মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা (৮ অক্টোবর) থেকে শুরু হচ্ছে টানা ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। এ নিষেধাজ্ঞার কারণে পটুয়াখালীর উপকূলীয় উপজেলা রাঙ্গাবালীর ২০ হাজারের বেশি জেলে কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। তবে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে উপজেলার প্রায় সাড়ে সাত হাজার জেলে এবার কোনো সরকারি খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন না। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম জীবিকা ও খাদ্য অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন তারা।
ভুক্তভোগী জেলেরা জানিয়েছেন, সদ্য সমাপ্ত ইলিশের পুরো মৌসুমজুড়েই তাদের প্রাপ্তির খাতা ছিল প্রায় শূন্য। একদিকে সাগরের ক্রমাগত বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল তরঙ্গ, অন্যদিকে মৌসুমের শেষ মুহূর্তে এসে নতুন করে যুক্ত হওয়া জলদস্যু আতঙ্ক—সব মিলিয়ে বিপুল লোকসানের বোঝা নিয়েই উপকূলে ফিরতে হয়েছে তাদের। মৌসুমের সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ২২ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা জেলে পরিবারগুলোর ওপর নতুন দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।
উপজেলা মৎস্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গাবালীতে সরকারিভাবে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৬ হাজার ৮০৯ জন। তবে অনিবন্ধিত জেলেসহ উপজেলায় প্রকৃত জেলে সংখ্যা ২০ হাজারেরও বেশি। আসন্ন নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকারি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় কেবল ১২ হাজার ৫০০ জন নিবন্ধিত জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। ফলে তালিকার বাইরে থাকা নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার প্রান্তিক জেলে সরকারি সাহায্য বলয়ের বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সাগর ও নদীর সংযোগস্থলে মাছ ধরা বন্ধ রাখা অত্যন্ত জরুরি ও বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপ। তবে এই কর্মসূচি টেকসই ও সফল করতে হলে কর্মহীন হয়ে পড়া সব জেলের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করা আবশ্যক। খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হলে জেলেদের মধ্যে অসাধু উপায়ে মাছ ধরার প্রবণতা বাড়ে। একইসঙ্গে মা ইলিশ সুরক্ষার পাশাপাশি ইলিশের রেণু পোনা ও জাটকা নিধন বন্ধে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেন তারা।

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা (৮ অক্টোবর) থেকে শুরু হচ্ছে টানা ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। এ নিষেধাজ্ঞার কারণে পটুয়াখালীর উপকূলীয় উপজেলা রাঙ্গাবালীর ২০ হাজারের বেশি জেলে কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। তবে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে উপজেলার প্রায় সাড়ে সাত হাজার জেলে এবার কোনো সরকারি খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন না। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম জীবিকা ও খাদ্য অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন তারা।
ভুক্তভোগী জেলেরা জানিয়েছেন, সদ্য সমাপ্ত ইলিশের পুরো মৌসুমজুড়েই তাদের প্রাপ্তির খাতা ছিল প্রায় শূন্য। একদিকে সাগরের ক্রমাগত বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল তরঙ্গ, অন্যদিকে মৌসুমের শেষ মুহূর্তে এসে নতুন করে যুক্ত হওয়া জলদস্যু আতঙ্ক—সব মিলিয়ে বিপুল লোকসানের বোঝা নিয়েই উপকূলে ফিরতে হয়েছে তাদের। মৌসুমের সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ২২ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা জেলে পরিবারগুলোর ওপর নতুন দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।
উপজেলা মৎস্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গাবালীতে সরকারিভাবে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৬ হাজার ৮০৯ জন। তবে অনিবন্ধিত জেলেসহ উপজেলায় প্রকৃত জেলে সংখ্যা ২০ হাজারেরও বেশি। আসন্ন নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকারি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় কেবল ১২ হাজার ৫০০ জন নিবন্ধিত জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। ফলে তালিকার বাইরে থাকা নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার প্রান্তিক জেলে সরকারি সাহায্য বলয়ের বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সাগর ও নদীর সংযোগস্থলে মাছ ধরা বন্ধ রাখা অত্যন্ত জরুরি ও বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপ। তবে এই কর্মসূচি টেকসই ও সফল করতে হলে কর্মহীন হয়ে পড়া সব জেলের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করা আবশ্যক। খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হলে জেলেদের মধ্যে অসাধু উপায়ে মাছ ধরার প্রবণতা বাড়ে। একইসঙ্গে মা ইলিশ সুরক্ষার পাশাপাশি ইলিশের রেণু পোনা ও জাটকা নিধন বন্ধে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন