সংবাদ

মধ্যরাত থেকে ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু


 জাফর ইকবাল, পাথরঘাটা (বরগুনা)
জাফর ইকবাল, পাথরঘাটা (বরগুনা)
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০১ পিএম

মধ্যরাত থেকে ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু
বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মাছ বিক্রেতাদের ব্যস্ততা। ছবি : সংবাদ

সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও মা ইলিশের প্রজননকাল নির্বিঘ্ন করতে বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা থেকে শুরু হচ্ছে সাগর ও মোহনায় ২২ দিনের মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা। এই নিষেধাজ্ঞাকে সামনে রেখে গভীর সমুদ্র থেকে মাছ নিয়ে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ফিরতে শুরু করেছে শত শত মাছ ধরার ট্রলার। এতে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটে বেড়েছে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ।

অবরোধ শুরুর আগমুহূর্তে ট্রলারগুলো মাছ বিক্রির জন্য একের পর এক বিএফডিসি ঘাটে ভিড়তে দেখা গেছে। ঘাট এলাকায় মাছের হাঁকডাক, ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক এবং শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। তবে পূর্বের তুলনায় মাছের দাম আরও চড়া বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

পাথরঘাটা উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, ৭ অক্টোবর দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে মা ইলিশ সংরক্ষণে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। আইন অমান্য করে মাছ শিকার বা বাজারজাত করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

নিষেধাজ্ঞার কারণে পাথরঘাটার প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বিএফডিসিসহ উপজেলার বিভিন্ন মৎস্য আড়ত ২২ দিন কার্যত বন্ধ থাকবে। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়বেন হাজার হাজার জেলে ও মৎস্যজীবী। পাশাপাশি বন্ধ থাকবে বরফকল ও মাছসংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো।

বুধবার বিএফডিসি ঘাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটে সারি সারি ট্রলার বাঁধা রয়েছে এবং শ্রমিকেরা দ্রুত মাছ খালাস করছেন। এফবি সাফওয়ান ট্রলারের মাঝি নাসির উদ্দিন এবং জেলে জসিম, মনির ও ওসমান বলেন, সাগরে মাছ ধরার ওপর বার বার নিষেধাজ্ঞার পর কাঙ্ক্ষিত ইলিশ মিলছে না। গত চার-পাঁচ বছর ধরে নদীতে মাছ না পাওয়ায় ভিটেমাটি বিক্রি করে নিঃস্ব হচ্ছেন সাধারণ জেলেরা।

ট্রলার মালিক মোস্তফা কামাল আলম আক্ষেপ করে বলেন, ‘ছয়টি ট্রলার চালিয়েও লাভের মুখ দেখছি না। গত ছয় বছরে কোটি কোটি টাকা দেনা হয়ে গেছি। এখন ট্রলার বিক্রি করতে চাইলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।’

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ করা গেলে এর সুফল জেলেরাই পাবেন। তবে সরকারের দেওয়া ২৫ কেজি চাল প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। চালের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন এবং বছরে একাধিকবার না দিয়ে প্রজনন সময় বিবেচনায় একবার নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত।’

পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাসিবুর হক জানান, বুধবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে বিএফডিসিসহ বিভিন্ন ঘাটে সচেতনতামূলক মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। আগামী ২২ দিন উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে মাঠে থাকবে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের টহল জোরদার থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


মধ্যরাত থেকে ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও মা ইলিশের প্রজননকাল নির্বিঘ্ন করতে বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা থেকে শুরু হচ্ছে সাগর ও মোহনায় ২২ দিনের মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা। এই নিষেধাজ্ঞাকে সামনে রেখে গভীর সমুদ্র থেকে মাছ নিয়ে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ফিরতে শুরু করেছে শত শত মাছ ধরার ট্রলার। এতে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটে বেড়েছে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ।

অবরোধ শুরুর আগমুহূর্তে ট্রলারগুলো মাছ বিক্রির জন্য একের পর এক বিএফডিসি ঘাটে ভিড়তে দেখা গেছে। ঘাট এলাকায় মাছের হাঁকডাক, ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক এবং শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। তবে পূর্বের তুলনায় মাছের দাম আরও চড়া বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

পাথরঘাটা উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, ৭ অক্টোবর দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে মা ইলিশ সংরক্ষণে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। আইন অমান্য করে মাছ শিকার বা বাজারজাত করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

নিষেধাজ্ঞার কারণে পাথরঘাটার প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বিএফডিসিসহ উপজেলার বিভিন্ন মৎস্য আড়ত ২২ দিন কার্যত বন্ধ থাকবে। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়বেন হাজার হাজার জেলে ও মৎস্যজীবী। পাশাপাশি বন্ধ থাকবে বরফকল ও মাছসংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো।

বুধবার বিএফডিসি ঘাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটে সারি সারি ট্রলার বাঁধা রয়েছে এবং শ্রমিকেরা দ্রুত মাছ খালাস করছেন। এফবি সাফওয়ান ট্রলারের মাঝি নাসির উদ্দিন এবং জেলে জসিম, মনির ও ওসমান বলেন, সাগরে মাছ ধরার ওপর বার বার নিষেধাজ্ঞার পর কাঙ্ক্ষিত ইলিশ মিলছে না। গত চার-পাঁচ বছর ধরে নদীতে মাছ না পাওয়ায় ভিটেমাটি বিক্রি করে নিঃস্ব হচ্ছেন সাধারণ জেলেরা।

ট্রলার মালিক মোস্তফা কামাল আলম আক্ষেপ করে বলেন, ‘ছয়টি ট্রলার চালিয়েও লাভের মুখ দেখছি না। গত ছয় বছরে কোটি কোটি টাকা দেনা হয়ে গেছি। এখন ট্রলার বিক্রি করতে চাইলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।’

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ করা গেলে এর সুফল জেলেরাই পাবেন। তবে সরকারের দেওয়া ২৫ কেজি চাল প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। চালের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন এবং বছরে একাধিকবার না দিয়ে প্রজনন সময় বিবেচনায় একবার নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত।’

পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাসিবুর হক জানান, বুধবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে বিএফডিসিসহ বিভিন্ন ঘাটে সচেতনতামূলক মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। আগামী ২২ দিন উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে মাঠে থাকবে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের টহল জোরদার থাকবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত