সংবাদ

যখন ঢাকায় নেমেছিল ফুটবলের জাদুকর মেসি


শামীম রিজভী
শামীম রিজভী
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০২ পিএম

যখন ঢাকায় নেমেছিল ফুটবলের জাদুকর মেসি

দেশের ফুটবল ইতিহাসের পাতায় ২০১১ সালের ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর দুটি দিন চিরকাল দর্শক-সমর্থকদের মনে গেঁথে থাকবে। বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি ৫ সেপ্টেম্বর এসেছিলেন ঢাকায় এবং সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন পুরো আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে। সেদিন বিমানবন্দর থেকে শুরু করে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপে মেসিকে এক নজর দেখার জন্য হাজার হাজার সমর্থক অপেক্ষা করছিলেন।

দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৎকালীন বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিনের ঘোষণায় ঢাকায় আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ আয়োজিত হয়েছিল। মেসির সঙ্গে সেবার দলে এসেছিলেন গনজালো হিগুয়েইন, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া, হ্যাভিয়ের মাচেরানো এবং সার্জিও আগুয়েরার মতো বিশ্বমানের সব তারকা ফুটবলাররা।

বিমানবন্দরে পা রাখার পরই মেসিদের স্বাগত জানানোর সেই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো শহরে। হোটেলের সামনে ভক্তদের দীর্ঘ অপেক্ষা আর জার্সি বা ডায়েরিতে মেসির একটি অটোগ্রাফ পাওয়ার সেই মুহূর্তটি অনেকের কাছেই ছিল জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি।

এরপর তৎকালিন বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মেসিদের উন্মুক্ত অনুশীলন দেখতে প্রায় ১০ হাজার দর্শকের ঢল নেমেছিল। গ্যালারিতে হাজারো মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল একটাই নাম; ‘মেসি, মেসি’। অনুশীলনে বল পায়ে তার জাদুকরী মুহূর্ত আর ফ্রি-কিকের সময় পুরো স্টেডিয়ামের নিস্তব্ধতা দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল।

৬ সেপ্টেম্বর ম্যাচের দিন সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ-বাতাস মুখরিত ছিল আকাশি-সাদা পতাকায়। টিকিটের চড়া দাম নিয়ে সমালোচনা থাকলেও মেসিকে সরাসরি মাঠে দেখার অদম্য আকর্ষণে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল স্টেডিয়ামের গ্যালারি।

ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ৩-১ গোলে জয়লাভ করেছিল। যদিও মেসি নিজে গোল পাননি, তবে তার নিখুঁত চিপে গনজালো হিগুয়েইনের গোল এবং ডি মারিয়ার গোলের উৎস হিসেবে তার অবদান পুরো স্টেডিয়ামকে মাতিয়ে রেখেছিল। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে তার এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দর্শকদের মনে আজও গভীর দাগ কেটে আছে।

মাত্র দুই দিনের সেই সংক্ষিপ্ত সফর শুধু একটি ম্যাচেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ফুটবল আয়োজনের সক্ষমতার এক বিশাল প্রমাণ ছিল। ব্যবস্থাপনায় কিছু ত্রুটি ও অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছিল।

সেই ঐতিহাসিক সফরের পর কেটে গেছে বহু বছর, আর বিশ্ব ফুটবলের এই মহাতারকা এখন তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অন্তিম প্রান্তে। বেনিনের বিপক্ষে বুয়েন্স আয়ার্সের এস্টাডিও মনুমেন্টালে জীবনের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে জার্সি-বুট তুলে রাখার এই ক্ষণেও বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা পরম মমতায় স্মরণ করছেন ২০১১ সালের সেই সোনালী ও জাদুকরী দিনগুলোকে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


যখন ঢাকায় নেমেছিল ফুটবলের জাদুকর মেসি

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দেশের ফুটবল ইতিহাসের পাতায় ২০১১ সালের ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর দুটি দিন চিরকাল দর্শক-সমর্থকদের মনে গেঁথে থাকবে। বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি ৫ সেপ্টেম্বর এসেছিলেন ঢাকায় এবং সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন পুরো আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে। সেদিন বিমানবন্দর থেকে শুরু করে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপে মেসিকে এক নজর দেখার জন্য হাজার হাজার সমর্থক অপেক্ষা করছিলেন।

দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৎকালীন বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিনের ঘোষণায় ঢাকায় আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ আয়োজিত হয়েছিল। মেসির সঙ্গে সেবার দলে এসেছিলেন গনজালো হিগুয়েইন, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া, হ্যাভিয়ের মাচেরানো এবং সার্জিও আগুয়েরার মতো বিশ্বমানের সব তারকা ফুটবলাররা।

বিমানবন্দরে পা রাখার পরই মেসিদের স্বাগত জানানোর সেই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো শহরে। হোটেলের সামনে ভক্তদের দীর্ঘ অপেক্ষা আর জার্সি বা ডায়েরিতে মেসির একটি অটোগ্রাফ পাওয়ার সেই মুহূর্তটি অনেকের কাছেই ছিল জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি।

এরপর তৎকালিন বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মেসিদের উন্মুক্ত অনুশীলন দেখতে প্রায় ১০ হাজার দর্শকের ঢল নেমেছিল। গ্যালারিতে হাজারো মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল একটাই নাম; ‘মেসি, মেসি’। অনুশীলনে বল পায়ে তার জাদুকরী মুহূর্ত আর ফ্রি-কিকের সময় পুরো স্টেডিয়ামের নিস্তব্ধতা দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল।

৬ সেপ্টেম্বর ম্যাচের দিন সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ-বাতাস মুখরিত ছিল আকাশি-সাদা পতাকায়। টিকিটের চড়া দাম নিয়ে সমালোচনা থাকলেও মেসিকে সরাসরি মাঠে দেখার অদম্য আকর্ষণে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল স্টেডিয়ামের গ্যালারি।

ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ৩-১ গোলে জয়লাভ করেছিল। যদিও মেসি নিজে গোল পাননি, তবে তার নিখুঁত চিপে গনজালো হিগুয়েইনের গোল এবং ডি মারিয়ার গোলের উৎস হিসেবে তার অবদান পুরো স্টেডিয়ামকে মাতিয়ে রেখেছিল। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে তার এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দর্শকদের মনে আজও গভীর দাগ কেটে আছে।

মাত্র দুই দিনের সেই সংক্ষিপ্ত সফর শুধু একটি ম্যাচেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ফুটবল আয়োজনের সক্ষমতার এক বিশাল প্রমাণ ছিল। ব্যবস্থাপনায় কিছু ত্রুটি ও অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছিল।

সেই ঐতিহাসিক সফরের পর কেটে গেছে বহু বছর, আর বিশ্ব ফুটবলের এই মহাতারকা এখন তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অন্তিম প্রান্তে। বেনিনের বিপক্ষে বুয়েন্স আয়ার্সের এস্টাডিও মনুমেন্টালে জীবনের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে জার্সি-বুট তুলে রাখার এই ক্ষণেও বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা পরম মমতায় স্মরণ করছেন ২০১১ সালের সেই সোনালী ও জাদুকরী দিনগুলোকে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত