দেশে বন্য হাতি অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। বন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশে মারা গেছে ১৪৬টি হাতি। ২০১৬ সালের জরিপে দেশে বন্য আবাসিক হাতির সংখ্যা পাওয়া গিয়েছিল মাত্র ২৬৮টি। এই পরিসংখ্যান হাতি সংরক্ষণে বিদ্যমান দুর্বলতারই ইঙ্গিত দেয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে গেছে। বন উজাড়, দখল, মানুষের বসতি, বনে সড়ক ও রেলপথ নির্মাণের কারণে হাতির প্রাকৃতিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে খাবার ও পানির সন্ধানে হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এতেকরে বাড়ছে মানুষ-হাতির সংঘাত। হাতির জন্য নির্ধারিত করিডরের কয়েকটি ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। আরও কয়েকটি করিডোর ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
বৈদ্যুতিক ফাঁদও হাতি মৃত্যুর অন্যতম কারণ। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মারা যাওয়া ১৪৬ হাতির মধ্যে ২৬টির মৃত্যু হয়েছে বৈদ্যুতিক ফাঁদে। কৃষিজমি রক্ষার নামে এ ধরনের প্রাণঘাতী ব্যবস্থা বন্ধ করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর হতে হবে। পাশাপাশি কৃষকদের ফসল রক্ষায় নিরাপদ প্রতিরোধব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার।
হাতি সংরক্ষণ শুধু বন বিভাগের দায়িত্ব নয়। বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সড়ক ও রেল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের আগে হাতির চলাচলের পথ চিহ্নিত করে তা অক্ষুণ্ন রাখার বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে। সীমান্তবর্তী এলাকায় শিকার ও পাচার বন্ধেও নজরদারি বাড়াতে হবে।
২০১৬ সালের পর নতুন জাতীয় জরিপ না হওয়ায় বর্তমানে দেশে কতটি হাতি আছে, তার নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। হালনাগাদ সঠিক তথ্য ছাড়া হাতি সংরক্ষণ পরিকল্পনা কার্যকর করা কঠিন। তাই দ্রুত জরিপ করা দরকার। হাতি চলাচলের করিডর পুনরুদ্ধার করতে হবে। বৈদ্যুতিক ফাঁদ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। হাতি রক্ষায় বিলম্ব কাম্য নয়।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশে বন্য হাতি অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। বন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশে মারা গেছে ১৪৬টি হাতি। ২০১৬ সালের জরিপে দেশে বন্য আবাসিক হাতির সংখ্যা পাওয়া গিয়েছিল মাত্র ২৬৮টি। এই পরিসংখ্যান হাতি সংরক্ষণে বিদ্যমান দুর্বলতারই ইঙ্গিত দেয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে গেছে। বন উজাড়, দখল, মানুষের বসতি, বনে সড়ক ও রেলপথ নির্মাণের কারণে হাতির প্রাকৃতিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে খাবার ও পানির সন্ধানে হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এতেকরে বাড়ছে মানুষ-হাতির সংঘাত। হাতির জন্য নির্ধারিত করিডরের কয়েকটি ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। আরও কয়েকটি করিডোর ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
বৈদ্যুতিক ফাঁদও হাতি মৃত্যুর অন্যতম কারণ। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মারা যাওয়া ১৪৬ হাতির মধ্যে ২৬টির মৃত্যু হয়েছে বৈদ্যুতিক ফাঁদে। কৃষিজমি রক্ষার নামে এ ধরনের প্রাণঘাতী ব্যবস্থা বন্ধ করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর হতে হবে। পাশাপাশি কৃষকদের ফসল রক্ষায় নিরাপদ প্রতিরোধব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার।
হাতি সংরক্ষণ শুধু বন বিভাগের দায়িত্ব নয়। বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সড়ক ও রেল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের আগে হাতির চলাচলের পথ চিহ্নিত করে তা অক্ষুণ্ন রাখার বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে। সীমান্তবর্তী এলাকায় শিকার ও পাচার বন্ধেও নজরদারি বাড়াতে হবে।
২০১৬ সালের পর নতুন জাতীয় জরিপ না হওয়ায় বর্তমানে দেশে কতটি হাতি আছে, তার নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। হালনাগাদ সঠিক তথ্য ছাড়া হাতি সংরক্ষণ পরিকল্পনা কার্যকর করা কঠিন। তাই দ্রুত জরিপ করা দরকার। হাতি চলাচলের করিডর পুনরুদ্ধার করতে হবে। বৈদ্যুতিক ফাঁদ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। হাতি রক্ষায় বিলম্ব কাম্য নয়।

আপনার মতামত লিখুন