সূর্য ও চাঁদের মহাকর্ষীয় টানে পৃথিবীতে নিয়মিত জোয়ার-ভাটা তৈরি হয়। শুধু সমুদ্রের পানিই নয়, এই জোয়ারের প্রভাব পড়ে পৃথিবীর কঠিন ভূত্বকের ওপরও। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করে আসছেন, জোয়ারের এই সামান্য চাপ কখনো কখনো ধীরগতির ভূমিকম্পের সূচনা করতে পারে। এবার এমন ঘটনার পেছনে কাজ করা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেছেন ফ্রান্সের পিএসল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী।
জেজিআর সলিড আর্থ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় তাঁরা দেখিয়েছেন, অত্যন্ত কম মাত্রার জোয়ারজনিত চাপ কীভাবে নির্দিষ্ট কিছু ফল্ট লাইনে ধীরগতির সিসমিক কার্যকলাপ শুরু করতে পারে।
সামান্য চাপেও কেন নড়ে ফল্ট
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, জোয়ারের কারণে সৃষ্ট চাপের মাত্রা খুব কম। মানুষের হাতের মৃদু চাপের সঙ্গে এর তুলনা করা যায়। কিন্তু কিছু ফল্ট লাইনের ক্ষেত্রে এই সামান্য চাপও পরিবর্তন ঘটানোর জন্য যথেষ্ট হতে পারে।
টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে ঘর্ষণ ও পিছলে যাওয়ার বিষয়টি বোঝার জন্য বিজ্ঞানীরা স্প্রিং-ব্লক মডেল ও ফ্রিশন সমীকরণ ব্যবহার করে বিভিন্ন পরিস্থিতি অনুকরণ করেছেন।
মডেলিংয়ে দেখা গেছে, সামান্য ধাক্কাতেও একটি ফল্ট লাইন তার স্বাভাবিক অবস্থা থেকে সরে যেতে পারে। ফল্টের গতিবেগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ঘর্ষণ কমে যায়। এর ফলে ধীর বা দ্রুত—দুই ধরনের স্লিপ ইভেন্টই তৈরি হতে পারে।
চাপের মাত্রা ও স্থায়িত্বেও বদলায় ভূমিকম্পের ধরন
জোয়ারের চাপ সব সময় একই ধরনের সিসমিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে না। এর পেছনে ফল্ট লাইনের ঘর্ষণজনিত বৈশিষ্ট্য, চাপের তীব্রতা এবং সেই চাপ কতক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে—এসব বিষয় ভূমিকা রাখে।
চাপের মাত্রা কম থাকলে ফল্ট সাধারণত ধীরে ধীরে পিছলে যেতে পারে। তবে চাপ একটি নির্দিষ্ট সীমা ছাড়িয়ে গেলে এবং নির্দিষ্ট সময় ধরে কার্যকর থাকলে ফল্ট নড়াচড়া শুরু করতে পারে।
বিজ্ঞানীরা এই প্রক্রিয়াকে অনুনাদ বা রেজোন্যান্সের সঙ্গে তুলনা করেছেন। অর্থাৎ, দোলনরত কোনো কিছুকে তার সঠিক ছন্দে ধাক্কা দেওয়ার মতো করে জোয়ারের চাপও কখনো ফল্টের নড়াচড়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে এই চাপের ফল সব সময় সরল নয়। কখনো কখনো এর প্রভাবে জটিল ও অপ্রত্যাশিত ধরনের সিসমিক কার্যকলাপও দেখা দিতে পারে।
তিন ধরনের সময়ভিত্তিক প্যাটার্ন
গবেষণায় জোয়ারের চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত ভূমিকম্পের সম্ভাব্য তিনটি সময়ভিত্তিক বিন্যাস বা প্যাটার্নও পরীক্ষা করা হয়েছে।
মডেল থেকে পাওয়া ফলাফল বলছে, জোয়ারের চক্রের সময় এবং সংশ্লিষ্ট ফল্ট লাইনের বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে এসব ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
ভূমিকম্প পূর্বাভাসে নতুন সম্ভাবনা
পৃথিবীর ভূত্বকের ওপর জোয়ারের প্রভাব কীভাবে কাজ করে, তা মডেলিংয়ের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ভূমিকম্পের আচরণ বোঝার একটি নতুন পথের সন্ধান পেয়েছেন। ভবিষ্যতে এই ধরনের গবেষণা ভূমিকম্প পূর্বাভাসের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সূর্য ও চাঁদের মহাকর্ষীয় টানে পৃথিবীতে নিয়মিত জোয়ার-ভাটা তৈরি হয়। শুধু সমুদ্রের পানিই নয়, এই জোয়ারের প্রভাব পড়ে পৃথিবীর কঠিন ভূত্বকের ওপরও। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করে আসছেন, জোয়ারের এই সামান্য চাপ কখনো কখনো ধীরগতির ভূমিকম্পের সূচনা করতে পারে। এবার এমন ঘটনার পেছনে কাজ করা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেছেন ফ্রান্সের পিএসল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী।
জেজিআর সলিড আর্থ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় তাঁরা দেখিয়েছেন, অত্যন্ত কম মাত্রার জোয়ারজনিত চাপ কীভাবে নির্দিষ্ট কিছু ফল্ট লাইনে ধীরগতির সিসমিক কার্যকলাপ শুরু করতে পারে।
সামান্য চাপেও কেন নড়ে ফল্ট
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, জোয়ারের কারণে সৃষ্ট চাপের মাত্রা খুব কম। মানুষের হাতের মৃদু চাপের সঙ্গে এর তুলনা করা যায়। কিন্তু কিছু ফল্ট লাইনের ক্ষেত্রে এই সামান্য চাপও পরিবর্তন ঘটানোর জন্য যথেষ্ট হতে পারে।
টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে ঘর্ষণ ও পিছলে যাওয়ার বিষয়টি বোঝার জন্য বিজ্ঞানীরা স্প্রিং-ব্লক মডেল ও ফ্রিশন সমীকরণ ব্যবহার করে বিভিন্ন পরিস্থিতি অনুকরণ করেছেন।
মডেলিংয়ে দেখা গেছে, সামান্য ধাক্কাতেও একটি ফল্ট লাইন তার স্বাভাবিক অবস্থা থেকে সরে যেতে পারে। ফল্টের গতিবেগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ঘর্ষণ কমে যায়। এর ফলে ধীর বা দ্রুত—দুই ধরনের স্লিপ ইভেন্টই তৈরি হতে পারে।
চাপের মাত্রা ও স্থায়িত্বেও বদলায় ভূমিকম্পের ধরন
জোয়ারের চাপ সব সময় একই ধরনের সিসমিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে না। এর পেছনে ফল্ট লাইনের ঘর্ষণজনিত বৈশিষ্ট্য, চাপের তীব্রতা এবং সেই চাপ কতক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে—এসব বিষয় ভূমিকা রাখে।
চাপের মাত্রা কম থাকলে ফল্ট সাধারণত ধীরে ধীরে পিছলে যেতে পারে। তবে চাপ একটি নির্দিষ্ট সীমা ছাড়িয়ে গেলে এবং নির্দিষ্ট সময় ধরে কার্যকর থাকলে ফল্ট নড়াচড়া শুরু করতে পারে।
বিজ্ঞানীরা এই প্রক্রিয়াকে অনুনাদ বা রেজোন্যান্সের সঙ্গে তুলনা করেছেন। অর্থাৎ, দোলনরত কোনো কিছুকে তার সঠিক ছন্দে ধাক্কা দেওয়ার মতো করে জোয়ারের চাপও কখনো ফল্টের নড়াচড়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে এই চাপের ফল সব সময় সরল নয়। কখনো কখনো এর প্রভাবে জটিল ও অপ্রত্যাশিত ধরনের সিসমিক কার্যকলাপও দেখা দিতে পারে।
তিন ধরনের সময়ভিত্তিক প্যাটার্ন
গবেষণায় জোয়ারের চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত ভূমিকম্পের সম্ভাব্য তিনটি সময়ভিত্তিক বিন্যাস বা প্যাটার্নও পরীক্ষা করা হয়েছে।
মডেল থেকে পাওয়া ফলাফল বলছে, জোয়ারের চক্রের সময় এবং সংশ্লিষ্ট ফল্ট লাইনের বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে এসব ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
ভূমিকম্প পূর্বাভাসে নতুন সম্ভাবনা
পৃথিবীর ভূত্বকের ওপর জোয়ারের প্রভাব কীভাবে কাজ করে, তা মডেলিংয়ের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ভূমিকম্পের আচরণ বোঝার একটি নতুন পথের সন্ধান পেয়েছেন। ভবিষ্যতে এই ধরনের গবেষণা ভূমিকম্প পূর্বাভাসের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন