীর্ণ ইলেকট্রনিক বর্জ্য কোথায় ও কীভাবে ফেলার মাধ্যমে মাটি ও পানি দূষিত করছে, আর সরঞ্জাম সরবরাহ-শৃঙ্খলে যুক্ত শ্রমিকদের অবস্থান কী—এসব বিষয়ে আমাদের নীতি-নির্ধারণী মহলে পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক আলোচনার পরিধি এখনও অত্যন্ত সীমিত।
ডিজিটাল প্রযুক্তি শ্রমবাজারের ঐতিহ্যবাহী রূপ ও ধারণাকে আমূল বদলে দিয়ে শ্রমিকের মৌলিক অধিকারকে নতুন সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে বৈশ্বিক গিগ-শ্রমশক্তির দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস। দেশে লক্ষাধিক নিয়মিত ও অনিয়মিত ফ্রিল্যান্সার কাজ করছেন, পাশাপাশি রাইড-শেয়ারিং, ফুড-ডেলিভারি কিংবা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রতিদিন লাখো তরুণ যুক্ত হচ্ছেন। তবে এই তথাকথিত স্বাধীন কাজের আড়ালে থাকা অন্ধকার দিকটি উপেক্ষা করার মতো নয়। রাইড-শেয়ারিং বা ফুড-ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের কর্মীরা প্রথাগত শ্রমিকের মতো কোনো নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, চিকিৎসা সুবিধা, পেনশন, বা দুর্ঘটনায় আইনি সুরক্ষা পান না। এসব প্ল্যাটফর্মে একজন শ্রমিক কখন কাজ পাবেন, কোন ট্রিপে তাঁর কত আয় হবে, কিংবা তাঁর কাজের রেটিং কেমন হবে—তা নির্ধারণ করে একজন অদৃশ্য মানুষ নয়, বরং কোম্পানির জটিল সফটওয়্যার অ্যালগরিদম। বিশ্বখ্যাত ফেয়ারওয়ার্কের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, বাংলাদেশে পরিচালিত একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে উপযুক্ত কর্মপরিবেশ, উপযুক্ত মজুরি ও সুরক্ষার চরম অভাব রয়েছে। কোনো অ্যালগরিদম যদি ভুল বা অন্যায্য সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো শ্রমিকের অ্যাকাউন্ট হঠাৎ ব্লক করে দেয় বা আয় কমিয়ে দেয়, তবে রাষ্ট্রীয় শ্রম আইনে তার বিরুদ্ধে আপিল করা বা আইনি দায়ভার চাপানোর জন্য স্পষ্ট কোনো ধারা নেই।
ডিজিটাল পুঁজিবাদে তথ্যের চেয়ে মূল্যবান ও লাভজনক সম্পদ আর কিছু হতে পারে না। কোনো নাগরিক যখন প্রয়োজনীয় সেবা নিতে গিয়ে অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে ঢোকেন, তখন দীর্ঘ আইনি ভাষা না বুঝেই তিনি সম্মতির মাধ্যমে নিজের অতি ব্যক্তিগত ডেটা কোম্পানির হাতে তুলে দেন। এই ডেটা সংকট ও তথ্যের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অর্ডিনেন্স এবং ন্যাশনাল ডেটা গভর্ন্যান্স অর্ডিনেন্সের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু মূল পরীক্ষাটি রয়ে গেছে বাস্তবায়নের জায়গায়—এই আইনগুলো কি প্রকৃতপক্ষে সাধারণ নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও ডেটা অধিকার রক্ষা করবে, নাকি রাষ্ট্র ও বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে যৌথভাবে নজরদারির বাড়তি ক্ষমতা এনে দেবে? এর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত রয়েছে প্রযুক্তিগত বৈষম্যের বিষয়টি। ২০২৫ সালের শুরুতে দেশে পৌনে আট কোটি মানুষ কোনোভাবে অনলাইনে এলেও, সাড়ে নয় কোটির বেশি মানুষ অর্থাৎ প্রায় ৫৫.৫ শতাংশ জনগোষ্ঠী এখনও নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধার বাইরে। ফলে, প্রযুক্তিগত সুবিধা ও ডিজিটাল অর্থনীতি যদি কেবল শহরের সচ্ছল ও সুবিধাভোগী শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে এই ডিজিটালাইজেশন বিদ্যমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যকে কমানোর বদলে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।
আইটর জিমেনেজের বইটির মূল বার্তা প্রযুক্তির বিকাশকে রুদ্ধ করা নয়, বরং প্রযুক্তির সামাজিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে সেই ক্ষমতার ভারসাম্যকে পুনর্নির্ধারণ করা। বাংলাদেশের সামনে এখন প্রযুক্তিগত বিকাশ বজায় রাখা এবং সেই ব্যবস্থার ওপর গণতান্ত্রিক ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করার জোড়া দায়িত্ব রয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে অবিলম্বে নাগরিকের ব্যক্তিগত ডেটাকে নিছক বাণিজ্যিকভাবে বিক্রিযোগ্য পণ্য হিসেবে দেখা বন্ধ করতে হবে এবং গিগ ও প্ল্যাটফর্ম-শ্রমিকদের প্রচলিত শ্রম আইনের স্পষ্ট সংজ্ঞায় এনে ন্যূনতম মজুরি, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে অ্যালগরিদম কীভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বা রেটিং দিচ্ছে তা জানার অধিকার ও অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রাখতে হবে এবং প্রযুক্তি সংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন ও অবকাঠামো পরিচালনায় কয়েকটি সীমিত বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানির ওপর রাষ্ট্রের অতি-নির্ভরশীলতা রোধ করতে হবে।
বাংলাদেশ আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করবে কি করবে না, সেই বিতর্ক বা প্রাতিষ্ঠানিক সংশয় আজকের দিনে পুরোপুরি অচল ও নিরর্থক। ডিজিটাল ব্যবস্থা আমাদের জীবনের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে গেছে। কিন্তু মূল ও ঐতিহাসিক প্রশ্নটি হলো, আমরা কেমন ডিজিটাল সমাজ গড়ে তুলতে চাই? আমরা কি এমন এক সমাজ বানাব যেখানে কোটি কোটি মানুষের অক্লান্ত শ্রম, ব্যক্তিগত ডেটা ও দৈনন্দিন গতিবিধি কয়েকটি বৈশ্বিক করপোরেট জায়ান্টের জমাটবদ্ধ সম্পদে পরিণত হবে? নাকি আমরা এমন একটি সচেতন ডিজিটাল সমাজ গড়ব, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে সাধারণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার, শ্রমিকের মানবিক মর্যাদা, সর্বজনীন ন্যায়বিচার এবং সামগ্রিক জনস্বার্থকে শক্তিশালী করার হাতিয়ার হিসেবে? পছন্দটি সম্পূর্ণ আমাদের এবং আমাদের রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারণের ওপর নির্ভর করছে।
[লেখক: গবেষক ও উন্নয়ন পেশাজীবী।]

আপনার মতামত লিখুন