মহাকাশে মানুষের তৈরি প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেয় ‘স্পুটনিক ১’। ১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এটি মহাকাশে পাঠায়। মাত্র ২২ ইঞ্চি ব্যাসের গোলাকার এই স্যাটেলাইটটি মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে বিপিং শব্দ পাঠিয়েছিল। ছোট এই স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণই পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে মহাকাশ গবেষণার প্রতিযোগিতাকে তীব্র করে তোলে।
যেভাবে মহাকাশে পৌঁছায় স্পুটনিক ১
১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর কাজাখস্তানের বাইকনুর কস্মোড্রোমের কাছাকাছি একটি স্থান থেকে স্পুটনিক ১ উৎক্ষেপণ করা হয়।
মহাকাশে পৌঁছানোর পর এটি পৃথিবীকে ঘিরে একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ঘুরতে থাকে। তবে স্যাটেলাইটটিতে কোনো বৈজ্ঞানিক যন্ত্রাংশ ছিল না।
মহাকাশ থেকে শোনা যেত বিপিং শব্দ
স্পুটনিক ১-এর সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি ছিল এর পাঠানো বিপিং শব্দ। অ্যামেচার রেডিও অপারেটররাও সেই সংকেত শনাক্ত করতে পারতেন।
স্যাটেলাইটটি কোনো এলাকার কাছে এলে বিপিং শব্দের গতি বেড়ে যেত, আবার দূরে সরে গেলে শব্দের গতি কমে আসত। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে রেডিও অপারেটররা স্যাটেলাইটটির গতিপথ শনাক্ত করতে পারতেন।
তবে মহাকাশে পাঠানোর মাত্র ২২ দিনের মাথায় স্পুটনিক ১-এর ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যায়। এরপর স্যাটেলাইটটি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে পুড়ে যায়।
স্পুটনিকের সাফল্যে যুক্তরাষ্ট্রে শঙ্কা
স্পুটনিক ১-এর সফল উৎক্ষেপণ যুক্তরাষ্ট্রে আনন্দের পরিবর্তে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছিল। এর পরই মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ দ্রুত ‘এক্সপ্লোরার প্রজেক্ট’-এর অনুমোদন দেয়।
একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ডয়েট ডি. আইজেনহাওয়ার একটি বেসামরিক মহাকাশ সংস্থা গঠনের উদ্যোগ নেন। পরবর্তী সময়ে এই সংস্থাই নাসা নামে পরিচিত হয়।
মহাকাশ প্রতিযোগিতার নতুন অধ্যায়
স্পুটনিক ১-এর উৎক্ষেপণ মহাকাশ গবেষণায় একটি নতুন প্রতিযোগিতার সূচনা করে। বিভিন্ন দেশ মহাকাশে নিজেদের সক্ষমতা দেখাতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে।
এই প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে মানবজাতি অ্যাপোলো চন্দ্রাভিযানের মতো বড় সাফল্যের দিকে এগিয়ে যায়।

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
মহাকাশে মানুষের তৈরি প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেয় ‘স্পুটনিক ১’। ১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এটি মহাকাশে পাঠায়। মাত্র ২২ ইঞ্চি ব্যাসের গোলাকার এই স্যাটেলাইটটি মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে বিপিং শব্দ পাঠিয়েছিল। ছোট এই স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণই পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে মহাকাশ গবেষণার প্রতিযোগিতাকে তীব্র করে তোলে।
যেভাবে মহাকাশে পৌঁছায় স্পুটনিক ১
১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর কাজাখস্তানের বাইকনুর কস্মোড্রোমের কাছাকাছি একটি স্থান থেকে স্পুটনিক ১ উৎক্ষেপণ করা হয়।
মহাকাশে পৌঁছানোর পর এটি পৃথিবীকে ঘিরে একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ঘুরতে থাকে। তবে স্যাটেলাইটটিতে কোনো বৈজ্ঞানিক যন্ত্রাংশ ছিল না।
মহাকাশ থেকে শোনা যেত বিপিং শব্দ
স্পুটনিক ১-এর সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি ছিল এর পাঠানো বিপিং শব্দ। অ্যামেচার রেডিও অপারেটররাও সেই সংকেত শনাক্ত করতে পারতেন।
স্যাটেলাইটটি কোনো এলাকার কাছে এলে বিপিং শব্দের গতি বেড়ে যেত, আবার দূরে সরে গেলে শব্দের গতি কমে আসত। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে রেডিও অপারেটররা স্যাটেলাইটটির গতিপথ শনাক্ত করতে পারতেন।
তবে মহাকাশে পাঠানোর মাত্র ২২ দিনের মাথায় স্পুটনিক ১-এর ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যায়। এরপর স্যাটেলাইটটি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে পুড়ে যায়।
স্পুটনিকের সাফল্যে যুক্তরাষ্ট্রে শঙ্কা
স্পুটনিক ১-এর সফল উৎক্ষেপণ যুক্তরাষ্ট্রে আনন্দের পরিবর্তে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছিল। এর পরই মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ দ্রুত ‘এক্সপ্লোরার প্রজেক্ট’-এর অনুমোদন দেয়।
একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ডয়েট ডি. আইজেনহাওয়ার একটি বেসামরিক মহাকাশ সংস্থা গঠনের উদ্যোগ নেন। পরবর্তী সময়ে এই সংস্থাই নাসা নামে পরিচিত হয়।
মহাকাশ প্রতিযোগিতার নতুন অধ্যায়
স্পুটনিক ১-এর উৎক্ষেপণ মহাকাশ গবেষণায় একটি নতুন প্রতিযোগিতার সূচনা করে। বিভিন্ন দেশ মহাকাশে নিজেদের সক্ষমতা দেখাতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে।
এই প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে মানবজাতি অ্যাপোলো চন্দ্রাভিযানের মতো বড় সাফল্যের দিকে এগিয়ে যায়।

আপনার মতামত লিখুন