আদালতের নির্দেশে দাফনের সাড়ে ৯ মাস পর রহস্যজনক মৃত্যুর শিকার মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মো. মুদাচ্ছিরের (৮) লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দামিহা ইউনিয়নের রাহেলা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে লাশটি তোলা হয়।
এ সময় তাড়াইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিসান আলী, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপপরিদর্শক (এসআই) নাজিমউদ্দীন ও তাড়াইল থানা পুলিশ সদস্যসহ স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
নিহত মুদাচ্ছির রাহেলা গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে। সে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকার 'মাদরাসাতুল ইতকান লি উলুমিল কোরআন' মাদরাসার আবাসিক শিক্ষার্থী ছিল। দীর্ঘ তিন বছর ধরে সে সেখানে হিফজ বিভাগে পড়াশোনা করছিল।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা ক্বারী আনিছুর রহমানের ফোন পেয়ে শিশুটির বাবা-মা যাত্রাবাড়ীর ওই মাদ্রাসায় যান। সেখানে গিয়ে চতুর্থ তলায় শিক্ষকদের শৌচাগারের ভেন্টিলেটরের গ্রিলের সঙ্গে গামছা পেঁচানো অবস্থায় মুদাচ্ছিরের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান তারা। এ সময় শিশুটির দুই পা মেঝের সঙ্গে বাঁকা অবস্থায় লাগানো ছিল বলে পরিবার অভিযোগ করে।
ঘটনার পরদিন ২১ ডিসেম্বর শিশুটির বাবা জিয়াউর রহমান বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা ক্বারী আনিছুর রহমান, শিক্ষক হাফেজ মাওলানা জহিরুল ইসলাম ও হাফেজ মোহাম্মদ উল্লাহসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়।
জিয়াউর রহমান এজাহারে অভিযোগ করেন, শিশুটির সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকতে পারে অথবা সে কোনো গোপন ঘটনা দেখে ফেলায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরে ঘটনাটি আড়াল করতে লাশ শৌচাগারের ভেন্টিলেটরে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। তবে নিহতের পরিবার এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে পুনর্ময়নাতদন্তের আবেদন জানায়। পরে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন ও লাশ কবর থেকে তুলে পুনর্ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।
ছেলের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার দাবি করে জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আসামিরা প্রভাবশালী এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে তাদের সখ্য রয়েছে। আমি আমার সন্তান হত্যার সঠিক বিচার চাই।’

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
আদালতের নির্দেশে দাফনের সাড়ে ৯ মাস পর রহস্যজনক মৃত্যুর শিকার মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মো. মুদাচ্ছিরের (৮) লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দামিহা ইউনিয়নের রাহেলা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে লাশটি তোলা হয়।
এ সময় তাড়াইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিসান আলী, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপপরিদর্শক (এসআই) নাজিমউদ্দীন ও তাড়াইল থানা পুলিশ সদস্যসহ স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
নিহত মুদাচ্ছির রাহেলা গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে। সে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকার 'মাদরাসাতুল ইতকান লি উলুমিল কোরআন' মাদরাসার আবাসিক শিক্ষার্থী ছিল। দীর্ঘ তিন বছর ধরে সে সেখানে হিফজ বিভাগে পড়াশোনা করছিল।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা ক্বারী আনিছুর রহমানের ফোন পেয়ে শিশুটির বাবা-মা যাত্রাবাড়ীর ওই মাদ্রাসায় যান। সেখানে গিয়ে চতুর্থ তলায় শিক্ষকদের শৌচাগারের ভেন্টিলেটরের গ্রিলের সঙ্গে গামছা পেঁচানো অবস্থায় মুদাচ্ছিরের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান তারা। এ সময় শিশুটির দুই পা মেঝের সঙ্গে বাঁকা অবস্থায় লাগানো ছিল বলে পরিবার অভিযোগ করে।
ঘটনার পরদিন ২১ ডিসেম্বর শিশুটির বাবা জিয়াউর রহমান বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা ক্বারী আনিছুর রহমান, শিক্ষক হাফেজ মাওলানা জহিরুল ইসলাম ও হাফেজ মোহাম্মদ উল্লাহসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়।
জিয়াউর রহমান এজাহারে অভিযোগ করেন, শিশুটির সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকতে পারে অথবা সে কোনো গোপন ঘটনা দেখে ফেলায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরে ঘটনাটি আড়াল করতে লাশ শৌচাগারের ভেন্টিলেটরে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। তবে নিহতের পরিবার এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে পুনর্ময়নাতদন্তের আবেদন জানায়। পরে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন ও লাশ কবর থেকে তুলে পুনর্ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।
ছেলের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার দাবি করে জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আসামিরা প্রভাবশালী এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে তাদের সখ্য রয়েছে। আমি আমার সন্তান হত্যার সঠিক বিচার চাই।’

আপনার মতামত লিখুন