পাবনা ও সিরাজগঞ্জ দেশের অন্যতম প্রধান দুগ্ধ উৎপাদন অঞ্চল। এই অঞ্চলের খামারিরা উৎপাদিত দুধের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, প্রতিদিন দুই জেলায় প্রায় ১২ লাখ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। তবে উৎপাদক যদি ন্যায্য দাম না পান, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের দুগ্ধশিল্পই সংকটে পড়বে। ইতোমধ্যে লোকসান সামলাতে অনেক খামারি গাভি বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
খামারিদের অভিযোগ, প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বোনাসসহ প্রতি লিটার দুধ ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায় কিনছে। অথচ খোলাবাজারে একই দুধের দাম ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। এদিকে প্যাকেটজাত দুধ ভোক্তা পর্যায়ে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুধ থেকে ফ্যাট আলাদা করে ঘি উৎপাদনের বিষয়টিও রয়েছে। ফলে উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যবর্তী পর্যায়ে মূল্যবৈষম্য তৈরি হচ্ছে। তবে প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিপণনের প্রকৃত ব্যয় হিসাব করেই এ ব্যবধানের যৌক্তিকতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে উৎপাদন খরচে। গবাদি পশুর খাবারের দাম বেড়েছে, অথচ দুধের দাম সেই অনুপাতে বাড়েনি। অগ্রিম দাদন ও চুক্তির কারণে অনেক খামারি খোলাবাজারের তুলনামূলক বেশি দামের সুযোগও নিতে পারছেন না। এ অবস্থায় উৎপাদন কমে গেলে ভবিষ্যতে দুধের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হতে পারে এবং আমদানিনির্ভরতা বাড়তে পারে।
দুধের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার, খামারি ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানকে বসে একটি বাস্তবসম্মত মূল্য কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে। দুধের ফ্যাটের পরিমাণ, উৎপাদন ব্যয়, খাদ্যের দাম ও বাজারমূল্য বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা যেতে পারে। চুক্তিভিত্তিক সংগ্রহ ব্যবস্থায় খামারির স্বার্থও সুরক্ষিত করতে হবে।
দুগ্ধশিল্প টিকিয়ে রাখতে হলে শুধু দুধের বাজার সম্প্রসারণ নয়, উৎপাদককে টিকিয়ে রাখাও জরুরি। খামারি যদি ন্যায্য দাম না পান, তাহলে লাভজনক দুগ্ধশিল্প গড়ে তোলার কোনো পরিকল্পনাই দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাবনা ও সিরাজগঞ্জ দেশের অন্যতম প্রধান দুগ্ধ উৎপাদন অঞ্চল। এই অঞ্চলের খামারিরা উৎপাদিত দুধের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, প্রতিদিন দুই জেলায় প্রায় ১২ লাখ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। তবে উৎপাদক যদি ন্যায্য দাম না পান, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের দুগ্ধশিল্পই সংকটে পড়বে। ইতোমধ্যে লোকসান সামলাতে অনেক খামারি গাভি বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
খামারিদের অভিযোগ, প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বোনাসসহ প্রতি লিটার দুধ ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায় কিনছে। অথচ খোলাবাজারে একই দুধের দাম ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। এদিকে প্যাকেটজাত দুধ ভোক্তা পর্যায়ে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুধ থেকে ফ্যাট আলাদা করে ঘি উৎপাদনের বিষয়টিও রয়েছে। ফলে উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যবর্তী পর্যায়ে মূল্যবৈষম্য তৈরি হচ্ছে। তবে প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিপণনের প্রকৃত ব্যয় হিসাব করেই এ ব্যবধানের যৌক্তিকতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে উৎপাদন খরচে। গবাদি পশুর খাবারের দাম বেড়েছে, অথচ দুধের দাম সেই অনুপাতে বাড়েনি। অগ্রিম দাদন ও চুক্তির কারণে অনেক খামারি খোলাবাজারের তুলনামূলক বেশি দামের সুযোগও নিতে পারছেন না। এ অবস্থায় উৎপাদন কমে গেলে ভবিষ্যতে দুধের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হতে পারে এবং আমদানিনির্ভরতা বাড়তে পারে।
দুধের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার, খামারি ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানকে বসে একটি বাস্তবসম্মত মূল্য কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে। দুধের ফ্যাটের পরিমাণ, উৎপাদন ব্যয়, খাদ্যের দাম ও বাজারমূল্য বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা যেতে পারে। চুক্তিভিত্তিক সংগ্রহ ব্যবস্থায় খামারির স্বার্থও সুরক্ষিত করতে হবে।
দুগ্ধশিল্প টিকিয়ে রাখতে হলে শুধু দুধের বাজার সম্প্রসারণ নয়, উৎপাদককে টিকিয়ে রাখাও জরুরি। খামারি যদি ন্যায্য দাম না পান, তাহলে লাভজনক দুগ্ধশিল্প গড়ে তোলার কোনো পরিকল্পনাই দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

আপনার মতামত লিখুন