সরকারি কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিনিয়র সচিব ও সচিবদের ২৩টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।
এ সব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করতে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন, কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বিদেশ ভ্রমণে লাগাম টানা, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি এবং সরকারি অফিসে ডিজিটাল হাজিরা বাধ্যতামূলক করা। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সচিব সভার সিদ্ধান্তের আলোকে সম্প্রতি লিখিতভাবে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে এই নির্দেশনা পাঠোনো হয়েছে। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো নির্দেশনায় জানানো হয়, যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে একাধিক কর্মস্থলে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করা হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী আইনি ও দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, একই কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বারবার বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা জোরদারে বলা হয়েছে, সব সরকারি কর্মচারীকে সময়মতো অফিসে উপস্থিত হয়ে ডিজিটাল হাজিরা দিতে হবে। সব দপ্তরের হাজিরার তথ্য যেন একটি কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে দেখা যায়, সে ব্যবস্থা করবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।
এ ছাড়া চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে অন্য কারো মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির করলে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর গোপনীয় নথিতে বা ডোসিয়ারে তা নথিভুক্ত থাকবে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি দপ্তরগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কাজের অগ্রগতি জানিয়ে প্রতি দুই মাস পর পর বিদ্যুৎ বিভাগে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, অফিস প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে উপজেলা পর্যায়ের দপ্তরগুলোকে প্রতি ১৫ দিন পর পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে, যা পর্যায়ক্রমে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার হয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পৌঁছাবে।
জনসেবা নিশ্চিতকরণ ও দাপ্তরিক কাজের প্রসঙ্গে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, সেবাগ্রহীতাদের কোনো প্রকার হয়রানি ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হবে। শূন্যপদগুলো দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ডি-নথির মাধ্যমে গোপনীয়তা রক্ষা করে দ্রুত দাপ্তরিক কাজ নিষ্পত্তির তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আন্তঃসরকারি জমি বা আইনি বিরোধগুলো নিজেদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে এক দপ্তর অন্য দপ্তরের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘটনা না ঘটে।
সরকারি ক্রয় ও উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে সচিবদের বলা হয়, অর্থের সংস্থান ছাড়া কোনো প্রস্তাব কেনাকাটা সংক্রান্ত কমিটিতে পাঠানো যাবে না। কেনাকাটার সারসংক্ষেপ তৈরিতে নতুন সরকারি ক্রয় বিধিমালার নির্ধারিত ছক অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড সংক্রান্ত সরকারি দিকনির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন এবং নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর তদারকি জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সরকারি কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিনিয়র সচিব ও সচিবদের ২৩টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।
এ সব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করতে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন, কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বিদেশ ভ্রমণে লাগাম টানা, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি এবং সরকারি অফিসে ডিজিটাল হাজিরা বাধ্যতামূলক করা। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সচিব সভার সিদ্ধান্তের আলোকে সম্প্রতি লিখিতভাবে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে এই নির্দেশনা পাঠোনো হয়েছে। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো নির্দেশনায় জানানো হয়, যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে একাধিক কর্মস্থলে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করা হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী আইনি ও দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, একই কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বারবার বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা জোরদারে বলা হয়েছে, সব সরকারি কর্মচারীকে সময়মতো অফিসে উপস্থিত হয়ে ডিজিটাল হাজিরা দিতে হবে। সব দপ্তরের হাজিরার তথ্য যেন একটি কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে দেখা যায়, সে ব্যবস্থা করবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।
এ ছাড়া চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে অন্য কারো মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির করলে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর গোপনীয় নথিতে বা ডোসিয়ারে তা নথিভুক্ত থাকবে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি দপ্তরগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কাজের অগ্রগতি জানিয়ে প্রতি দুই মাস পর পর বিদ্যুৎ বিভাগে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, অফিস প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে উপজেলা পর্যায়ের দপ্তরগুলোকে প্রতি ১৫ দিন পর পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে, যা পর্যায়ক্রমে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার হয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পৌঁছাবে।
জনসেবা নিশ্চিতকরণ ও দাপ্তরিক কাজের প্রসঙ্গে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, সেবাগ্রহীতাদের কোনো প্রকার হয়রানি ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হবে। শূন্যপদগুলো দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ডি-নথির মাধ্যমে গোপনীয়তা রক্ষা করে দ্রুত দাপ্তরিক কাজ নিষ্পত্তির তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আন্তঃসরকারি জমি বা আইনি বিরোধগুলো নিজেদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে এক দপ্তর অন্য দপ্তরের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘটনা না ঘটে।
সরকারি ক্রয় ও উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে সচিবদের বলা হয়, অর্থের সংস্থান ছাড়া কোনো প্রস্তাব কেনাকাটা সংক্রান্ত কমিটিতে পাঠানো যাবে না। কেনাকাটার সারসংক্ষেপ তৈরিতে নতুন সরকারি ক্রয় বিধিমালার নির্ধারিত ছক অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড সংক্রান্ত সরকারি দিকনির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন এবং নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর তদারকি জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন