সংবাদ

দাতাদের অর্থায়ন কাটছাঁটে ঝুঁকিতে ৮৩ লাখ শরণার্থী : ইউএনএইচসিআর


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৩ পিএম

দাতাদের অর্থায়ন কাটছাঁটে ঝুঁকিতে ৮৩ লাখ শরণার্থী : ইউএনএইচসিআর
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও দেশগুলোর ব্যাপক অর্থায়ন কাটছাঁটের কারণে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পুরোপুরি ভেঙে পড়ার চরম ঝুঁকিতে পড়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। অর্থায়নের এই তীব্র সংকটে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮৩ লাখ শরণার্থী, বাস্তুচ্যুত ও রাষ্ট্রহীন মানুষ তাদের জরুরি সহায়তা এবং সুরক্ষাসেবা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সতর্কবার্তা দিয়ে ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, আর্থিক সহায়তায় নজিরবিহীন ও দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতির ফলে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও মৌলিক সেবা প্রদানের সক্ষমতা দিন দিন মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে আসছে।

প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সংস্থাটি প্রায় ৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক অনুদান পেয়েছিল। তবে ২০২৫ সালে সেই বরাদ্দের পরিমাণ একলাফে কমে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে। অথচ চলতি ২০২৬ সালে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে শরণার্থীদের সার্বিক সুরক্ষায় অন্তত ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের তহবিল প্রয়োজন ছিল। তবে জুলাই মাস পর্যন্ত প্রয়োজনীয় চাহিদার মাত্র ৩২ শতাংশ, অর্থাৎ ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করতে পেরেছে তারা। বিশাল অঙ্কের এই অর্থসংকটের কারণেই মূলত ৮৩ লাখ মানুষ সরাসরি মানবিক সহায়তার বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সংস্থাটির এক্সটারনাল রিলেশনস বিভাগের প্রধান ডমিনিক হাইড সতর্ক করে বলেন, সুরক্ষামূলক কার্যক্রমের বাজেট একটা নির্দিষ্ট সীমারেখার নিচে নেমে গেলে পুরো সহায়তাকাঠামোটিই ভেঙে পড়ে। ফলে পরিষেবা স্রেফ সীমিত হয় না, অনেক ক্ষেত্রে পুরোপুরি বন্ধও হয়ে যায়। এতে সবচেয়ে বিপদে পড়বে অসহায় ও ঝুঁকিতে থাকা শিশু ও পরিবারগুলো।

ইতোমধ্যে নিজেদের জরুরি কার্যক্রমগুলো টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্কার ও অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে ইউএনএইচসিআর। তবে ঘাটতি এতটাই প্রকট যে, বিশ্বজুড়ে প্রধান শরণার্থী শিবিরগুলোতে স্বাস্থ্য, খাদ্য ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা দিন দিন অসম্ভব হয়ে উঠছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দাতাদের অর্থায়ন কাটছাঁটে ঝুঁকিতে ৮৩ লাখ শরণার্থী : ইউএনএইচসিআর

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও দেশগুলোর ব্যাপক অর্থায়ন কাটছাঁটের কারণে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পুরোপুরি ভেঙে পড়ার চরম ঝুঁকিতে পড়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। অর্থায়নের এই তীব্র সংকটে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮৩ লাখ শরণার্থী, বাস্তুচ্যুত ও রাষ্ট্রহীন মানুষ তাদের জরুরি সহায়তা এবং সুরক্ষাসেবা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সতর্কবার্তা দিয়ে ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, আর্থিক সহায়তায় নজিরবিহীন ও দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতির ফলে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও মৌলিক সেবা প্রদানের সক্ষমতা দিন দিন মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে আসছে।

প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সংস্থাটি প্রায় ৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক অনুদান পেয়েছিল। তবে ২০২৫ সালে সেই বরাদ্দের পরিমাণ একলাফে কমে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে। অথচ চলতি ২০২৬ সালে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে শরণার্থীদের সার্বিক সুরক্ষায় অন্তত ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের তহবিল প্রয়োজন ছিল। তবে জুলাই মাস পর্যন্ত প্রয়োজনীয় চাহিদার মাত্র ৩২ শতাংশ, অর্থাৎ ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করতে পেরেছে তারা। বিশাল অঙ্কের এই অর্থসংকটের কারণেই মূলত ৮৩ লাখ মানুষ সরাসরি মানবিক সহায়তার বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সংস্থাটির এক্সটারনাল রিলেশনস বিভাগের প্রধান ডমিনিক হাইড সতর্ক করে বলেন, সুরক্ষামূলক কার্যক্রমের বাজেট একটা নির্দিষ্ট সীমারেখার নিচে নেমে গেলে পুরো সহায়তাকাঠামোটিই ভেঙে পড়ে। ফলে পরিষেবা স্রেফ সীমিত হয় না, অনেক ক্ষেত্রে পুরোপুরি বন্ধও হয়ে যায়। এতে সবচেয়ে বিপদে পড়বে অসহায় ও ঝুঁকিতে থাকা শিশু ও পরিবারগুলো।

ইতোমধ্যে নিজেদের জরুরি কার্যক্রমগুলো টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্কার ও অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে ইউএনএইচসিআর। তবে ঘাটতি এতটাই প্রকট যে, বিশ্বজুড়ে প্রধান শরণার্থী শিবিরগুলোতে স্বাস্থ্য, খাদ্য ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা দিন দিন অসম্ভব হয়ে উঠছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত