কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দইখাওয়া সীমান্তে দুই ভারতীয় নাগরিককে গুলি করে বাংলাদেশ অংশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। গরু চোরাচালানের সময় বাংলাদেশি ভেবে তাদের গুলি করা হয় বলে জানা গেছে। আহত ওই দুই ব্যক্তি বর্তমানে পুলিশ পাহারায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান।
গুলিবিদ্ধ দুই ব্যক্তি হলেন আব্দুল আলীম ও ইসমাইল হোসেন। তারা ভারতের আসাম রাজ্যের দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর জেলার সুখচর থানার দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর বড়বালু এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রমতে, আব্দুল আলীম ওই এলাকার আব্দুল মজিদ মণ্ডলের ছেলে এবং ইসমাইল হোসেন মৃত আব্দুল করিম শেখের ছেলে।
জানা যায়, রোববার মধ্যরাতে উলিপুরের সাহেবের আলগা ইউনিয়নের দুর্গম দইখাওয়া সীমান্তে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাদের ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে বাংলাদেশি সহযোগীরা তাদের উদ্ধার করে গোপনে রংপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে গোয়েন্দা পুলিশের মাধ্যমে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পুলিশ পাহারায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ দুজন ভারতীয় নাগরিক চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের বরাতে জানতে পেরেছি, উলিপুরের সাহেবের আলগা ইউনিয়নের দুর্গম দইখাওয়া চর সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ জোয়ানরা তাদের গরু পাচারের সময় গুলি করে মৃত ভেবে চলে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গোপনে রংপুর শহরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে তারা ভর্তি হন। আমাদের গোয়েন্দা বিভাগ খবর পেয়ে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ বিষয়ে বিশেষ আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুজনের শরীরেই গুলির আঘাত রয়েছে। তাদের মধ্যে আব্দুল আলীমের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, ‘ভারতীয় দুই নাগরিককে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নেবে।’
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এরকম ঘটনা শুনেছি। তবে বিজিবি কোনো তথ্য জানায়নি। বিষয়টি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ দেখছে।’
অন্যদিকে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহাবুব উল হক বলেন, ‘সীমান্তে গুলির কোনো ঘটনা আমাদের জানা নেই। কাজেই এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য নেই। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে।’
আপনার মতামত লিখুন